২৪ ঘন্টা নিউজ
সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ www.24ghonta.news১৫ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ১ সফর ১৪৪১ হিজরি

দুর্গাপুজা আসন্ন, সীতাকুণ্ডের পাড়া-মহল্লায় সাঁজ-সাঁজ রব

.jpeg
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ । ১২:৫৬ দুপুর

চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মতো সীতাকুণ্ডেও শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে পুরোদমে চলছে প্রতিমা ও পূজা মন্ডপ তৈরির কাজ। আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে এবং বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের উৎসব।

সীতাকুণ্ড উপজেলায় এবার ৫৯ টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার প্রতিমা শিল্পীরা। কাদামাটি, খড়-কাঠ আর প্রতিমা নিয়েই দিন কাটছে তাদের।

তাই প্রতিমা ও এর প্রত্যেকটির অনুষঙ্গ তৈরি, নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ প্রতিমা শিল্পীদের পৌরসভার মন্দির সড়কে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধামের জগন্নাথ আশ্রমের পাশে প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন শিল্পী আদিত্য আচার্য। তাঁর সঙ্গে কাজ করছিলেন আরও কয়েকজন সহযোগী। এবছর তিনি বিশটি পূজামন্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন।

আদিত্য আচার্য্য জানান, দুইমাস আগে এবারের ২০টি পূজা মন্ডপের অর্ডার পেয়েছে। অন্যান্য বছর এ সময় আমাদের প্রতিমা বানানোর কাজ প্রায় শেষ হয়ে যেত। এবার সেটা হয়নি। তারপরও যথাসময়ে প্রতিমা বানানোর কাজ শেষ করার চেষ্ঠা করছি। আমাদের তৈরী দূর্গাগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া আছে।

তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের প্রতিমা তৈরি করছেন এবার। দিন-রাত কাজ করে পঞ্চমীর মধ্যে প্রতিমার কাজ শেষ করতে হবে তাঁকে। প্রতিমা তৈরি শুরু হয়েছে অনেক আগে। কাজ প্রায় শেষ। এখন কেবল প্রতিমাগুলোর নকশা করা হচ্ছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরি করা দুর্গার প্রতিমা গুলোতে রং লাগিয়ে সুসজ্জিত করা হবে বলে।

এদিকে, উৎসাহ উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসব নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে সাঁজ-সাঁজ রব।

পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পুজারী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে দোকানীসহ প্রতিমা শিল্পীরা। আলোক সজ্জার সাথে মন্দিরে-মন্দিরে প্রতিমা শিল্পীর রঙ তুলির আছড়ে যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে সুদর্শন প্রতিমাগুলো। সব মিলিয়ে প্রতিটি এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে মহাআনন্দের ছোয়া। তবে এ ক্ষেত্রে সকল আনন্দকে সর্বোত্তম জায়গায় এগিয়ে নিতে সর্বশেষ পরিশ্রম মূলে রয়েছে প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা।

প্রত্যেক শিল্পীর শুধু লক্ষ্য একটা, তৈরীকৃত প্রতিমার সৌন্দয্য বৃদ্ধি করে ভক্তদের আনন্দকে সার্থক করে তোলা। তাই শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতিতে যেন দম ফেলার ফুরসুত নেই তাদের। ধর্মীয় তৃর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধাম হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করায় অধিকাংশ প্রতিমা তৈরী হয়ে থাকে পৌরসদরের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে। তাই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে প্রতিটি কারিগরকে।

আবার ক্ষেত্র বিশেষে শিল্পীর দক্ষতার সাথে প্রতিমার গুনগত মানে শ্রমের মূল্যও রয়েছে তফাৎ। দেশের নামী-দামীরা শিল্পীর দ্বারা প্রতিমাগুলো তৈরী হওয়ায় শ্রম মূল্যের সাথে আকর্ষনের তফাতে রয়েছে বহু মাত্রায় ফারাক। ফলে প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে চলে শিল্পীর সর্বশেষ আঁছড়। কারণ সব শিল্পীর একটি লক্ষ্য নিজের শিল্প কর্মকে ভক্তের কাছে বেশী প্রশংসনীয় করে তোলা।

শিল্পী যুগল আচার্য বলেন, দেশের অন্যন্য জেলার তুলনায় সীতাকুণ্ডে প্রতিমার রয়েছে নাম-ডাক। এ প্রতিমা তৈরীতে বছর জুড়ে শ্রম দিতে হয় দোয়াআশ, এটেল ও পলি মাটির সাথে শুকনো খড় ও খুটি ব্যবহার করে তৈরী হয় প্রতিমা। প্রতিমাগুলোর ধরন অনুযায়ী একেকটি প্রতিমার পেছনে খরচ পড়ে কয়েক লক্ষ টাকা। উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের জন্য তৈরী হওয়ার পরপ্র্রতিমাগুলো পূজার আগের দিন নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

দূর্গোৎসবকে ঘিরে সব ধরনের নিরাপত্তাসব নেয়া হয়েছে বলে জানান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক হারাধন চৌধুরী বাবু।

প্রকাশক ও সম্পাদক : নূর মোহাম্মদ রানা
ঠিকানা:৯২ মোমিন রোড, শাহ আনিস মার্কেট (৪র্থ তলা), চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম।
মোবাইল:০১৯৭৪৪৬৮১৭৬ / ০১৮১৭৭১৭১৩১
ইমেইল:[email protected]

প্রিন্ট করুন