খুঁজুন
, ,

বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2020, 11:09 pm
বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

সৌরভ প্রিয় পাল : করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। ৩১শে ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এর পর ১১ই জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নি বিশেষজ্ঞরা।

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার মানুষ এবং সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ কররেছেন ১৫৮২ জন।

করোনার কারণে মানুষ, সমাজ, চিকিৎসা ব্যাবস্থা, রাষ্ট্র, এশিয়া এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা:

এক. করোনা। রুপক অর্থে যদি বলি কিছু না করতে বলছে করোন! যেমন পাপ করোনা! যুদ্ধ-হানাহানি করোনা! এইরকম অনেক নেগেটিভ কিছু করোনা। এই ধরিত্রী আর সহ্য করতে পারছে না। তাই করোনা দিয়ে আমাদের বদলে দিতে চাইছে! এই কথাগুলোর বিজ্ঞান ভিত্তিক কোন ভিত্তি নেই। তবুও ধর্মভীরু বা, ধর্মান্ধদের কথার কথা হতে পারে। এসবের ভিত্তি থাকুক আর নাই বা থাকুক এই করোনা আমাদের সত্যিই বদলে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সমাজ, পরিবার-পরিজন বিপদে কিভাবে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে দাঁড়িয়েছে তার চিনিয়েছে। মাতাপিতা ও সন্তানের সম্পর্ক নতুন করে বদলে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত মাতাপিতাকে সন্তান এবং করোনা আক্রান্ত সন্তানকে মাতাপিতা কিভাবে রাস্তায় বা, জঙ্গলে ফেলে আসে তা দেখিয়েছে। করোনা আক্রান্ত বা, করোনা সিনড্রোম নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশের জন্য কবরকুড়া বা সৎকার তো দুরের কথা লাশ বহনে খাটিয়া পর্যন্ত দেয়নি এ সমাজ। অনেকেই তো এলাকায় কবর দিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত পরিবার সহ হাসপাতালে সেবা প্রদানকারী হেলথ ওয়ার্কারদের এলাকায় কতোভাবে নিগৃহীত করেছে, হেয় প্রতিপন্ন করেছে এমনকি আক্রমণও করেছে এ সমাজ। তাই সমাজ নিচে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

দুই. এই গেলো সমাজ। এবার আসুন রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চিকিৎসা সেবা, সংক্রমণ ঠেকানো ও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসা দুটোই ঠিকভাবে করতে পারছে না সরকার। সেজন্য দেশে করোনার সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। তাছাড়া ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি জনসমক্ষে ভেসে ওঠেছে।

চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে কতো নাগরিক। ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বার সহ রোগীদেখা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে করোনাকালে গলাকাটা বিলও নিতে দেখেছি। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডাক্তার দেখাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে নাগরিকদের। কিছু সময়ের জন্য ধনী-গরিব ব্যবধান কমিয়ে এনেছিলো করোনা। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিআইপিদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা চালু করায় এটা অত্যান্ত গর্হিত পাপ করেছে সরকার। অন্যদিকে লকডাউনের দরুন দেশের অর্থনীতির দৈন্যদশা। জিডিপি ৩ ভাগের নিচে নেমে আসতে পারে। প্রবৃদ্ধির হার ৬০/৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। রাজনীতিও বদলে গেছে বা, যাচ্ছে। কিছুটা হলেও সহনশীলতা এসেছে রাজনীতিতে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভুমিকা অনস্বীকার্য এই করোনায়। তাদের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে এই করোনা কালে। শিক্ষা ব্যবস্থার পঞ্জিকাও পাল্টে যাবে। সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবিকার উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দেশে বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে যাচ্ছে।

তিন. এশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চীনে জন্ম নেওয়া ভাইরাসটি বিশ্ব বদলে দিবে অথচ এশিয়ার পরিবর্তন করবে না তা হয় না! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পুরো এশিয়ার একক নেতৃত্ব হয়তো চীনের হাতে চলে যাবে। এশিয়ার দুই পরাশক্তির দেশ চীন-ভারত।

ইতোমধ্যে ভারতকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে চীন। যেমন, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো হলো, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ভুটান, চীন, বার্মা ও বাংলাদেশ। এরমধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোতে সবক্ষেত্রেই চীনের প্রভাব অপরিসীম। সবাই চীনের অর্থনীতির কাছে জিম্মি।

ভারতের আমদানি বাণিজ্যে চীনের ভুমিকা অপরিসীম। ভারতের জিডিপি অনেকটা নির্ভর করে চায়নার কাচামালের উপর। এখন বাংলাদেশও হাত দিয়েছে চায়না। চীন সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশে। যেমন, অর্থনৈতিক, কারিগরি-প্রযুক্তি, চিকিৎসা সহ নানা দিকে। চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোন ও অর্থনৈতিক সুবিধার লোভে চাপা পড়ছে বাংলাদেশ। সুতরাং অদুর ভবিষৎএ হয়তো চীনের দিকেই ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ। সেই পরিপেক্ষিতে ভারত একঘরে হতে পারে অনেকটা। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতা কিছুটা হলেও ভুলে যাতে পারে। এর কারণ হিসেবে ভারতীয় একগুঁয়েমি এবং বড়ভাইনীতি দায়ী হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিলেও ভারত তেমন কিছু দেয়নি বাংলাদেশকে। শুধু কাগজে বা মুখে বন্ধুপ্রতীম হলে তো একটা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাচুক্তি ও সীমান্তহত্যা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলিয়ে রেখেছে ভারত। চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা ভারত পেলেও, তা চায়নার হাতে বন্দরের মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর তাই আভাস দিচ্ছে। পাকিস্তান, ভারত আর চীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলেও শুধুমাত্র চীন উচ্চ অর্থনীতির দেশ হওয়ায়, এশিয়ার একমাত্র পরাশক্তি হতে যাচ্ছে চায়না এটা অনস্বীকার্য।

চার. বিশ্বও বদলে দিয়েছে করোনা। বিশ্বজুড়ে প্রায় কোটি মানুষকে আক্রান্ত করে সাড়ে চার লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিলো করোনা। তবে সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। আধুনিক বিশ্বে ও তাদের প্রযুক্তি করোনার নিকট কতোটা অসহায় এটাই তার প্রতিচ্ছবি। ইউরোপ আমেরিকাকে সবাই এত উন্নত মনে করতো, অথচ তাদের দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি! চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। বিশ্বের অর্থনীতিও টালমাটাল করে দিয়েছে করোনা। প্রথম সারির দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার ও চায়নার অবস্থানও বদলে যাবার আভাস মিলেছে। হয়তো পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ ও হামলাগুলো কিছুদিন ধরে জিরিয়ে নিচ্ছে। গত চারমাস যাবৎ কোন দেশে জঙ্গি হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু তবুও পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বসে নেই। চীন যদি সত্যি সত্যি করোনা ভাইরাস ইচ্ছেকৃত ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে আগামীতে চীনই রাজত্ব করবে এই পৃথিবীতে। কারণ এ-র কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং এরা ছড়িয়ে থাকলে, এরা ঔষধও আবিষ্কার করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। হয়তো ওরাই সর্বপ্রথম ঔষধ রপ্তানি করবে পুরো পৃথিবীতে। এক্ষেত্রে চীন অর্থনীতিতে এক নাম্বার পজিশনে চলে আসবে। আর যদি করোনা চীনের জৈব কারখানায় সৃষ্টি না হলেও চীন আমেরিকার উপর নিশ্বাস ফেলবে। কারণ এই করোনা কালেও তাদের উৎপাদন ও অর্থনীতি একদিনের জন্যও বসে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আজ চীনের হাতের মুঠোয়। আর পুরো পৃথিবীর দুশো দেশই who এর নির্দেশে চলছে। যুদ্ধবাজ আমেরিকার অস্ত্রের বাজারের বৃহৎ একটি অংশও চীন ও রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। এতে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে চীনও প্রতিদ্বন্দ্বী করবে আরো বেশি। রাশিয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে চীনকে শতভাগ সাপোর্ট দিবে। শুধুমাত্র আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার জন্য। সেক্ষেত্রে রাশিয়াও কিছুটা চায়না নির্ভর হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্ত অবস্থান নাড়িয়ে দিতে পারে চীন। তেল বাণিজ্যে বড়ভাগ বসাতে পারে চীন। ক্রীড়াতেও ইউরোপের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েতে যাচ্ছে। সর্বপরি পৃথিবীর বাণিজ্যে এখন যা আছে, তারচেয়ে বড় একটা অংশ একক আধিপত্যে নিবে চীন এটা অনস্বীকার্য। তাই পৃথিবীতে আমেরিকার রাজত্বে কিছুটা ভাটা পড়তে যাচ্ছে এটা সুনিশ্চিত। আর পৃথিবীব্যাপী চীনের বাণিজ্য ও ঋণের বোঝা সবাইকে ভোগাবে।

তবুও সুন্দর একটা সকালের চিন্তা করে পৃথিবী। এই করোনার বদলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নিতে চায় পৃথিবী। প্রানখুলে নিঃস্বাস নিতে চায় পৃথিবী। মৃত্যুপুরি থেকে মুক্তি চায় পৃথিবী। সেটা আমেরিকা-চায়না বা, যে কেউই দিক না কেন, মানুষই হাতেই থাকবে সেই চাবি।

লেখক:সৌরভ প্রিয় পাল
সমাজকর্মী ও ক্রীড়াবিদ।

Feb2
Feb2

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।

সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি পুনর্বহাল করা হয়: মোনায়েম মুন্না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 8:12 pm
সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি পুনর্বহাল করা হয়: মোনায়েম মুন্না

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সারা বাংলাদেশসহ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি মিলিয়ে সর্বমোট যুবদলের ৮২টি ইউনিট কমিটি বিদ্যামান। ঢাকার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হলো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। বিলুপ্ত হওয়ার পরও সভাপতি দিপ্তী সাধারণ সম্পাদক শাহেদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচী খুব সুন্দর সুচারুরূপে পালন করে আসছে। সাংগঠনিক প্রয়োজনে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কমিটি গত ২৫ আগষ্ট পুনর্বহাল করা হয়।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সম্মুখ মাঠে “সমসাময়িক বিষয়াবলী ও সাংগঠনিক স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে” চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি দেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরবেন। যুবদল সবচেয়ে সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন। যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে অতীতের ন্যায় প্রস্তুত। তিনি এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি।

উক্ত কর্মীসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি নুর আহমেদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল গফুর বাবুল, দিদারুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ মুছা, মিয়া মো. হারুন, হায়দার আলী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, জসিমুল ইসলাম কিশোর, এডভোকেট ফিরোজ, মজিবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, বায়েজিদ বোস্তামি থানা যুবদলের আহবায়ক অরূপ বড়ুয়া, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকি, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান মাসুম, মো. হুমায়ূন কবির, মোহাম্মদ সেলিম খাঁন, ইকবাল পারভেজ, রাশেদুল হাসান লেবু, আবদুল্লাহ আল টিটু, মো. এরশাদ উল্লাহ, মো. এরশাদ হোসেন, তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুল হামিদ পিন্টু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, জিয়াউল হুদা জিয়া, শাহিন পাটোয়ারী, ইকরামুল হক ছুট্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, খুলশী থানা যুবদলের আহবায়ক হেলাল হোসেন হেলাল, চান্দগাঁও থানা যুবদলের আহবায়ক গুলজার হোসেন, মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, আসাদুর রহমান টিপু, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, শাহজালাল পলাশ, মজিবুর রহমান রাসেল, সাইফুদ্দিন মো. মারুফ, আহাদ আলী সায়েম, তানভীর মল্লিক, রাজন খান, এস এম ফারুক, সম্পাদক মন্ডলী’র সদস্য নুর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগির, জসিম উদ্দিন সাগর, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন মুকুল, এস এম বখতেয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ নওশাদ, সহ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, কামাল উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন মানিক, শাহেদুল ইসলাম শাহেদ, জহিরুল ইসলাম জহির, কমল জ্যৌতি বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম, জিয়াউল হুদা মিন্টু, মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান, কোরবান আলী, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, হাফেজ মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন আনু, মোহাম্মদ ইদ্রিস, সালাহউদ্দিন, আরিফ হোসেন, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, মো. জসিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম আজাদ, সিরাজুল ইসলাম শিকদার, দেলোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন স্বপন, ইদ্রিস আলম, গুলজার হোসেন মিন্টু, আবদুল্লাহ আল মামুন জিতু, মোহাম্মদ খোরশেদ, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হোসেন উজ জামান, নুর জাহেদ বাবলু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, এ কে আজাদ, মো. সাইদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান দুলাল, মিফতাহ উদ্দীন শিকদার টিটু, মোহাম্মদ ইউসুফ, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, বেলাল উদ্দিন, মহানগর সদস্য হাবিবুল্লাাহ খান, শাবাব ইয়াজদানী, মাহমুদ খান জনি, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সোহাগ খান, প্রফেসর মোহাম্মদ সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাব্বির ইসলাম ফারুক, আবদুস সাত্তার, আইয়ুব আলী, জাহেরু মাসুদ, আজিজ চৌধুরী, আবদুল করিম, শাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের আহবায়ক নুর হোসেন নুরু, শফিউল আজম, বজল আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন টুনু, কুতুব উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন লেদু, মোশাররফ আমিন সোহেল, খোরশেদ আলম, হোসনে মোবারক রিয়াদ, মোহাম্মদ ইসমাইল, থানা যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাসান, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, শওকত খান রাজু, মো: মুসা, মুসফিকুর রহমান নয়ন, ইলিয়াস খান, তাজ উদ্দিন তাজু, মোহাম্মদ রাশেদ, থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোর্শেদ কামাল, নুর খান, মুস্তাকিম মাহমুদ, আশিক মল্লিক, সাইফুল আলম রুবেল, মো: ইয়াছিন, খালেদ সাইফুল্লাহ, সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম, মো. সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক আবু বকর বাবু, এস এম আলী, আক্তার হোসেন, সাইফুল আলম, সাদেক আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুছ, বাদশা আলমগীর, মোহাম্মদ হাসান, জহিরুল ইসলাম জহির, মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ এস্কান্দার, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান রানা, রাসেল খান, সদস্য সচিব আবু তৌহিদ, সোলেয়মান হোসেন মনা প্রমুখ।