২৪ ঘন্টা নিউজ
বুধবার ৪ মার্চ ২০২০ www.24ghonta.news২১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ১০ রজব ১৪৪১ হিজরি

ঠাকুরগাঁওয়ে যেভাবে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০ । ২:০৯ দুপুর

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃ বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার কৃষি চাষাবাদ। বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত কমে যাচ্ছে ধানচাষ। এক সময় যেসব গ্রামে মাইলের পর মাইল ধানের জমি ছিল সেখানে এখন মাছ-মুরগি এবং বিভিন্ন ধরনের ফলের সমন্বিত চাষ চলছে।

এক সময় এ ঠাকুরগাঁও জেলা ধান পাট আর আখের  হিসেবে বিশেষ পরিচিতি থাকলেও এখন সে পরিচয় অনেকটাই বদলে গেছে। ধান পাট আর আখের জায়গা দখলে নিচ্ছে আম, লিচু, চা এবং বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসল। ক্ষুদ্র কৃষক আর প্রান্তিক চাষির হাত থেকে জমি চলে যাচ্ছে বড় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর হাতে। এমন অবস্থায় জেলার কৃষি বিভাগের কর্তারা বলছেন এটা অস্বাভাবিক কিছু না!

ঠাকুরগাঁও জেলায় সরকারি হিসেব মতে কৃষকের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫১০ জন। সব মিলিয়ে কৃষি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৪১ হেক্টর। জেলায় ইরি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয় ৭ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। এ তথ্যের বাইরে জেলায় কি পরিমাণ জমি গত পাঁচ বছরে ধান চাষ থেকে সরে গিয়ে ফলের বাগানে পরিণত হয়েছে সে তথ্য কারো কাছে নেই।

জেলার অনেক ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষিই তাদের জমির উৎপাদিত ধানের উপযুক্ত দাম না পেয়ে ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। এতে করে তারা হয় জমি বিক্রি করে দিয়েছেন নয়তো বছর চুক্তিতে কারও কাছে লিজ দিয়েছেন। এভাবে জমির হাত বদল হয়ে জমি চলে গেছে ধনি ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন কোম্পানির হাতে।

হাজার হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে আমের বাগান আবার কোথাও লিচু বাগান। মাল্টা এবং চা বাগানও করেছেন অনেকে। ধানি জমিতে পুকুরও করছেন কেউ কেউ। জেলার ঢোলারহাঁট ইউনিয়নের ধর্মপুর, মাধবপুর, খোঁচাবাড়ি, রুহিয়া রোড, রাজাগাঁও, উত্তরা, রহিমানপুর ও রাণীশংকৈল এবং পীরগঞ্জ এলাকায় শত শত আম লিচু এবং বিভিন্ন সবজি বাগান এখন চোখে পড়ার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে চা বাগান তৈরিতেও অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। তাছাড়া মৌসুমী ফল চাষ এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে কি পরিমাণ জমি ধান পাট চাষ বাদ দিয়ে ফলের বাগান কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার সঠিক তথ্য কৃষি বিভাগের হাতে নেই।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক কোনও অবস্থা নয়, কেউ কেউ ফলের বাগান করছেন বটে কিন্তু অনেকেই একই জমিতে ধান এবং অন্য ফসলের আবাদও করছেন।’

উদ্যোক্তাদের মতে কৃষক বছরের পর বছর ধানের দাম পাচ্ছে না। দাম না পেয়ে হতাশ জমিতে আম্রপালি জাতের আম বাগান করছেন। এখানে কোনও ঝুঁকি নেই। আমের মুকুল আসার আগেই বাগান বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সার বিষ পানিসহ সকল পরিচর্যা যিনি বাগান চুক্তিতে কেনেন তার দায়িত্বে থাকে। ফলে বাগান নিয়ে বাড়তি কোনও ভেজাল করতে হয় না।

জেলার পীরগঞ্জ এলাকার উদ্যোক্তা মানু চৌধুরী অর্ধ শতাধিক বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম এবং লিচুর বাগান করেছেন। তিনি নিজেই পরিচর্যা করেন এবং বাগান থেকেই চাহিদা মাফিক গ্রাহকদের কাছে ফল পাঠান। তিনিও সফল হয়েছেন বলে জানান।

ক্রমাগত জমির হাত বদল হয়ে পেশাজীবী, ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়া, প্রধান ফসল ধানের পরিবর্তে ফলের বাগান বৃদ্ধি পাওয়া, ফসলি জমিতে শিল্প কারখানা সহ ইটভাটা গড়ে ওঠার কারণে জেলার কৃষি ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।

প্রকাশক ও সম্পাদক : নূর মোহাম্মদ রানা
ঠিকানা:৯২ মোমিন রোড, শাহ আনিস মার্কেট (৪র্থ তলা), চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
মোবাইল:০১৯৭৪৪৬৮১৭৬ / ০১৮১৭৭১৭১৩১
ইমেইল:[email protected]

প্রিন্ট করুন