খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের আস্থা অর্জনে জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা অর্জনে জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জনগণের আস্থা অর্জনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

তিনি আজ সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ‘রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অডিটোরিয়ামে’ জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল কাজ জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং এজন্য জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলেই হবে না, জনগণ যেন উন্নয়নের সুফল পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংসদ সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন ও রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ তিন দিনের সফরে আজ বিকেলে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন পৌঁছান।

তিনি আগামীকাল ইটনা উপজেলার একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং শুক্রবার মিঠামইন ক্যান্টনমেন্ট ও আরো কয়েকটি উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিদর্শন করবেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

Feb2

কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

২০০৮ সালে বাছাইপর্বের হোম-অ্যাওয়ে দুটি ম্যাচেই হেরে ইউরোর টিকিট বঞ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালে তো আরও বড় হৃদয়ভঙ্গের গল্প লেখা হলো—বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিল তারা। সেই দুটি হারের শোধ এবার তুলে নিলো থ্রি লায়নরা। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারাল তারা। ১৯৬৬ সালের পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ৪-২ ব্যবধানে জিতল ইংলিশরা।

ক্রোয়েশিয়া ডালাস স্টেডিয়ামে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল। ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে দুইবার এগিয়েছে, দুইবারই গোল শোধ দিয়েছে ক্রোটরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংলিশরা এবং সেই লিড ধরে রেখে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে লুকা মদ্রিচ নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পায়।

তবে কেইন শট নেওয়ার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। তাকে হতাশ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা একই সঙ্গে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়।

যদিও রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন ভিএআর পরীক্ষার জন্য খেলা পুনরায় শুরু করতে একটু সময় নেন। যেখানে দেখা যায়, কেইন শট নেওয়ার আগেই লিভাকোভিচ তার গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণে ইংলিশ তারকা ১২ গজ দূর থেকে পেনাল্টি নেওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয়বার কেইন আর কোনো ভুল করেননি। তিনি আগেরবারের মতো একই দিকে শট নিয়েছিলেন। বলটি নিখুঁতভাবে জালের নিচের ডান কোণায় জড়ায়।

ক্রোয়েশিয়া পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি। ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

ছয় মিনিট পর কর্নার থেকে ডেকলান রাইসের অ্যাসিস্টে কেইনের হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১তম গোল করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে দশম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা গ্যারি লিনেকারের পাশে বসেন।

যোগ করা পাঁচ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে পিটার মুসা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ইভান পেরিসিচের হেড পাসে ডান পায়ের শটে স্কোর ২-২ করেন তিনি।

হাফটাইমের পর শুরুতেই গোল, এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে অ্যান্ডারসনের বাড়ানো একটি বল বেলিংহাম নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ফাঁকা জায়গায় গতি বাড়িয়ে গোলপোস্টের দিকে এগিয়ে যান। এরপর কোনাকুনি এক শটে বলটিকে গোলপোস্টের কোণ ঘেঁষে দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন।

এগিয়ে যাওয়ার ঠিক পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন বেলিংহাম ও ও’রেইলি। প্রথমে বেলিংহামের শট রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। এরপর রাইসের নেওয়া কর্নার থেকে ও’রেইলি হেড করলেও বলটি দূরের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর ইংল্যান্ড তাদের আক্রমণ ধরে রাখে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রাইসের একটি বাঁকানো শট লিভাকোভিচ তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন। এরপর ইংল্যান্ড পরপর কয়েকটি কর্নার পেলেও গোল করতে পারেনি।

ডান দিক থেকে রাইসের ক্রসে ও’রেইলির হেড লিভাকোভিচ কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গর্ডন হেড করলেও ক্রোট গোলকিপার দ্রুত উঠে এসে সেটিও রুখে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা বলটি ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হন।

পরে বাম প্রান্ত থেকে কেইনের নেওয়া একটি কোনাকুনি শট লিভাকোভিচ দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন। এরপর ইংলিশ ফরোয়ার্ডের নেওয়া ফিরতি বাউন্সিং শটটিও তিনি কোনোমতে ফিরিয়ে দেন এবং স্তানিসিচ এসে কেইনের নিশ্চিত ট্যাপ-ইন গোল করা রুখে দেন। ততক্ষণে ইংল্যান্ড গোলপোস্টে ১৮টি শট নিয়ে ফেলেছে।

লিভাকোভিচের বীরত্বে গোল করতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড এক গোলের ব্যবধান আরও বড় করতে মরিয়া। তিনি না থাকলে ততক্ষণে আরও গোল পেত থ্রি লায়নরা। আর এক গোলের লিড তাদেরকে চাপে রেখেছিল। এমন সময় পাশালিচ ডান দিক থেকে কাট-ইন করে একটি শক্তিশালী বাম পায়ের শট নিলে পিকফোর্ড দারুণভাবে ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।

স্পেনস মাঝমাঠ দিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে একটি শট নিলেও বলটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে আসে এবং ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য ক্রোয়েশিয়ানরা একের পর এক আক্রমণ করতে থাকায় ইংল্যান্ডের শিবিরেও চাপ বাড়ছিল। কোভাসিচ দূর থেকে একটি নিচু শট নিয়ে পিকফোর্ডকে পরীক্ষা করলেও ইংলিশ কিপার ডান দিকে নিচু হয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন।

অবশেষে ইংল্যান্ড আবারও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পায়। ডান দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে সাকা বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং বক্সের বাম পাশে ফাঁকায় থাকা র‍্যাশফোর্ডকে পাস দেন। র‍্যাশফোর্ড অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কিছুটা জায়গা তৈরি করে লিভাকোভিচের বাম দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। তাতে ইংল্যান্ড দুই গোলের লিড পায়।

শেষদিকে ক্রোয়েশিয়া উইং দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে একটি কর্নার আদায় করলেও দূরের পোস্টে জিভার্দিওলের শটটি কেইন চমৎকারভাবে ব্লক করেন। পিকফোর্ড একটি বাউন্সিং বল লুফে যখন নিলেন, ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচ জয় নিশ্চিত হতে তখন আর মাত্র দুই মিনিট বাকি ছিল।

প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপের শুরুটা হলো হতাশায় ঘেরা। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর ফিরে তার দল পর্তুগালকে রুখে দিলো। ম্যাচের শুরুতে লিড নেয় পর্তুগিজরা। কিন্তু হাফটাইমের আগে শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতা ফেরায় কঙ্গো।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন স্টেডিয়ামে ‘কে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই বড় চমকের দেখা মিলল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৬ নম্বরে থাকা কঙ্গো বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট পেল তাদের চেয়ে ৪১ ধাপ এগিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে। এমনকি বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে আফ্রিকান দেশটি।

বিশ্বকাপের আগে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে দেশে ইবোলা মহামারির কারণে তাদের প্রস্তুতিতে বাধা পড়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন হলো।

তারা ম্যাচের শুরুর দিকের কঠিন সময়টি কাটিয়ে ওঠে। খেলা যত গড়িয়েছে, তাদের আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। হাফটাইমের আগমুহূর্তে সমতাসূচক গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা ম্যাচটি জিতেও যেতে পারত।

১৯৭৪ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা দেশটি ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের রুখে দিলো। নিশ্চিতভাবে এই ফল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো।

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় পর্তুগাল। বার্সা ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর বিপজ্জনক ক্রসে বল ভেসে যায় পেনাল্টি এরিয়ায়। পেদ্রো নেতো সেখান থেকে হেড ক্রস করেন। পর্তুগালের এই স্কোয়াডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় জোয়াও নেভেস লাফিয়ে হেড করলেন। ম্যাচ ঘড়িতে তখন সময় ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড, চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলে এগিয়ে গেল পর্তুগাল।

কিন্তু প্রথমার্ধের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। কঙ্গো তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গোল করে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতা ফিরিয়ে আনে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে।

ঠিক প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার মুহূর্তে ডিবক্সের মধ্যে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা উইসা হেড করে জাল কাঁপালেন। মাসুয়াকুর একটি ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কঙ্গোর সমর্থকদের স্বপ্নের রাজ্যে ভাসান তিনি।

কঙ্গোর জন্য এই গোলটি প্রাপ্য ছিল। ম্যাচের কঠিন শুরুর পর ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল তারা। পর্তুগাল অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলেছিল। তবে রবার্তো মার্তিনেসের দল সেই লিড আর বাড়িয়ে নিতে পারেনি। বাকি সময়ে কঙ্গোর গোলপোস্টে এমপাসিওকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

প্রথমার্ধের সময় যত গড়িয়েছে, এই আফ্রিকান দলটির আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। কঙ্গো ১১তম মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায়। উইসা জায়গা বের করে লক্ষ্যে শট নেন। অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেষে বেরিয়ে যায় বল। দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ। বাকাম্বুর বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া শট আরাউজো ব্লক করে ফেরান।

এই দুটি আক্রমণেই যেন কঙ্গো চমক দেখানোর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। হাফটাইম শেষ করে গোল দিয়ে। বিরতির পর কানসেলো ওভারহেড কিকে কঙ্গোর জালে বল ঠেলেছিলেন, কিন্তু মাঠেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। তিন মিনিট পর বাকাম্বু পর্তুগালের পোস্টে আঘাত করেন। ওই শট লক্ষ্যভেদ করলেও গোল হতো না অফসাইডের কারণে।

দলের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো ম্যাচে ছিলেন একেবারে বিবর্ণ। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। প্রথমার্ধে মাত্র ১৭ বার বলে পা লাগাতে পেরেছেন তিনি, যা দলের অন্য যে কারও চেয়ে কম। পুরো ম্যাচ শেষে তার পাস ছিল ২১টি। শট নিয়েছেন তিনটি। এর মধ্যে ৬৮ ও ৭৪ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তার শট দুটি ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

তার সুযোগ নষ্টের পর বাকাম্বুর একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে কঙ্গোর লিড নেওয়া হয়নি। পুরো ম্যাচে ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও পর্তুগাল প্রথম গোলের পর প্রকৃতপক্ষে লক্ষ্যে আর কোনো শট রাখতে পারেনি। সব মিলিয়ে তারা শট নিয়েছে ৭টি, যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তাদের যৌথভাবে সবচেয়ে কম। ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরিস্থিতির শিকার পর্তুগিজরা। অন্যদিকে ড্র করেও জয়ের হাসিই যেন হাসছে কঙ্গো। আগামী বুধবার তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।

বিএনপির কিছু করা লাগবে না, জনগণ সতর্ক থাকলেই কাজ হয়ে যাবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপির কিছু করা লাগবে না, জনগণ সতর্ক থাকলেই কাজ হয়ে যাবে

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি বিএনপির পরিকল্পনা, জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায় তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির কিছু করা লাগবে না, জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারোর কোনো টেনশন থাকবে না।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ডের ৩য় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, জনগণকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা, শিক্ষার ব্যবস্থা করা, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা। কিন্তু বাংলাদেশ শুধু কোনো সরকার, দল বা পরিবারকে নিয়ে নয়, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হলে এই ২০ কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে যখনই দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে, তখনই বিভিন্ন সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৭৩ দিন হরতাল হয়েছে, অবরোধ হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের মানুষ কাজ চায়, শান্তি চায় এবং ভালোভাবে বাঁচতে চায়।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের চার কোটি পরিবারের নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড, প্রায় তিন কোটি কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পোশাক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী পৌঁছে দিতে চায়। একই সঙ্গে খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিরোধীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলে। কারণ এই সরকার জনগণের জন্য কাজ করছে, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে চায়।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। জনগণই আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, নির্বাচনের ফলাফলের পর তা শুধু বিএনপির প্রতিশ্রুতি নয়, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিংবা সরকারকে কাজ করার সময় না দেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা আজ নানা কথা বলছে, তাদের অনেককে গণতন্ত্রের আন্দোলনে দেখা যায়নি। কিন্তু যারা শহীদ হয়েছে, যারা গুম হয়েছে, যারা জেল-জুলুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে, তাদের বড় অংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, জনগণের অর্থ আর বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। দেশের অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, এই দেশ স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণই। আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গড়ার রাজনীতি। দেশ ও দেশের মানুষকে ঘিরেই আমাদের সকল কর্মপরিকল্পনা হবে। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উপজেলার নির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

একই সঙ্গে বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন রোগীর মধ্যে আর্থিক অনুদান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা প্রশিক্ষণ অনুদান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে এককালীন আর্থিক সহায়তা, নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের অনুদান এবং চা-শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসনের বরাদ্দপত্র ও অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে বিকেল ৪টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আরও ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অনুদানের চেকও বিতরণ করেন।