খুঁজুন
, ,

আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত চাই না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 March, 2023, 12:16 am
আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল প্রকার বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমতা ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত চাই না, নর-নারী-শিশু হত্যা আমাদের তীব্রভাবে ব্যথিত করে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। টেকসই শান্তি বিরাজমান থাকলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শান্তির নীতি অনুসরণ করি।’ তিনি সকল প্রকার বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমতা ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আজ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান। আজ ‘গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে বিশ্বের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি স্মরণ করেন একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাতে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদদের, যাদের তাজা রক্তের শপথ বীর বাঙালিদের অস্ত্রধারণ করে স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছর ধরে শৃঙ্খলিত বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার প্রয়াসে সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ প্রথম গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন। সেই থেকে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪-এর একুশ দফা, ‘৬২-এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬-এর ছয় দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে অত্যন্ত দূরদর্শীতার সঙ্গে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

তিনি ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় এদেশটির নাম হবে পূর্ব-পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধু মাত্র বাংলাদেশ।’ তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছিলেন এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য পুরো জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ‘৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু, পাক- সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময় ক্ষেপণ করে তারা নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২ মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন; ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশ সারা পূর্ব-বাংলায় অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সকল প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তাঁর আদিষ্ট পথেই পরিচালিত হতে থাকে। বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার শাসন সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। ইয়াহিয়া-ভুট্টো বারবার সমঝোতার প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে অটল থাকেন। ২৩শে মার্চ পাকিস্তান দিবসে সারা দেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক নিয়ে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিচালনা করে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, বাঙালি পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করতে থাকে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। এর অব্যবহিত পূর্বেই জাতির পিতা স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা বার্তা লিখে যান- “ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন-চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। যা প্রথমে ইপিআর এর ওয়্যারলেস এর মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানিরা বন্দি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়; এমনকি তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৩ জুন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস যুক্তরাজ্যের একটি পত্রিকার প্রথম পাতায় বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের নির্মম বর্বরতার বাস্তব চিত্র নির্ভর একটি বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করলে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ত্বরান্বিত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়, ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারায় এবং গোটা দেশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর আমরা জাতিসংঘের গণহত্যা বিরোধী কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করি। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শান্তির সংস্কৃতির ওপর রেজুল্যুশন গ্রহণের প্রস্তাব করি, যা ১৯৯৯ সালে গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তির সংস্কৃতির বর্ষ এবং ২০০১-২০১০ সময়কে ‘শান্তির সংস্কৃতি এবং অহিংস দশক’ ঘোষণা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সাল থেকে সবকটি নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে গত ১৪ বছরের বেশি সময় একটানা তাঁদের ভাগ্যোন্ননের জন্য কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতা বিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি, ফলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছি। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গণহত্যা এড়াতে ভীত-সন্ত্রস্ত ১১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে “স্মার্ট বাংলাদেশ”। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি: ভবিষ্যত প্রজন্ম এই পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী করে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

Feb2

কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 10:55 am
কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে ‘কে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।

মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:31 am
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ২০১৮ সালের পর প্রথম ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পানামা বেশ কয়েকবার ক্রোটদের চ্যালেঞ্জ জানায়। শেষ পর্যন্ত বদলি নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া। আর টানা দুটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিলো পানামা। ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া লুকা মদ্রিচের ছিল এটি দুইশতম ম্যাচ। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দিনের আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ঘানার বিপক্ষে শনিবার খেলবে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি জিতলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করবে তারা। পানামাকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া আপাতত গ্রুপ ‘এল’-এর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে দারুণ লড়াই করা পানামা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচে পানামা আটটি শট তৈরি করেছিল যার মধ্যে একটি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া দুটি অন-টার্গেট শটসহ মোট ছয়টি শট নিয়েছিল।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির নয় মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে লিড নেয়। স্তানিসিৎসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটি ব্যাক পোস্টে আলতো টোকা দিয়ে জালে জড়ান বুদিমির। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল। পাসালিচের ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নেওয়া শটটি মস্কেরা রুখে দেন। অরল্যান্ডো সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফিরতি শটটি বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন।

পানামাও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ক্রোট কিপার লিভাকোভিচ অত্যন্ত সতর্ক থেকে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। পরপর মুরিলোর আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি হার্ভির কাছ থেকে নেওয়া ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার হার্ভি, কিন্তু কর্নার থেকে আসা বলে তার নেওয়া শটটি জালের বাইরের পাশে আঘাত করে।

শুরু থেকে আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিশিচের ক্রসে মদ্রিচ হেড নিলেও বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। অষ্টম মিনিটে কার্লোস হার্ভের দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে পানামা। তবে ইয়োয়েল বার্সেনাসের ক্রস নিরাপদে ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধে লিভাকোভিচ না ঠেকালে লিড নিতো পানামাই। ২২ মিনিটে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে গিয়ে শট নেন মুরিলো। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে পানামার সামনে। ডান দিক থেকে মুরিলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। তবে লিভাকোভিচ দুর্দান্ত সেভ করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। সেই সুযোগ থেকে এগিয়ে যেতে না পারা পানামা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেও জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ে ফিরে নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।