প্রধান শিক্ষক বিজ্ঞানমুখী
জোরপূর্বক বিজ্ঞানে ভর্তি কমার্সে নারাজ
শিক্ষার্থীদের টার্গেট কমার্স
জোরপূর্বক বিজ্ঞানে ভর্তি কমার্সে নারাজ
শিক্ষর্থীদেরকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পেঁৗছাতে দিচ্ছে না শিক্ষকরা। এমন অভিযোগ চট্টগ্রামের পাহাড়তলীস্থ ওয়ার্লেস ঝাউতলা কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। শিক্ষা জীবনের সনদ অর্জনের প্রথম ধাপে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন শিক্ষকরা। যা মেনে নিতে পারছেনা জীবনের লক্ষ্যে থাকা শিক্ষার্থীরা। বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীদের ধাবিত করতে ইচ্ছুক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের। বিজ্ঞানের এই যুগে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এমন মন্তব্য ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের। এদিকে, নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। এক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টিও চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বেশ কয়েক অভিভাবক।
স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে এসে দেখা গেছে, ১৯৫২ সালেন প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। প্রতিবছরই দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ৮ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণীতে উত্তীর্ন্ন হয় এই বিদ্যালয়ে। মেধানুসারে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে বন্টন করে দেওয়া হয়। তবে কাহারো অপারগতা ও ইচ্ছা শক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া কতটা যৌক্তিক এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল প্রাঙ্গনে কয়েক অভিভাবক। গ্রুপ পরিবর্তনের আবেদন দিতেও অভিভাবকদের নানা ভাবে নাজেহাল করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন সময়ের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, এখন বিজ্ঞানের যুগ। সরকারও বিজ্ঞানমুখী করতে চায়। ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করছেন না অভিভাবকরা। আর্থিক সংকটের বিষয়ে ও বিজ্ঞান বিভাগের পড়ালেখা ব্যয়বহুল এমন প্রসঙ্গে তিনি কোন উত্তর করেননি। তবে তিনি বলেছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করলে ব্যাংকসহ সব জায়গায় চাকরী পাওয়া সোজা। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিএ করা কোন কঠিন কাজ নয়। কমার্সের পড়ালেখা সহজ হওয়ার কারণে এখন ডাক্তারাও এমবিএ করে।
অভিযোগ রয়েছে, সদ্য ৯ম শ্রেণীতে উত্তীর্ন্ন হওয়া এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে স্কুল কতৃর্পক্ষ। কারণ সকল বিষয়ে পাশ করা শিক্ষার্থীদেরকে জোর পূর্বক বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এক থেকে তিন বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরকে ব্যবসায় শিক্ষা বা বাণিজ্য বিভাগে আর যেসব শিক্ষার্থী আরো খারাপ রেজাল্ট করেছে তাদেরকে মানবিক বা কলা বিভাগে ভর্তি করতে শ্রেণী শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত লক্ষ্যের কোন মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা। শিক্ষকরা সববিষয়ে পাশ করাকে মেধা যাচাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যেমন ভালো নয় তেমনি এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টও খারাপ হয়।
জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলে প্রভাতি ও দিবা হিসেবে দুটি শিফটে পড়ালেখা হয়। ১ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। দুই শিফটে মোট প্রায় ২ হাজার ২০০ জন ছেলে ও মেয়ে পড়ালেখা করে। এরমধ্যে গত বার্ষিক পরীক্ষায় ২৭৫ জন শিক্ষার্থী ৮ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণীতে উত্তীর্ন্ন হয়েছে। চলতি ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে তথা আগামী ২০২৫ সালে এসব শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস.এস.সি.) পরীক্ষায় অংশ নিবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন