চন্দনাইশে এসেছে উড়ন্ত মেহমান
চন্দনাইশে এসেছে উড়ন্ত মেহমান
গ্রামজুড়ে গাছে গাছে, ক্ষেতে আর জলাশয়ে চিরচেনা ঘুঘু, বক, দোয়েল, শালিক ছাড়াও পানকৌড়ি, শামুকখোল আর হাঁসজাতীয় অতিথি পাখির ঝাঁক। দিনভর আকাশে এই পাখির ওড়াউড়ি। সন্ধ্যায় দেখা যায়, বড় বড় গাছে রাতে আশ্রয় নিচ্ছে অনেক পাখি। সকালে সেসব পাখির কলকাকলিতে মুখর হচ্ছে চারপাশ।
বাঁশবাগানে বক পাখির আবাসস্থল। বাঁশঝাড়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস পাখিগুলো বসবাস করে। খড়কুটা ডালপালা দিয়ে বাঁশবাগানে বাসা তৈরি করে। ডিম দেয়, বাচ্চা উড়তে শেখা পর্যন্ত বাঁশঝাড়ে বসবাস করে। এরপর গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি লক্ষ করছেন দিন দিন পাখিদের গ্রামে আসা কমতে শুরু করেছে।

গ্রামের বাসিন্দা মিতু গাছবাড়িয়া কলেজ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। তিনি সময়ের কাগজকে বলেন, তাঁর জ্যাঠার নাম ছিল বিমল বসাক। তাঁর সামনে কেউ যদি পাখি শিকারে আসতেন, তাদের লাঠি দিয়ে ধাওয়া করতেন। আর বলতেন, ‘তোরা পাখি লিবার আচ্ছু। ওরা আমার বন্ধু। তোদের এক্কেরে থানায় দিয়া দিমু।
হাজারো পাখির এই নিশ্চিন্ত বসবাস চন্দনাইশের ঈশ্বর দীঘিতে। গ্রামের মানুষ একে পাখির অভয়াশ্রম বলে। শীতের শুরু থেকেই অতিথি পাখিসহ নানা ধরনের পাখি আসতে শুরু করে এখানে। গ্রামে সারা বছর থাকা পাখি তো আছেই। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈশ্বর দীঘি ছিল ‘কানাপুকুর’ নামে অনেক পুরনো এক জলাশয়। এর পারে প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে প্রতিবছর অতিথি পাখি আসতে থাকে। গ্রামবাসী কোনো উপদ্রব না করায় ধীরে ধীরে একসময় পাখিরা এলাকাটিকে নিরাপদ আবাস হিসেবে বেছে নেয়। গত ১০ বছরে গ্রামে আসা পাখির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে বছর সাতেক আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে গ্রামের বাসিন্দা পরাগ সিকদার এত অতিথি পাখি দেখে মুগ্ধ হন। জীবিকার তাগিদে বাহির দেশে পড়ে থাকার কারণেই দেশের শ্যামল গ্রামের পাখির ঝাঁক আরো মন কেড়ে নেয় তাঁর। এই ঘেরজুড়েই গড়ে উঠেছে অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়। ঘেরের পারে লাগানো আর সারা গ্রামে থাকা শত শত গাছে বাস করে পাখিরা।
গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি-মোটামুটি এই পাঁচ মাস অতিথি পাখির বসবাস থাকে। গ্রামের আশপাশের মানুষও পাখির প্রতি তাদের অনুরাগের প্রশংসা করে। পাশের গ্রামের প্রবীণ রহিমা বেগম সময়ের কাগজের প্রতিবেদককে বলেন, গ্রামে সন্ধ্যা হলেই শত শত পাখির কিচিরমিচির শোনা যায়। এলাকার সবাই তাদের দেখে রাখে। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।
২৪ঘন্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন