খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

সৌরভ প্রিয় পাল : করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। ৩১শে ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এর পর ১১ই জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নি বিশেষজ্ঞরা।

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার মানুষ এবং সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ কররেছেন ১৫৮২ জন।

করোনার কারণে মানুষ, সমাজ, চিকিৎসা ব্যাবস্থা, রাষ্ট্র, এশিয়া এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা:

এক. করোনা। রুপক অর্থে যদি বলি কিছু না করতে বলছে করোন! যেমন পাপ করোনা! যুদ্ধ-হানাহানি করোনা! এইরকম অনেক নেগেটিভ কিছু করোনা। এই ধরিত্রী আর সহ্য করতে পারছে না। তাই করোনা দিয়ে আমাদের বদলে দিতে চাইছে! এই কথাগুলোর বিজ্ঞান ভিত্তিক কোন ভিত্তি নেই। তবুও ধর্মভীরু বা, ধর্মান্ধদের কথার কথা হতে পারে। এসবের ভিত্তি থাকুক আর নাই বা থাকুক এই করোনা আমাদের সত্যিই বদলে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সমাজ, পরিবার-পরিজন বিপদে কিভাবে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে দাঁড়িয়েছে তার চিনিয়েছে। মাতাপিতা ও সন্তানের সম্পর্ক নতুন করে বদলে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত মাতাপিতাকে সন্তান এবং করোনা আক্রান্ত সন্তানকে মাতাপিতা কিভাবে রাস্তায় বা, জঙ্গলে ফেলে আসে তা দেখিয়েছে। করোনা আক্রান্ত বা, করোনা সিনড্রোম নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশের জন্য কবরকুড়া বা সৎকার তো দুরের কথা লাশ বহনে খাটিয়া পর্যন্ত দেয়নি এ সমাজ। অনেকেই তো এলাকায় কবর দিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত পরিবার সহ হাসপাতালে সেবা প্রদানকারী হেলথ ওয়ার্কারদের এলাকায় কতোভাবে নিগৃহীত করেছে, হেয় প্রতিপন্ন করেছে এমনকি আক্রমণও করেছে এ সমাজ। তাই সমাজ নিচে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

দুই. এই গেলো সমাজ। এবার আসুন রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চিকিৎসা সেবা, সংক্রমণ ঠেকানো ও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসা দুটোই ঠিকভাবে করতে পারছে না সরকার। সেজন্য দেশে করোনার সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। তাছাড়া ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি জনসমক্ষে ভেসে ওঠেছে।

চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে কতো নাগরিক। ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বার সহ রোগীদেখা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে করোনাকালে গলাকাটা বিলও নিতে দেখেছি। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডাক্তার দেখাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে নাগরিকদের। কিছু সময়ের জন্য ধনী-গরিব ব্যবধান কমিয়ে এনেছিলো করোনা। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিআইপিদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা চালু করায় এটা অত্যান্ত গর্হিত পাপ করেছে সরকার। অন্যদিকে লকডাউনের দরুন দেশের অর্থনীতির দৈন্যদশা। জিডিপি ৩ ভাগের নিচে নেমে আসতে পারে। প্রবৃদ্ধির হার ৬০/৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। রাজনীতিও বদলে গেছে বা, যাচ্ছে। কিছুটা হলেও সহনশীলতা এসেছে রাজনীতিতে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভুমিকা অনস্বীকার্য এই করোনায়। তাদের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে এই করোনা কালে। শিক্ষা ব্যবস্থার পঞ্জিকাও পাল্টে যাবে। সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবিকার উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দেশে বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে যাচ্ছে।

তিন. এশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চীনে জন্ম নেওয়া ভাইরাসটি বিশ্ব বদলে দিবে অথচ এশিয়ার পরিবর্তন করবে না তা হয় না! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পুরো এশিয়ার একক নেতৃত্ব হয়তো চীনের হাতে চলে যাবে। এশিয়ার দুই পরাশক্তির দেশ চীন-ভারত।

ইতোমধ্যে ভারতকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে চীন। যেমন, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো হলো, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ভুটান, চীন, বার্মা ও বাংলাদেশ। এরমধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোতে সবক্ষেত্রেই চীনের প্রভাব অপরিসীম। সবাই চীনের অর্থনীতির কাছে জিম্মি।

ভারতের আমদানি বাণিজ্যে চীনের ভুমিকা অপরিসীম। ভারতের জিডিপি অনেকটা নির্ভর করে চায়নার কাচামালের উপর। এখন বাংলাদেশও হাত দিয়েছে চায়না। চীন সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশে। যেমন, অর্থনৈতিক, কারিগরি-প্রযুক্তি, চিকিৎসা সহ নানা দিকে। চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোন ও অর্থনৈতিক সুবিধার লোভে চাপা পড়ছে বাংলাদেশ। সুতরাং অদুর ভবিষৎএ হয়তো চীনের দিকেই ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ। সেই পরিপেক্ষিতে ভারত একঘরে হতে পারে অনেকটা। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতা কিছুটা হলেও ভুলে যাতে পারে। এর কারণ হিসেবে ভারতীয় একগুঁয়েমি এবং বড়ভাইনীতি দায়ী হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিলেও ভারত তেমন কিছু দেয়নি বাংলাদেশকে। শুধু কাগজে বা মুখে বন্ধুপ্রতীম হলে তো একটা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাচুক্তি ও সীমান্তহত্যা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলিয়ে রেখেছে ভারত। চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা ভারত পেলেও, তা চায়নার হাতে বন্দরের মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর তাই আভাস দিচ্ছে। পাকিস্তান, ভারত আর চীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলেও শুধুমাত্র চীন উচ্চ অর্থনীতির দেশ হওয়ায়, এশিয়ার একমাত্র পরাশক্তি হতে যাচ্ছে চায়না এটা অনস্বীকার্য।

চার. বিশ্বও বদলে দিয়েছে করোনা। বিশ্বজুড়ে প্রায় কোটি মানুষকে আক্রান্ত করে সাড়ে চার লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিলো করোনা। তবে সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। আধুনিক বিশ্বে ও তাদের প্রযুক্তি করোনার নিকট কতোটা অসহায় এটাই তার প্রতিচ্ছবি। ইউরোপ আমেরিকাকে সবাই এত উন্নত মনে করতো, অথচ তাদের দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি! চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। বিশ্বের অর্থনীতিও টালমাটাল করে দিয়েছে করোনা। প্রথম সারির দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার ও চায়নার অবস্থানও বদলে যাবার আভাস মিলেছে। হয়তো পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ ও হামলাগুলো কিছুদিন ধরে জিরিয়ে নিচ্ছে। গত চারমাস যাবৎ কোন দেশে জঙ্গি হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু তবুও পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বসে নেই। চীন যদি সত্যি সত্যি করোনা ভাইরাস ইচ্ছেকৃত ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে আগামীতে চীনই রাজত্ব করবে এই পৃথিবীতে। কারণ এ-র কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং এরা ছড়িয়ে থাকলে, এরা ঔষধও আবিষ্কার করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। হয়তো ওরাই সর্বপ্রথম ঔষধ রপ্তানি করবে পুরো পৃথিবীতে। এক্ষেত্রে চীন অর্থনীতিতে এক নাম্বার পজিশনে চলে আসবে। আর যদি করোনা চীনের জৈব কারখানায় সৃষ্টি না হলেও চীন আমেরিকার উপর নিশ্বাস ফেলবে। কারণ এই করোনা কালেও তাদের উৎপাদন ও অর্থনীতি একদিনের জন্যও বসে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আজ চীনের হাতের মুঠোয়। আর পুরো পৃথিবীর দুশো দেশই who এর নির্দেশে চলছে। যুদ্ধবাজ আমেরিকার অস্ত্রের বাজারের বৃহৎ একটি অংশও চীন ও রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। এতে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে চীনও প্রতিদ্বন্দ্বী করবে আরো বেশি। রাশিয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে চীনকে শতভাগ সাপোর্ট দিবে। শুধুমাত্র আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার জন্য। সেক্ষেত্রে রাশিয়াও কিছুটা চায়না নির্ভর হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্ত অবস্থান নাড়িয়ে দিতে পারে চীন। তেল বাণিজ্যে বড়ভাগ বসাতে পারে চীন। ক্রীড়াতেও ইউরোপের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েতে যাচ্ছে। সর্বপরি পৃথিবীর বাণিজ্যে এখন যা আছে, তারচেয়ে বড় একটা অংশ একক আধিপত্যে নিবে চীন এটা অনস্বীকার্য। তাই পৃথিবীতে আমেরিকার রাজত্বে কিছুটা ভাটা পড়তে যাচ্ছে এটা সুনিশ্চিত। আর পৃথিবীব্যাপী চীনের বাণিজ্য ও ঋণের বোঝা সবাইকে ভোগাবে।

তবুও সুন্দর একটা সকালের চিন্তা করে পৃথিবী। এই করোনার বদলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নিতে চায় পৃথিবী। প্রানখুলে নিঃস্বাস নিতে চায় পৃথিবী। মৃত্যুপুরি থেকে মুক্তি চায় পৃথিবী। সেটা আমেরিকা-চায়না বা, যে কেউই দিক না কেন, মানুষই হাতেই থাকবে সেই চাবি।

লেখক:সৌরভ প্রিয় পাল
সমাজকর্মী ও ক্রীড়াবিদ।

Feb2

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

পাবনা সদর উপজেলায় কিশোরী রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দেশের প্রথম ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ এবং ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্টেশন চালুর ফলে সামুদ্রিক গবেষণা, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং নীল অর্থনীতির বিকাশে দেশের সক্ষমতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (SIO)। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সিস্টেমের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট থেকে রিয়েল-টাইম ডাটা সংগ্রহ করা যাবে। এতে চীনের HY-2B, HY-2C, FY সিরিজসহ একাধিক স্যাটেলাইট, যুক্তরাষ্ট্রের NOAA ও MODIS এবং ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন আবহাওয়া ও আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কেন্দ্রের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ক্লোরোফিল ঘনত্ব, স্রোতের গতিপথ, বায়ুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ নির্ধারণ, অফশোর গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্প নাবিক, জাহাজ ও মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকলেও যে উদ্দেশ্যের জন্য এটি স্থাপন করা আছে আমরা সে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। প্রয়োজনে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করব।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এটি বাংলাদেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই প্রকল্প শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ডাটা অ্যানালাইসিস, এআই ও মেশিন লার্নিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে সহায়তা করবে।

এর আগে, ২০১৯ সালে চবি ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয়। ২০২০ সালে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালে স্টেশন স্থাপনের চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, চবি উপ-উপাচার্যরাসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলার মি. লি শেওপেং, সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ড. ফু বিনসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনে এবার নারী আমানতকারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনে এবার নারী আমানতকারীরা

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করা সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এবার নারী আমানতকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এই আন্দোলনে এতদিন শুধুমাত্র পুরুষ আমানতকারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও মঙ্গলবার (৯ জুন) এতে শতাধিক নারী আমানতকারীও অংশ নিয়েছেন।

এদিন সকাল ১০টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা রাষ্ট্রের স্বার্থে লুটেরাদের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে। তাই, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে পুরুষ আমানতকারীদের পাশাপাশি তারাও রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে একজন নারী আমানতকারী জানান, ইসলামী ব্যাংক ইসলামী শরিয়াহ আইন মেনে পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকে টাকা রেখে মুসলিম হিসেবে আমরা সুদমুক্ত মুনাফা করতে পারি। এই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের আমানত নিরাপদ রাখার মতো দেশে আর কোনো বিশ্বস্ত ব্যাংক থাকবে না। তাই, নিজেদের আমানতের নিরাপত্তা দিতে আমরা এই ব্যাংকটিকে লুটেরাদের হাত থেকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছি।

আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে, গত ১ জুন (সোমবার) সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।