আমিরাতে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে রাউজানের রেমিটেন্সযোদ্ধা নয়ন
৫দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে না ফেরার দেশে রাউজানের রেমিটেন্সযোদ্ধা নয়ন
৩ বোন এক ভাইয়ের পরিবারে একমাত্র ছেলে সন্তান হিসেবে সবার আদরের মধ্যমনি ছিল আইনুল ইসলাম নয়ন (২৩)। মা-বাবা আর প্রতিবেশীদের আদর, আহ্লাদে বেড়ে উঠা এই তরুণ মাত্র ২২ বছর বয়সে পরিবারের ভাগ্য বদলের জন্য নিজেকে সপে দিয়েছিলেন জীবন নামক যুদ্ধে। মায়া-মমতার বন্ধন ছেড়ে বিগত এক বছর পূর্বে ভিসা নিয়ে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানেই শারজাহ প্রদেশে একটি টাইসের দোখানে কাজ করতো সে। বেতন যা পেত তাতে সংসারে কিছুটা হলেও আর্থিক দৈন্যতা ঘুচিয়ে ভরণপোষণ ঠিকঠাক চলতো। কিন্তু নিয়তির কি অমোঘ বিধান! মাত্র এক বছরের মাথায় প্রবাস জীবনের ইতি টেনে বাবা-মার কাছে ফিরে আসছে তাদের বুকের মানিকধন। তবে চিরচেনা ছুটির সেই আনন্দঘন পরিবেশে নয়, কফিনে বন্দি হয়ে। পরিবারের একমাত্র ছেলের ফিরে আসার দৃশ্যটা কেবলই ব্যাথাতুর আর হৃদয়বিদারক।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি কর্মরত অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে টাইলস নামানোর সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাচাইয়ার দোখান সংলগ্ন ইসমাইল দফাদারের বাড়ির আব্দুছ ছমদের একমাত্র পুত্র নয়ন। এ সময় টাইলসের আঘাতে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শারজাহর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) বিকাল ৩টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নয়ন।
তার দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর থেকে পরিবারে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘিরে ধরে। তবুও সবার প্রার্থনায় ছিল, একমাত্র পুত্র সন্তানটি অন্তত জীবন্ত অবস্থায় পরিবারে যেন ফিরে আসে। মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর যেন বুকফাটা আর্তনাদে পুরো বাড়ির পরিবেশটাই যেন বদলে গেছে। মা-বাবা, তিন বোন আর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তার এমন অকাল মৃত্যুশোকে যেন পুরো এলাকা ডেকে গেছে শোকের ছাদরে।
প্রবাসে দুর্ঘটনায় রাউজান প্রবাসী আইনুল ইসলাম নয়নের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউজান পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানে আলম জনি।
স্থানীয়রা জানান, দেশটির কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে খুব শীঘ্রই নয়নের লাশ দেশে পাঠানো হবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন