দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ক্যাম্পেইন
সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনীর সেবা
পরিচ্ছন্নতায় ‘সমুদ্র জয়’ জাহাজের সদস্যরা, পর্যটকদের নজর কেড়েছে নীল জলরাশি
সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনীর সেবা
বঙ্গোপসাগরের জলসীমার প্রায় শেষাংশে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এ দ্বীপকে ঘিরে পর্যটকদের কৌতুহল অনেক বেশি। কৌতুহলী পর্যটকরা প্রতিবছররের শেষ সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পাড়ি জমায় এ দ্বীপে। কৌতুহলী দ্বীপ সেন্টমার্টিনে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত যাতায়ত থাকে পর্যটকদের। বছরে মাত্র চার/পাঁচ মাস সমূদ্রের পানি উত্তাল থাকে না। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আর নীল আভার জলরাশির জলকন্যা সেন্টমার্টিনকে দেখতে পর্যটকরা পাড়ি জমায় সেখানে।
অভিযোগ রয়েছে পর্যটন বিধিমালা লঙ্ঘন করে পর্যটকরা সমুদ্রে প্রতিনিয়ত বোতল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্টের বক্সসহ নানাবিধ সামগ্রী নিক্ষেপ করছে। আর নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সমুদ্র জয়’ সেন্টমার্টিনে থাকা মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ও পরিচ্ছন্নতায় সচেতনতা বৃদ্ধির ক্যাম্পেইন চালিয়েছে ২৮ জানুয়ারি সকাল থেকে সন্ধ্যা।
মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নৌ বাহিনীর কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের নির্দেশেই বানৌজা সমুদ্র জয় ২৮ জানুয়ারি (শনিবার) সারাদিনব্যাপী বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এতে দ্বীপটির স্থায়ী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ভ্রমণে আগত পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
সারাদিন ব্যাপী এই চিকিৎসা ক্যাম্পেইনে পাঁচশতাধিক মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফ্রি ঔষধ প্রদান করা হয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের পাশে থাকবে এবং এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দ্বীপবাসী আশা ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের্ ঘেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। মূল ভূখন্ড থেকে বেশ খানিকটা দূরে সমুদ্রে অবস্থিত হওয়ায় এ দ্বীপে স্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রায় সাত হাজার পাঁচশ নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল। এছাড়া বর্তমানে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনের কারণে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাশাপাশি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘সমুদ্র জয়’ কর্তৃক সারাদিনব্যাপী পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন শুরু করে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উক্ত জাহাজের প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা ও নাবিকদের সমন্বয়ে সর্বমোট ১৫০ জন নৌসদস্য অংশগ্রহণ করেন। নৌ সদস্যগণ আগত ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকদের কাছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সকলের করণীয় এর উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের্ পরিপূর্ণ এ দ্বীপটি রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। পর্যটক সমাগমকে তারা অভিনন্দন জানালেও কিছু কিছু স্থানীয় ও পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে যেখানে সেখানে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বীপটির সৌন্দয্যর্ ও জীব বৈচিত্রকে ব্যহত করছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
এই জনপদের মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ততটা সচেতন নয়। পর্যটকদের আনাগোনা থাকে মাত্র চারটি মাস। এই চার মাসেই নিরবিচ্ছিন্ন আসা যাওয়া নিশ্চিত করে বিভিন্ন ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন প্যাকেজ দিয়ে পর্যটকদের সুযোগ করে দিতে চায়। তবে যারা কখনো যায়নি বা নিজ উদ্যোগে পরিবার পরিজন নিয়ে যেতে ভয় পায় তাদের জন্যই ট্যুরিজম গ্রুপগুলো উত্তম। এসব ট্যুরিজম গ্রুপ অনেকটা কম খরচেই পর্যটক বাড়াতে কাজ করছে সেন্টমার্টিনে ও কক্সবাজারে। থাকা-খাওয়া ও ভ্রমণের ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে পর্যটকরাও এখন ট্যুরিজম গ্রুপের পতাকাতলে ভিড় জমাচ্ছে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন