কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটির সভাপতি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা, নির্দিষ্ট কার্যপরিধি এবং কমিটি গঠনের সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোগ
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, দলগত সংঘর্ষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এল। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনের কারণ চিহ্নিত করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
আগেও দেওয়া হয়েছিল নির্দেশনা
এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিগুলোর কার্যপরিধি বাড়িয়ে কিশোর গ্যাং, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন কমিটিগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যক্রম কীভাবে সমন্বিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
কার্যকর বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি গঠনের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা, কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে অপরাধে জড়িতএ কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশোধন, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। কারণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্য শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং কিশোরদের নিরাপদ ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।
সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সদস্য, দায়িত্ব বণ্টন, সভার নিয়মিততা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী নির্দেশনা প্রকাশ করা হলে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:০২ রাত