ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও সড়কে অবস্থান নিতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুই দফায় সড়কে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় গতকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার সোমবার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, শ্রমিকেরা দুই দফায় সড়কে নামার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হন পোশাকশ্রমিকেরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পরে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।
এরপর সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-৬ নম্বরের শিয়ালবাড়ী ও পূরবী এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আরও মামলা হবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেফতার ছিলেন। সোমবার দুপুরে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ঘটনাস্থলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস, উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে—এমন কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে যারা আইন অমান্য করে সড়ক অবরোধ করছে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিশেষ কোনো পরিচয় নেই। যারা আইন অমান্য করে জননিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
জেআই/

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:৩০ বিকাল