ময়লা আর্বজনার দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ
ময়লা আর্বজনার দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ
রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলা বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী বাঙ্গালহালিয়া বাজার চৌধুরী মার্কেটের রাইসমিলের চারপাশে একাধিক স্থানে পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংয়ের মলমূত্র আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে স্থানীয় দোকানদার ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায় বাজার চৌধুরীর নির্মিত দোকান ঘরে জমে রয়েছে নানা ধরণের আর্বজনা এমনকি মানুষের ব্যবহারে মলমূত্র। দীর্ঘদিন পরিষ্কার বা অপসারণ না করার ফলে এসব বর্জ্য ও ময়লা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ ও ক্ষতিকর মশা মাছি। অন্য দিকে বাঙ্গালহালিয়া কাঁচা বাজারের পাশ ঘেঁষে পুরাতন একটি পানি নিষ্কাশনের নালাটি দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিহীন নির্মাণ হচ্ছে ভবন ও মার্কেট। এতে করে প্রতি বছরের বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এখন থেকে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বাজারের অনেক।
বাজার আশা ক্রেতা মো. মাসুদ বলেন, বাঙ্গালহালিয়া বাজার টি মধ্যেস্তলে হওয়ায় প্রতিদিন শত শত ক্রেতা বিক্রেতার সমগম ঘঠে। কিন্তু দিন দিন বাজারের বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান। বিশেষ করে বাজারে ব্যবসায়ী ও বাজারের মাঝ খানে মার্কেটের সকল ভারাটিয়া পরিবার গুলোর দৈনিক ব্যবহারিত পানি গুলো একটি মাত্র সরকারি নালায় ভরসা। বাজারে বেক্তি মালিকানা জায়গায় নিজ নিজ মার্কেট ও ভবন নির্মাণ করে রেখেছে। এতে করে বাসা ভাড়ার ব্যবহারিক পানি গুলো বিভিন্ন যায়গায় জমে থাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া বাজার চৌধুরী থোয়াইসুইখই মারমা বলেন, আমার নির্মিত দোকানঘরে পার্শ্ববর্তী আবু ছৈয়দ তালুকদার, আবুল কালাম তালুকদার এর বাসাবাড়ি থেকে ময়লা ও টয়লেটের নোংরা পানি ফেলা হয় প্রতিনিয়ত। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে বাঙ্গালহালিয়া বাজার কমিটির নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর, বাজার কমিটি কোন পদক্ষেপ না নেওয়াতে তিনি ক্ষোপ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কামনা করেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পুলক চৌধুরী বলেন, বাজার মাঝ খানে এভাবে একটি ভবনে বসবাসরত ভারাটিদের ব্যবহারিত নোংরা পানি ও এমনকি মানুষের ব্যবহারে মলমূত্রগুলো যদি ভবনের ফাইবের মাধ্যমে অন্যের জায়গায় ফেলানো হয় সে ক্ষেত্রে বাজারে পরিস্থিতি দিন দিন নোংরা হয়ে উঠবে। বিষয়টি নিয়ে বাজার পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে বৈঠক ও হয়েছিল। সেখানে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান।
পার্শ্ববর্তী স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ময়লা আর্বজনার কারণে অতিরিক্ত দুর্গন্ধে আশেপাশে বসাও দুস্কর হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতে দোকানের শ্রমিক, পথচারী ও বাজারে আসা ক্রেতা—বিক্রেতাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ফলে ময়লা, আবর্জনা ও নোংরা পানি নিষ্কাশন করা জরুরি। অন্যথায় সৃষ্ট দুর্গন্ধে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে সাবেক বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সৈয়দ তালুকদার বলেন, আমারা জায়গা ক্রয় করে ঘর ও মার্কেট নির্মাণ করেছি অনেক দিন আগে। তখনকার সময়ে বর্তমান বাজার চৌধুরী থোয়াইসুইখই মারমা আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পাশে তার একটা জায়গায় রয়েছে সেটিতে রাইসমিল ছিলো। তবে পিছনে পানি নিষ্কাশনের নালাটি পাশে বর্তমানে নতুন করে যে ভবন টি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি ছিলোনা। আমাদের সীমানা ও বাজার চৌধুরীর সীমানার মাঝ খানে একটু পানি চলাচলের রাস্তা ছিলো। পূর্বদিকে নালাটির মুখ বন্ধ করে ফেলাতে এখন এমন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন