২৪ ঘন্টা নিউজ
শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬ www.24ghonta.news২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ব্রাহ্মণপাড়ায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:৩৯ রাত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজন, সহযোদ্ধা ও স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে দাফনের আগে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অপেক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

মৃত্যুকালে আব্দুস সাত্তারের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের শেষ সময় ঢাকায় ছেলের সঙ্গে কাটাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঢাকায় মারা যাওয়ার পর প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ মহালক্ষ্মীপাড়ায় পৌঁছায়।

মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মানের মধ্য দিয়ে ভাইকে শেষবিদায় জানানোর প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু প্রশাসনের অবহেলায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর প্রাপ্য সম্মানটুকু না পাওয়ায় তারা ব্যথিত।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও প্রশাসনের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে অন্তত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। একজন সহযোদ্ধার বিদায় এমনভাবে হওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার বলেন, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার বিধান নেই।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ লাইন থেকে বিউগল বাজানোর দলও উপস্থিত হয়। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ এককভাবে গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে পুলিশের সদস্যরা জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মুন্নী ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার বিধান নেই। তা ছাড়া ঢাকা থেকে মরদেহ কখন পৌঁছাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। মাগরিবের নামাজের পর কেউ তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। ফলে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকাশক ও সম্পাদক : নূর মোহাম্মদ রানা
ঠিকানা:৯২ মোমিন রোড, শাহ আনিস মার্কেট (৪র্থ তলা), চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
মোবাইল:০১৯৭৪৪৬৮১৭৬ / ০১৮১৭৭১৭১৩১
ইমেইল:[email protected]

প্রিন্ট করুন