ইমামতি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। যা পালন করেছেন হযরত মুহম্মদ (সাঃ) স্বয়ং নিজেই। তাঁর পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনগণ। তাদের পরবর্তী মুসলমানদের সর্বোত্তম পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সমাজের ইমামতি করেছেন।
বর্তমানে এ মহৎ পেশাটিকে অবহেলার একটি অন্যতম কারণ হলো ইমামদের মাঝে অদক্ষতা, চাকরির উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়া। ইমামকে আল্লাহ্ পাক যে মর্যাদা দান করেছেন সে সম্পর্কে সচেতন না হওয়া। সবচেয়ে বেশি দুর্ভাগ্যজনক হলো ইমামদের মাঝে অনেকে পবিত্র কুরআন শরীফকে জীবিকা উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম বানিয়ে ফেলেন। যার কারণে ইলমদার আলেমরা এ পেশাটাকে ছোট মনে করেন।
ইদানিং কিছু কিছু মসজিদের ইমাম সাহেবদের কিছু অনৈতিক কার্যকলাপ আমাদের ভাবিয়ে তুলে। গ্রাম্য কিছু ইমাম, যারা যোগ্যতা সম্পন্ন কোন আলেম নন। এখন পেটের দায়ে ইমামতি করেন। আবার কিছু আছে পারিবারিক দারিদ্রতায় ইমামতিকেই বেছে নিয়েছেন।
এসব অযোগ্য, অদক্ষ লোককে সমাজের মানুষ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। আর সমাজের লোকজন এসব লোক নিয়োগের পিছনে একটা কারণও আছে, সেটা হল, কম টাকায় তারা ইমাম পাচ্ছেন। ভাল, যোগ্য আলেমকে নিতে হলে টাকা খরচ করতে হয়।
পরে এসব অযোগ্য ইমাম নিয়োগ দেওয়ার পর, ওসব ইমাম সাহেব সমাজের মধ্যে নানান অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত হয়। আর ওনাদের কারণে বদনাম হয় পুরো আলেম সমাজের।
সাধারণ মানুষ তো আর বোঝেনা, ঐ যে ইমাম সাহেব কোন পর্যায়ের? তার কি যোগ্যতা? তার আখলাক কেমন? এরকম দু-একজন ইমাম সাহেবের কারণে আলেম সমাজের বেইজ্জতি হতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের গ্রাম গঞ্জের বহু মসজিদে অযোগ্য ইমামের ছড়াছড়ি।
অতচ, একজন ইমাম হতে পারেন মানবতার পথপ্রদর্শক ও সরল পথের দিশারি। যে এলাকার ইমাম সাহেব যত যোগ্য সেখানকার ধর্মীয়, সামাজিক পরিবেশ থাকে তত মধুময়। পরস্পর মিল-মহব্বত, শান্তি ও সৌহার্দ্য বিরাজ করে ওই সমাজে। যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে উক্ত এলাকার ঐক্য ও সংহতি নষ্ট হবেই।
অযোগ্য ও চরিত্র-আদর্শ এই দুই গুণ শূন্য ইমাম কখনো দায়িত্ব পালন করতে পারেনা। তারা পারে শুধু পরষ্পর ঐক্য ও সংহতি নষ্ট করতে।
এজন্য কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদের জিম্মাদারগণের উচিত হবে, সব সময় যাচাই বাছাই করে ইমাম নিয়োগ দেওয়া।
লেখক: এম.জুনায়েদ
শিক্ষক ও সাংবাদিক।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০ । ৫:৪৫ সন্ধ্যা