খুঁজুন
, ,

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের”ইয়ুথ’স ভয়েস”এর ১২তম ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 April, 2023, 12:08 am
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের”ইয়ুথ’স ভয়েস”এর ১২তম ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

আরজিসি কতৃক নিবন্ধিত ইয়ুথ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফাউন্ডেশনের ভলেন্টিয়ারি উইং ও জয় বাংলা ইয়ুথ এওয়ার্ড প্রাপ্ত জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ’স ভয়েস এর ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ১২তম সিগনেচার ইভেন্ট প্রজেক্ট,চনা পেয়াজু (পিসিপি) আয়োজন করেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়া গরীব অসহায় ও দুস্থ শিশুদের নিয়ে গড়া ৩টি দুস্থ অসহায় পথশিশু স্কুল ও একটি এতিমখানার মোট চার শতাধিক বাচ্চাদের নিয়ে ১৫ এপ্রিল শনিবার বিকেলে নগরীর ফয়েজ লেকস্থ খুলশী কনভেনশন হলে এক মহতি মুহূর্ত্বের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবারের মত এবারেও পিসিপি’র মূল উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র রমজান মাসে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী একটি দিন ও মুহূর্তের আয়োজন করার। সেই সুবাদে গোটা আয়োজনে বাচ্চাদের জন্য ছিল এন্টারটেইনমেন্ট জোন,যেখানে বাচ্চাদের জন্য ছিল নানান রকমের ইন্ডোরসের পাশাপাশি ভলেন্টিয়াররা বাচ্চাদের মেহেদী লাগিয়ে দেন।

ইয়ুথ’স ভয়েস,চট্টগ্রামে বাংলাদেশের একটি অলাভজনক সংস্থা,তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য নিবেদিত এ সংগঠনটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন,তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,তরুণদের সম্পৃক্ত করে সবার জন্য একটি উন্নত সমাজ গঠনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার জন্য ইয়ুথ’স ভয়েসের প্রশংসা করেন এবং স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠকদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন এডিসি আরাফাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর ও দি বাংলাদেশ টুডে এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান এস এম আকাশ।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়ে,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,যাদু প্রদর্শনী এবং সবশেষে বাচ্চাদের ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ইফতার খাবারের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও বাচ্চাদের অনেক গেম সহ ফ্রি মেডিকেল চেকআপের আয়োজন ছিল, ইয়ুথস ভয়েসের পক্ষ বিভিন্ন ইদ উপহার সম্বলিত গুডি ব্যাগ লাভ প্রদান করা হয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা,তাহমিদ কামাল চৌধুরী প্রজেক্ট চনা পিয়াজু সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন”ইয়ুথস ভয়েস তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চায় যারা এই ইভেন্টটি সম্ভব করতে অবদান রেখেছেন এবং আমরা যুবকদের ক্ষমতায়ন ও একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে একই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দে যেন কোনো শ্রেণীর মানুষের জন্য কমতি না থাকে আমরা তা নিশ্চিত করতে চেয়েছি।
ইয়ুথস ভয়েস একটি অলাভজনক সংস্থা যা যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য নিবেদিত। সংগঠনটি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে শিক্ষা,স্বাস্থ্য এবং সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। যুব কণ্ঠ যুবকদের সমাজে অবদান রাখার এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপস্থিত সবার মাঝে বাচ্চাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, ইয়ুথ’স ভয়েসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাকিবুল হাসান, ডিরেক্টর তাসনিমুল হাসান চৌধুরী চিশতী, শাহারিয়ার আহমেদ ও হামিদ শরীফ সহ প্রমূখ।

Feb2

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।

রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 8:47 am
রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইতিহাস গড়লেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেব ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করলেন এবং বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন। হিউস্টনে তার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো হাজারো পর্তুগাল ভক্ত-সমর্থকরা। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করার পর রোনালদোর হ্যাটট্রিকের প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। সিআরসেভেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পাননি। তবে বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নকআউটে ওঠার পথে বড় ধাপ ফেলল তারা।

শুরুতেই সহজ সুযোগ নষ্ট করে পর্তুগাল। ২ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের উদ্দেশ্যে বক্সে বাড়ানো বল ক্লিয়ার করে দেন উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার। এছাড়া বক্সে দারুণ এক টার্ন নেওয়ার পর পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নেওয়া তার একটি শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

পঞ্চম মিনিটে পর্তুগালের দুর্দান্ত একটি আক্রমণে সুযোগ পেয়ে যান রোনালদো। বাঁ দিক থেকে নুনো মেন্দেসের বাড়ানো চমৎকার ক্রস। দূরের পোস্টে ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু তিনি ঠিকমতো পা লাগাতে পারেননি বলে।

ষষ্ঠ মিনিটেই ঐতিহাসিক গোল পান রোনালদো। প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য কীর্তি গড়েন। উদ্বোধনী ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। তবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা এবার কাছের পোস্টে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে জায়গা তৈরি করে নেন। এরপর জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো নিচু ক্রসটিকে দারুণ শটে পোস্টের নিচের কোণ দিয়ে জালের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তারা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন।

১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। ফ্রি কিক থেকে নুনো মেন্দেস বাঁ পায়ের নিচু শটে স্কোর ২-০ করেন। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ফার্নান্দেসের পাস ধরে বল নিয়ে ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে বল জড়ান রোনালদো। পর্তুগাল তৃতীয়বার উজবেকিস্তানের জাল কাঁপায়। বিশ্বকাপে নিজের দশম গোল করে রোনালদো ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হন।

মাঝে উজবেকিস্তান পর্তুগালের জাল কাঁপায়। বক্সের বাইরে থেকে গাভিয়েনের অবিশ্বাস্য শটে ২-১ করেছিল তারা। কিন্তু গোল বিল্ডআপের সময় বক্সের প্রান্তে কানসেলো ফাউলের শিকার হলে ভিএআর যাচাই করে গোল বাতিল করেন রেফারি।

রোনালদোর জন্য প্রায় হ্যাটট্রিকের মতো একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। ইনজুরি টাইমে কানসেলোর বাড়ানো একটি নিচু ক্রসে বল পেয়ে তিনি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপ করেন। কিন্তু তার সেই শটটি একদম গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন খুশানোভ।

৪৮ মিনিটে বক্সের বেশ দূর থেকে জোয়াও ফেলিক্সের একটি জোরালো শট। কিন্তু তার ডান পায়ের সেই বুলেট গতির শটটি বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। তিন মিনিট পর বক্সের মধ্যে রোনালদোর আক্রমণ থামিয়ে দেন উজবেক কিপার। হ্যাটট্রিকের জন্য ক্ষুধার্ত সিআরসেভেন অবশ্য ওই শটে গোল পেলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হতো।

উজবেকিস্তান টানা দুটি আক্রমণে পর্তুগালকে ভয় ধরায়। ৫২ মিনিটে উজবেকিস্তানের সামনে গোলের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ে নেওয়া ফায়জুল্লায়েভের বাঁকানো শটটি সরাসরি ডিওগো কোস্তার গ্রিপে চলে যায় এবং তিনি নিচে ঝুঁকে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন।

দুই মিনিট পর শুকুশভের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। তার বাঁ পায়ের নিচু শটটি একজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে পোস্টের ডান দিক দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

এর পরের কর্নারটি রোনালদো দারুণ হেডে ক্লিয়ার করে দেন। নিজের বক্স ও প্রতিপক্ষের বক্স উভয় জায়গাতেই দারুণ অবদান রাখছেন তিনি।

৬০তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া কর্নার থেকে আসা বলে ফেলিক্স দারুণ এক ব্যাক-হিল করেন। কিন্তু বলটি ড্রপ খেয়ে ওপরে উঠে গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লাগে এবং দুর্ভাগ্যবশত গোলকিপার আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়িয়ে যায়।

রোনালদো দুই দুইবার হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। প্রথমবার বাঁ পায়ে নেওয়া তার একটি কাছের পোস্টে নেওয়া শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়। আর দ্বিতীয়বার বক্সে একটি ড্রপ খাওয়া বল দারুণভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেও তার হাফ-ভলি গোলরক্ষক নেমাতভ চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন।

৭৭ মিনিটে উজবেকিস্তানের হয়ে শোমুরোদভ গোলের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া তার হাফ-ভলি তীব্র গতিতে বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

মাঠে নামার পরের মিনিটেই রাফা লেয়াও প্রথম সুযোগে বাঁ দিক থেকে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তার বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা জোরালো হওয়ার কারণে একজন ডিফেন্ডার তা ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়ে যান। এর পরপরই ২০ গজ দূর থেকে ফার্নান্দেসের নেওয়া একটি জোরালো শট গোলরক্ষক নেমাতভ তার ডান দিকে নিচে ঝুঁকে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন।

ভিতিনহার বদলি নামার চার মিনিটি পর লেয়াও পর্তুগালের পঞ্চম গোল করেন। যদিও নেলসন সেমেদোর কাটব্যাক ছিল রোনালদোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তার কাছে বল পৌঁছায়নি। সামনেই বল পেয়ে লেয়াও জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন। ৮৭ মিনিটে পর্তুগালের স্কোর ৫-০।

কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা উজবেকিস্তানের নকআউটের আশা এখনও টিকে আছে। এজন্য তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে কলম্বিয়া-কঙ্গোর ম্যাচে। এই ম্যাচে কলম্বিয়ার জয় চায় তারা এবং শেষ গ্রুপ ম্যাচে কঙ্গোর বিপক্ষেও জিততে হবে এবারের আসরের নবাগত দলটিকে।

কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা পর্তুগাল দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে। তিন পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে কলম্বিয়া।

টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 23 June, 2026, 11:21 pm
টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে অভিষেক, খেলছেন এবারও। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিবারই গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আজ মাঠে নেমে জাল খুঁজে পেয়েই প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার মহাকাব্যিক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা।

টানা তো দূরের কথা, ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডই নেই আর কোনো ফুটবলারের। রোনালদোর পর টানা না হলেও পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি আছে কেবল তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির। আজ সিআরসেভেন ইতিহাস নতুন করে লিখলেন।

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনালদোর। সেবার মাত্র একটিই গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলটি আসে ইরানের বিপক্ষে। এরপর ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একটি করে গোল করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের আসর হিসেব করলে রোনালদোর জন্য স্মৃতিময় হয়ে আছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ। সেবারই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম এবং একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেন তিনি। সেই হ্যাটট্রিকটি এসেছিলো স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। আর সেবারের বিশ্বকাপে রোনালদো করেছিলেন মোট চারটি গোল। এদিকে কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর পা থেকে এসেছে মাত্র একটি গোল।

ফলে আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে রোনালদো এখন পর্যন্ত করেছেন মোট আটটি গোল। এবারের বিশ্বকাপে নবম গোল পেয়ে গেলেন তিনি।