খুঁজুন
, ,

সরকার স্মার্ট ক্রীড়াবিদ তৈরিতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 February, 2023, 12:28 am
সরকার স্মার্ট ক্রীড়াবিদ তৈরিতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তার সরকার যে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্মার্ট ক্রিড়াবিদ তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের পরবর্তী টার্গেট হল- দেশকে একটি স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা, যা স্মার্ট ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং এভাবে আমরা যে কোনো আন্তর্জাতিক খেলা-ধুলায় অংশ নেওয়ার মান অর্জন করতে পারব।’

তিনি আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এর চূড়ান্ত পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যুব গেমস ক্রীড়া অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং তারকা খেলোয়াড় তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে।’ তিনি বলেন, তার সরকার ক্রীড়া অঙ্গনে শ্রেষ্ঠত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, তরুরা যুব গেমসে অংশ নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলায় তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং এভাবে নবীন ও শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

ক্রীড়াবিদদের ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে বর্ণনা করে, প্রধানমন্ত্রী যুব গেমসে তাদের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, বিওএ সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং এর মহাসচি সৈয়দ শাহেদ রেজা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এর ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী পরে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এর জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

বিওএ ২০১৮ সাল থেকে প্রতি চার বছর পর পর, বাংলাদেশ গেমস এবং যুব গেমসের আয়োজন করে আসছে। গেমসের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় দলের জন্য ভবিষ্যত খেলোয়াড় নির্বাচন করা এবং তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রতিভাকে বিকশিত করা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের নামে আয়োজিত যুব গেমসের দ্বিতীয় আসরের চূড়ান্ত পর্বে ২৪টি ডিসিপ্লিনের ১৯৩টি ইভেন্টে প্রায় চার হাজার ক্রীড়াবিদ ১৯৩টি স্বর্ণ, ১৯৩টি রৌপ্য ও ২৮৭টি ব্রোঞ্জ পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে গত ২-১০ জানুয়ারি আন্তঃউপজেলা প্রথম পর্ব, ১৬-২২ জানুয়ারি আন্তঃজেলা দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে আটটি বিভাগ অংশ নিচ্ছে।

এদিকে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এর উদ্বোধনী দিনে পুরুষ ও নারী উভয় ফুটবল প্রতিযোগিতাই রাজধানীর দুটি পৃথক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ কামালের নামে শেখ হাসিনা ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩ এর নামকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনকে অভিনন্দন জানান।

শেখ কামাল বয়সে তার চেয়ে ছোট এবং তার শৈশবের খেলার সঙ্গী ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কামাল বেঁচে থাকলে হয়তো দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতো।

শেখ হাসিনা বলেন, তার পরিবার একটি ক্রীড়াপ্রেমী পরিবার ছিল কারণ তাঁর পরিবারের অনেক সদস্য খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমনকি তার দাদা ছিলেন একজন ফুটবলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ছোট ভাই শেখ কামাল একজন বহুমুখী প্রতিভাবান ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও বাস্কেটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শেখ কামালকে আধুনিক ফুটবলের প্রতিষ্ঠাতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি (শেখ কামাল) আবাহনী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামাল ভালো খেলতো। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তিনি উৎকর্ষ অর্জন করেছিলেন। তিনি কয়েকটি নাটকে অভিনয়ও করেন। তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে শেখ কামালের দক্ষতা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার যুবসমাজকে খেলাধুলায় যত বেশি সম্পৃক্ত করতে পারবে, ভবিষ্যতে তত বেশি লাভবান হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও বুদ্ধি বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মন তৈরি হবে যা তাদের খেলাধুলায় আরও অবদান রাখতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কারণেই তার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে খেলাধুলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে এবং তারা প্রতিভা খুঁজে বের করতে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করেছে।

তিনি বলেন, তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণেই দেশের খেলাধুলা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক উন্নতি লাভ করেছে।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:42 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।