রাত জেগে ইউনিয়ন পাহারা দেন তারা
রাত জেগে ইউনিয়ন পাহারা দেন তারা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়ন রাত জেগে পাহারা দেন চেয়ারম্যান, ইউপি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। “আপনি ঘুমান আপনার বাড়ি পাহারার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের” এই শ্লোগানে বারশত ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ অভিনব এই প্রথা চালু করেন।
হাতে লাঠি ও টসলাইট কিছুক্ষণ পর পর বাঁশি বাজিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে “সাবধান-সাবধান”। অপরিচিত কাওকে দেখলেই দৌঁড়ে গিয়ে আটকায়, জেনে নেয় তার পরিচয় ও বিস্তারিত, সন্ধেহ হলে সোজা থানায়। এই ভাবে সারা রাত ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে পাহারা দেন তারা। এই অভিনব প্রথা চালু করে এলাকায় প্রশংসিত হয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত শনিবার রাত ১ টায় ইউনিয়নের পারকি বাজার, দুধকুমড়া, গোবাদিয়া, বোয়ালিয়ার মোড় ও বারশত কালীবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি স্থানে টসলাইট, বাঁশি, লাঠি হাতে ঘুরাফেরা করছে চৌকিদার-দফাদাররা, কোন কোন এলাকায় ইউপি সদস্যরাও রয়েছে। আর চেয়ারম্যান বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে তদারকি করছে।
জানা যায়, শুষ্ক মৌসুম আসলেই গ্রামে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়ে যায়। এসময় গরু চুরি, মোটরসাইকেল, দোকান ও বাসা—বাড়ির মালামাল, অটোরিকশা, শ্যালো মেশিন, স্বর্ণালঙ্কার ইত্যাদি চুরি হয়। অধিকাংশ চোরই ধরা পড়ে না, আর অধিকাংশ চুরির কোন অভিযোগ থানায় করেনা ক্ষতিগ্রস্থরা। এতে করে চুরেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোনোভাবেই তাদের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। এসব অনাখাংকিত ঘটনা থেকে রেহাই পেতে ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে চৌকিদারদের মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করেন।
৫নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মোসলেম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। রাত এগারোটার পরে বাইরের কোনো মানুষ গ্রামে দেখলে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাস করি,সন্ধেহ হলে পুলিশকে খবর দিয়। এ জন্য পরিষদ থেকে আমাদের অতিরিক্ত ভাতাও দেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ বলেন, জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করছি মাত্র। আনোয়ারা হল ভূমি মন্ত্রীর এলাকা, এখানে কোন ধরনের অপকর্ম হতে দেওয়া যাবেনা। তাই “আপনি ঘুমান আপনার বাড়ি পাহারার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের’ এই শ্লোগানে নয়টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য,চৌকিদার ও দফাদারদের নিয়ে গ্রামে পাহারা বসিয়েছি।
আনোয়ারা থানার ওসি(তদন্ত) মো. আতাউল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ রাতে টহলে থাকে, তবে জনবল কম থাকায় চৌকিদাররা পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক ইমন বলেন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি চাকরি জীবীদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। বারশত ইউনিয়নের এ উদ্যোগ প্রশংসনিয়। এভাবে অন্যান্য ইউনিয়নেও উদ্যোগ নিলে মানুষ উপকৃত হবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন