২৪ ঘন্টা নিউজ
সোমবার ৬ জানুয়ারি ২০২০ www.24ghonta.news২৩ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরি

সোলাইমানির জানাযায় কোটি মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২০ । ১:৫০ দুপুর

যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত লেঃ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ সব শহীদের নামাজে জানাযা ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী শহীদদের জানাযার নামাজে ইমামতি করেন।

তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এ নামাজের সময় সর্বোচ্চ নেতার চোখে পানি দেখা যায়।

এর আগে আজকের নামাজে জানাযায় অংশ নিতে ভোররাত থেকে সারা তেহরান থেকে লাখ লাখ মানুষ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের জুমার নামাজের চত্বরে আসতে থাকেন। এ সময় জনতার হাতে শহীদ জেনারেল সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিসের ছবি শোভা পাচ্ছিল। তারা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরাইল নিপাত যাক’, ‘আমার ভাইকে যারা মেরেছে তাদেরকে হত্যা করব’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে অনেকে নিজেদের শিশুসন্তান নিয়ে নামাজে জানাযায় অংশ নেন। আজকের জানাযার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য কতো মানুষ সমবেত হয়েছেন তা হেলিকপ্টার থেকে ছবি গ্রহণ করেও ধারণা করা সম্ভব হচ্ছে না।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী তেহরান থেকে জানিয়েছেন, আজকের জানাযার নামাজে অংশগ্রহণকারী জনতার পরিমাণ হয়তো ইসলামি ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনী (রহ.)’র নামাজে জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে বেশি হবে। এখন থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৮৯ সালে ইমামের জানাযার নামাজে ৫০ লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন বলে ধারনা করা হয়।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জানাযা শেষে শহীদ সোলাইমানিসহ মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ বাকি যোদ্ধাদের লাশ তেহরানের ইনকিলাব চত্বর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে আযাদি স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে এই বীর কমান্ডারের মরদেহ ইরানের দক্ষিণে ধর্মীয় নগরী কোমে নেয়া হবে।

কোম নগরীতে নামাজে জানাযা শেষে জেনারেল সোলাইমানির লাশ আগামীকাল (মঙ্গলবার) তার জন্মস্থান কেরমান প্রদেশে নেয়া হবে এবং সেখানে শেষ জানাযার নামাজান্তে তার ইচ্ছে অনুযায়ী সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে গতরাতে শহীদ সোলাইমানির মরদেহ মাশহাদ থেকে তেহরানে এসে পৌঁছায়।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ও দখলদার মার্কিন সেনারা। ওই হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবি’র উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহানদিস’সহ মোট ১০ জন শহীদ হন।

এসব বীর শহীদের মরদেহ শনিবার ইরাকের কাজেমাইন, বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফ শহরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আলাদা আলাদা নামাজে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন লাখ লাখ ইরাকি নাগরিক। এরপর এসব শহীদের মরদেহ রোববার ভোররাতে ইরানে আনা হয়। প্রথমে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আহওয়াজ এবং এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে জানাযা শেষে তাদের লাশ গতরাতে তেহরানে পৌঁছায়।প্রতিটি শহরের জানাযার নামাজে লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক : নূর মোহাম্মদ রানা
ঠিকানা:৯২ মোমিন রোড, শাহ আনিস মার্কেট (৪র্থ তলা), চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
মোবাইল:০১৯৭৪৪৬৮১৭৬ / ০১৮১৭৭১৭১৩১
ইমেইল:[email protected]

প্রিন্ট করুন