চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নতুন কমিটি নিয়ে অন্তকোন্দল এখন তুঙ্গে
চট্টগ্রাম মহানগরীর মহিলাদলের নতুন কমিটি নিয়ে আন্তকোন্দল তুঙ্গে
চট্টগ্রাম মহানগর মহিলাদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে দলীয় অন্তকোন্দল এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ধারণা যে কোনো সময় ঘটতে পারে পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সংগঠনের ভাবমূতি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
গত ৩০ মার্চ ২৩ইং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলাদল এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই মহিলা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখাদেয়। কেন্দ্র থেকে মনোয়ারা বেগম মণি কে সভাপতি, জেলী চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও নাছিমা আলমকে অর্থসম্পাদক করে ১৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনের এক বছর বিশ দিন পর কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর যৌথস্বাক্ষর দিয়ে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এ কমিটি ঘোষণার সাথে মহিলা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করে মনোয়ারা বেগম ও জেলী চৌধুরীর কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে। জেসমিন খানম, দেওয়ান লিটা, নাছিমা আলম, রোকসানা বেগম মাধু সহ অনেকেই ঘোষিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছে বলে বিশ^স্ত সূত্র তা নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া প্রত্যাখ্যাত কমিটির মহিলা নেত্রীরা এ কমিটির পিছনে বিভাগীয় নেতা ও মহানগর নেতাদের প্রচ্ছন্ন হাত আছে বলে ত্যাগী নেতাদের ধারণা। ষড়যন্ত্র করে ত্যাগী ও প্রতিবাদী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়িত করা হয়েছে বলেও ধারণা করছেন ত্যাগী নেতারা।
মনোয়ারা বেগম মণি যিনি তৃতীয় বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর সাথে দৈনিক সময়ের কাগজের প্রতিনিধি যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘোষিত নবগঠিত কমিটি গঠনে তাঁর কোনো হাত নেই, যা করেছে কেন্দ্র থেকে করেছে।
সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরীর নিকট একাধিক বার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় তিনি ঘুমোচ্ছেন। ফলে উনার যাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদী নেতা-কর্মীদের একটাই বক্তব্য তারা মনি ও জেলী চৌধুরীর কমিটিকে মেনে নেবেন না। কারণ বিগত সময় সংগঠনকে শক্তিশালী না করে গ্রুপিং করে সংগঠনকে দুর্বল ও সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং সংগঠনকে ধ্বংস করে নেতা-কর্মীদেরকে তাদের আজ্ঞাবহ মনে করে।
নবগঠিত কমিটির কোষাধ্যক্ষ নাছিমা আলম বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে যখনই ডাক দিয়েছে তখনই দলের পাশে ছিলাম কিন্তু মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদীকা জেলী চৌধুরী তার উপযুক্ত পদটি ষড়যন্ত্র করে তাকে বঞ্চিত করেন।
এছাড়া ৩নং নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদীকা দেওয়ান মাহমুদা লিটা আক্ষেপ করে বলেন যে, তিনি মহিলা হয়েও বিএনপি’র কোনো আন্দোলন সংগ্রামে পিছিয়ে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে চারটি আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারা ভোগকরেন। তিনি মনে করেছিলেন তার সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে মূল্যায়ন করে তাঁকে যথাযথ স্থানে দেওয়া হবে কিন্তু তিনি কমিটি দেখে ও তার অবস্থান দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, একজন কর্মী হিসাবে বিএনপি’র যে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে সাথে থাকবেন।
ঘোষিত কমিটির মধ্যে অনেক অসংগতি রয়েছে বলে পরিলক্ষিত হয়, যেমন ঘোষিত কমিটির ২নং সহ-সভাপতি জেসমিন খানম বিগত কমিটির তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনিও এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন।
গত ৩ এপ্রিল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নবগঠিত মহিলাদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অপর দিকে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদিকা ফাতেমা বাদশা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমাদের সকলের নেতা কিন্তু দুঃখের বিষয় যাদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলের অভিযোগ তাদেরি একটি পক্ষের ফুলের তোড়া নিয়ে আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন