রাউজানের ফসলি জমিতে সূর্যমুখীর হাসি
রাউজানের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে সূর্যমুখীর হাসি
চট্টগ্রামের রাউজানে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে শোভা পাচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের নয়নজুড়ানো দৃশ্য। গ্রামীণ জনপদের সবুজে সয়লাভ ফসলের মাঠে হলদে বর্ণেল এমন নজরকাড়া সৌন্দর্যে্য মুগ্ধ এলাকার মানুষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে অধিক লাভের আশায় বুক বাধছে কৃষকরা। সূর্যমুখী বাগানের সফলতায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রণোদনা, প্রদর্শনী ছাড়াও স্থানীয় কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ১৩ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। বাগানে ফুলের আকার প্রত্যাশিত হওয়ায় চলতি মৌসুমে রাউজানে ৪০ থেকে ৪২ মেট্রিক টন বীজ এবং ১৪ থেকে ১৫ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। গতবাবের চাইতে দ্বিগুন তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় ভোজ্য তেলের স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
অনাবাদি জমিতে আবাদের আওতায় নিয়ে আসাসহ সূর্যমুখী বাগানের প্রতি সৌন্দর্য পিপাসুদের ব্যাপক আগ্রহ দেখে কৃষকদের পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও এগিয়ে এসেছেন সূর্যমুখী চাষে। উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দীন আহমেদ, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন আরিফ, হলদিয়া ইউনিয়নে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক চৌধুরী সুমন, বাগোয়ানে কাপ্তাই সড়কের পাশে আ জ ম রাশেদ অনাবাদি কৃষি জমিতে সূর্যমুখী বাগান গড়েছেন।
পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরেই অন্যান্য ফসলের মতো সূর্যমুখীর বাগান করে আসছি। বাগান থেকে উৎপাদিত তেলে নিজেদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
উপজেলার ডাবুয়া, পশ্চিম গুজরা, পূর্বগুজরা, বাগোয়ান, হলদিয়া, কদলপুর, উরকিরচর, চিকদাইরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় বিরাজ করছে সূর্যমুখী ফুলের চোখজুড়ানো দৃশ্য। গ্রামীণ জনপদে এমন মোহনীয় সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন বাগানগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ । কেউ দলবেঁধে ছবি তুলছেন, কেউ ব্যস্ত সেলফিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, হাইচান-৩৩, আরডিএস২৭৫ জাতের সূর্যমুখী ফুলের বাগানে প্রত্যাশিত বীজ হয়েছে। প্রতি হেক্টর সূর্যমুখী বাগান থেকে ৩ থেকে চার মেট্রিক টন বীজ এবং আড়াই থেকে তিন কেজি বীজ থেকে এক কেজি তেল পাওয়া যায়।
তিনি জানান, গত বছর উপজেলায় ছয় হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছিল। তেল উৎপাদন হয়েছিল ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন।
কম উৎপাদন খরচে অধিক লাভ আর বাজারে ভোজ্য তেলের চড়া দাম থাকায় নিজেদের ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর রাউজানে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বর্ধন হচ্ছে অপরদিকে সূর্যমুখী চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন