খুঁজুন
, ,

চবি চারুকলা বন্ধ করল প্রশাসন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 February, 2023, 8:11 pm
চবি চারুকলা বন্ধ করল প্রশাসন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ

সংকট নিরসনে এক মাসের জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউট বন্ধের ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ৩টার দিকে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় জরুরি এই সিদ্ধান্ত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চারুকলায় বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা হয়েছে। সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক মাস চারুকলা ইনস্টিটিউট বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদেরও রাত ১০টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে। এই এক মাস শিক্ষার্থীদের পাঠদান অনলাইনে চলবে। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে চারুকলার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। সংস্কার কাজ তদারকি করার জন্য শিগগিরই একটা কমিটি গঠন করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ৯৩ দিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আরেকটা অংশ ক্লাসে ফেরার দাবিতে পাল্টা অবস্থান নেয়। এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাস বর্জন শুরু করেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন দাবি মানতে ইতিবাচক সাড়া দিলেও পরে ২২ দফা দাবি রূপ নেয় মূল ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিতে।

চারুকলা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল ক্যাম্পাস ছাড়া তাঁদের এই ২২ দফা দাবির সবগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। এর বাইরে ১১ বছর ধরে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কিংবা অগ্রগতি তাঁরা দেখেননি। তাই মূল ক্যাম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁরা আর থাকতে চান না। এক দাবিতেই গত ৮২ দিন ধরে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যান। সর্বশেষ আন্দোলনের বিষয়ে ২১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী। পরদিন দ্বিতীয় দফায় জেলা প্রশাসক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে তাঁরা আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে খোলা মাঠে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারীতে অবস্থিত। ২০১০ সালে চবি চারুকলা বিভাগ ও চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজকে একীভূত করার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাদশাহ মিয়া চৌধুরী সড়কে বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

Feb2
Feb2

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:13 pm
নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ, পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম এই প্রতিপাদ্যে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তুুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সভায় সিটি মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তার এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে সরকারি দপ্তর, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলসহ সর্বত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে জনসচেতনতা প্রয়োজন।

এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই বাসার ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র বা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। আমরা যদি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই এখনই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগর ও গ্রামে পরিণত করা সম্ভব।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে চাইলে পরিবর্তনটা আগে নিজের ভেতর থেকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি প্রতি শনিবার অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নিজেদের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখি, তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শিশুদের ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়র জানান, নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। বাকি প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে সিভিক সেন্স বা নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহন পর্যন্ত যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে হালিশহর ও আরেফিন নগর ল্যান্ডফিলকে পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।