কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সেনাসদস্য তিতাস। অভিযানে মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। তিতাস টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
সেনাবাহিনী এক শোকবার্তায় নিহত তিতাস শেখের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৮ সকাল