খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মানুষের মূল্যায়ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী-বিপ্লব বড়ুয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের মানুষের মূল্যায়ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী-বিপ্লব বড়ুয়া

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, রাজনীতিতে পদপদবী বড় বিষয় নয়, রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে মানুষের অস্থা ও ভালবাসা অর্জন করা।

তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের সন্তান। দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সংগঠনটির দফতর সম্পাদক পদ দিয়ে চট্টগ্রামের মানুষকে সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সরকার ও দল পরিচালনার জন্য চট্টগ্রামের মানুষের মূল্যায়ণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী রীগ আয়োজিত গণসংবর্ধণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ২
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গণসংবর্ধণাস্থল থেকে ছবিগুলো তুলেছেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজের সিনিয়র ফটোগ্রাফার দেব প্রসাদ দাস দেবু

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের আয়োজিত এ গণসংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, প্রিয় নেত্রী চট্টগ্রামকে মূল্যায়ন করে চট্টগ্রামের ৮ জনকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে স্থান দিয়েছেন। চট্টগ্রামের মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, পদ-পদবী আমার কাছে মূখ্য নয়, আমি দলীয় কর্মী হিসেবে, আপনাদের ভাই হিসেবে পাশে থাকতে চাই। নেত্রী আমাকে প্রতিনিধিত্ব করার যে সুযোগ দিয়েছেন আমি চট্টগ্রামবাসীদের সহযোগীতা নিয়ে সে গুরু দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, কর্মজীবনে আমি সাংবাদিকতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রোগ্রাম প্রডিউসার ছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর শুধুমাত্র ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে বিএনপি আমাকে চাকুরিচ্যুত করে।

ব্রারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ৩
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গণসংবর্ধণাস্থল থেকে ছবিগুলো তুলেছেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজের সিনিয়র ফটোগ্রাফার দেব প্রসাদ দাস দেবু

পরে আমি লন্ডনে গিয়েছি। আমার সঙ্গে অনেকে লন্ডনে গিয়েছেন। তারা সেখানের নাগরিকত্ব নিয়ে থেকে গেছেন। আমি যে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিলাম সেই পাসপোর্ট নিয়ে ফেরত এসেছি।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেউ যেন উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক।

সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াকে বরণ করে নিতে বুধবার সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল সহকারে চট্টগ্রাম নগর ও বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন রেল স্টেশন চত্ত্বরে।

সমাবেশ উপলক্ষে সিটি কলেজ, মহসিন কলেজ, বাকলিয়া কলেজসহ নগরীর ৪৩ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পরিবহনযোগে ও হেঁটে অসংখ্য নেতা-কর্মী, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণ এই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।

পুরো রেলস্টেশন জুড়ে জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত ছিলো। দুপর দেড়টার মধ্যেই নেতা কর্মীদের ভিড়ে ভরপুর হয়ে যায় রেলস্টেশনের সংবর্ধনাস্থল ও আশপাশের এলাকা। দুপুর ২টার কিছু পরে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে নামার পর নবনির্বাচিত নেতা বিপ্লব বড়ুয়া ও প্রধানমন্ত্রীর নামে স্লোগানের ঝড় তুলেন আগত নেতাকর্মীরা।

ফুলের মালা গলায় পড়িয়ে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াকে বরণ করে নেন চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। পরে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত গণসংবর্ধনা সভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে আগামি ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান বিপ্লব বড়ুয়া।

এর আগে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ রশিদ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাতকানিয়া পৌর মেয়র ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জোবায়ের, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।