খুঁজুন
, ,

রাউজানে ২৩২ মণ্ডপে দুর্গাপুজার প্রস্তুতি, প্রতিমায় রং-তুলির প্রলেপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 25 September, 2019, 11:27 am
রাউজানে ২৩২ মণ্ডপে দুর্গাপুজার প্রস্তুতি, প্রতিমায় রং-তুলির প্রলেপ

Raozan-ctg-pic-25.9

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরপরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা।

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাউজানেও দুর্গাপূজার আয়োজনকে ঘিরে স্ব স্ব এলাকার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা পূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। পূজার দিনক্ষণ যতই গণিয়ে আসছে ততই ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা।

রাউজান পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন দে বলেন, সারাদেশের মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রাউজানেও অনেক বেশি পুজা মন্ডপ রয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারো দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবমুখর রাউজানের সনাতন ধর্মের মানুষ। প্রতিবছর সমগ্র রাউজানে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় যে উৎসবের আমেজ বিরাজমান থাকে তা সত্যিই বিরল।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে পুজা নিয়ে ব্যস্ততার দৃশ্য চোখে পড়ছে। মন্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরী সহ নানা আনুষাঙ্গিক প্রস্ততি।

উপজেলার নোয়াপাড়া গৌরাঙ্গ বাড়ী মাঠ, ফকিরহাট কালিবাড়ী, বাইন্ন্যা পুকুর পাড়, কুন্ডেশ্বরী, সত্যের দোকানসহ আরো বেশ কিছু স্থানে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ।

গত মঙ্গলবার উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পল্লী মঙ্গল সমিতির গৌরাঙ্গ বাড়ির মাঠে গিয়ে কথা হয় শরিয়তপুরের প্রতিমা শিল্পী অনিল পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরেই প্রতিমা তৈরী করে আসছেন তিনি। শুধু দুর্গাপূজা নয় বছরের অন্যান্য সময়ে স্বরস্বতি পূজাসহ বিভিন্ন পূজা-পার্বনে প্রতিমা তৈরীর অর্ডার আসে। বছর জুড়েই তিনি এই কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাকে সহযোগিতা করেন তার দুই পুত্র সমল পাল ও অলক পাল।

তিনি বলেন, এ বছর বড়-ছোট মিলিয়ে ৩৪ টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন তিনি।প্রকারভেদে তার তৈরীকৃত প্রতিমা সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার টাকায় তিনি অর্ডার নিয়েছেন। বাকীগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

প্রতিমা শিল্পী অনিল পাল আক্ষেপ করে বলেন, এখন প্রতিমা তৈরী করতে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় তাদের সংসার চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, আগে আমরা কম টাকার অর্ডার নিয়েও পোষাতে পারতাম আর এখন কারিগরের বেতন, প্রতিমা তৈরীর আনুষাঙ্গিক খরচাদি বেড়ে যাওয়ায় তেমন একটা লাভ হয়না। একেকজন কারিগরের বেতন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দুর্গাপূজা মৌসুমে কারিগর ও হেলপার মিলে তার সাথে আটজন কাজ করেছেন।বর্তমানে শেষের দিকে কাজ কমে আসায় বর্তমানে ৪ জন কাজ করছেন।

উত্তর গুজরা রামকৃঞ্চ সেবাশ্রম পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন খাস্তগীর বলেন, পূজা উদযাপনে তাদের মন্ডপে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকার বাজেট থাকে। বাইরে থেকে শিল্পী এনে তাদের পূজা মন্ডপেই প্রতিমা তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরীতে তাদের ত্রিশ হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে।

রাউজান ফকিরহাট কালি বাড়ির প্রতিমা শিল্পী নান্টু পাল বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি ২৫-৩০টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতিমা গুলোতে রং তুলির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী ও সম্পাদক সুমন দে জানান, রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ বৎসর ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হবে। অন্যান্য বছরের চাইতে চলতি বছর রাউজানে আরো ২টি পূজামন্ডপ বেড়েছে।

দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রকাশ শীল ও সাধারণ সম্পাদক ম্যালকম চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাউজানের সর্বত্র উৎসবের আমেজচ সৃষ্টি হয়েছে।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, রাউজানে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্টিত হয়ে আসছে। অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো পূজার সময় যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে পূজা পালন করতে পারে সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্টানিকতা। ৮ অক্টোবর বিজয়াদশমীর মধ্যদিয়ে মা দূর্গাকে বিসর্জন দেয়া হবে।

২৪ঘন্টা/এন রানা/রাজীব..

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।