খুঁজুন
, ,

বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2020, 11:09 pm
বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

সৌরভ প্রিয় পাল : করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। ৩১শে ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এর পর ১১ই জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নি বিশেষজ্ঞরা।

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার মানুষ এবং সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ কররেছেন ১৫৮২ জন।

করোনার কারণে মানুষ, সমাজ, চিকিৎসা ব্যাবস্থা, রাষ্ট্র, এশিয়া এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা:

এক. করোনা। রুপক অর্থে যদি বলি কিছু না করতে বলছে করোন! যেমন পাপ করোনা! যুদ্ধ-হানাহানি করোনা! এইরকম অনেক নেগেটিভ কিছু করোনা। এই ধরিত্রী আর সহ্য করতে পারছে না। তাই করোনা দিয়ে আমাদের বদলে দিতে চাইছে! এই কথাগুলোর বিজ্ঞান ভিত্তিক কোন ভিত্তি নেই। তবুও ধর্মভীরু বা, ধর্মান্ধদের কথার কথা হতে পারে। এসবের ভিত্তি থাকুক আর নাই বা থাকুক এই করোনা আমাদের সত্যিই বদলে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সমাজ, পরিবার-পরিজন বিপদে কিভাবে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে দাঁড়িয়েছে তার চিনিয়েছে। মাতাপিতা ও সন্তানের সম্পর্ক নতুন করে বদলে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত মাতাপিতাকে সন্তান এবং করোনা আক্রান্ত সন্তানকে মাতাপিতা কিভাবে রাস্তায় বা, জঙ্গলে ফেলে আসে তা দেখিয়েছে। করোনা আক্রান্ত বা, করোনা সিনড্রোম নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশের জন্য কবরকুড়া বা সৎকার তো দুরের কথা লাশ বহনে খাটিয়া পর্যন্ত দেয়নি এ সমাজ। অনেকেই তো এলাকায় কবর দিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত পরিবার সহ হাসপাতালে সেবা প্রদানকারী হেলথ ওয়ার্কারদের এলাকায় কতোভাবে নিগৃহীত করেছে, হেয় প্রতিপন্ন করেছে এমনকি আক্রমণও করেছে এ সমাজ। তাই সমাজ নিচে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

দুই. এই গেলো সমাজ। এবার আসুন রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চিকিৎসা সেবা, সংক্রমণ ঠেকানো ও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসা দুটোই ঠিকভাবে করতে পারছে না সরকার। সেজন্য দেশে করোনার সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। তাছাড়া ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি জনসমক্ষে ভেসে ওঠেছে।

চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে কতো নাগরিক। ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বার সহ রোগীদেখা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে করোনাকালে গলাকাটা বিলও নিতে দেখেছি। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডাক্তার দেখাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে নাগরিকদের। কিছু সময়ের জন্য ধনী-গরিব ব্যবধান কমিয়ে এনেছিলো করোনা। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিআইপিদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা চালু করায় এটা অত্যান্ত গর্হিত পাপ করেছে সরকার। অন্যদিকে লকডাউনের দরুন দেশের অর্থনীতির দৈন্যদশা। জিডিপি ৩ ভাগের নিচে নেমে আসতে পারে। প্রবৃদ্ধির হার ৬০/৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। রাজনীতিও বদলে গেছে বা, যাচ্ছে। কিছুটা হলেও সহনশীলতা এসেছে রাজনীতিতে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভুমিকা অনস্বীকার্য এই করোনায়। তাদের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে এই করোনা কালে। শিক্ষা ব্যবস্থার পঞ্জিকাও পাল্টে যাবে। সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবিকার উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দেশে বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে যাচ্ছে।

তিন. এশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চীনে জন্ম নেওয়া ভাইরাসটি বিশ্ব বদলে দিবে অথচ এশিয়ার পরিবর্তন করবে না তা হয় না! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পুরো এশিয়ার একক নেতৃত্ব হয়তো চীনের হাতে চলে যাবে। এশিয়ার দুই পরাশক্তির দেশ চীন-ভারত।

ইতোমধ্যে ভারতকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে চীন। যেমন, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো হলো, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ভুটান, চীন, বার্মা ও বাংলাদেশ। এরমধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোতে সবক্ষেত্রেই চীনের প্রভাব অপরিসীম। সবাই চীনের অর্থনীতির কাছে জিম্মি।

ভারতের আমদানি বাণিজ্যে চীনের ভুমিকা অপরিসীম। ভারতের জিডিপি অনেকটা নির্ভর করে চায়নার কাচামালের উপর। এখন বাংলাদেশও হাত দিয়েছে চায়না। চীন সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশে। যেমন, অর্থনৈতিক, কারিগরি-প্রযুক্তি, চিকিৎসা সহ নানা দিকে। চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোন ও অর্থনৈতিক সুবিধার লোভে চাপা পড়ছে বাংলাদেশ। সুতরাং অদুর ভবিষৎএ হয়তো চীনের দিকেই ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ। সেই পরিপেক্ষিতে ভারত একঘরে হতে পারে অনেকটা। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতা কিছুটা হলেও ভুলে যাতে পারে। এর কারণ হিসেবে ভারতীয় একগুঁয়েমি এবং বড়ভাইনীতি দায়ী হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিলেও ভারত তেমন কিছু দেয়নি বাংলাদেশকে। শুধু কাগজে বা মুখে বন্ধুপ্রতীম হলে তো একটা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাচুক্তি ও সীমান্তহত্যা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলিয়ে রেখেছে ভারত। চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা ভারত পেলেও, তা চায়নার হাতে বন্দরের মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর তাই আভাস দিচ্ছে। পাকিস্তান, ভারত আর চীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলেও শুধুমাত্র চীন উচ্চ অর্থনীতির দেশ হওয়ায়, এশিয়ার একমাত্র পরাশক্তি হতে যাচ্ছে চায়না এটা অনস্বীকার্য।

চার. বিশ্বও বদলে দিয়েছে করোনা। বিশ্বজুড়ে প্রায় কোটি মানুষকে আক্রান্ত করে সাড়ে চার লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিলো করোনা। তবে সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। আধুনিক বিশ্বে ও তাদের প্রযুক্তি করোনার নিকট কতোটা অসহায় এটাই তার প্রতিচ্ছবি। ইউরোপ আমেরিকাকে সবাই এত উন্নত মনে করতো, অথচ তাদের দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি! চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। বিশ্বের অর্থনীতিও টালমাটাল করে দিয়েছে করোনা। প্রথম সারির দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার ও চায়নার অবস্থানও বদলে যাবার আভাস মিলেছে। হয়তো পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ ও হামলাগুলো কিছুদিন ধরে জিরিয়ে নিচ্ছে। গত চারমাস যাবৎ কোন দেশে জঙ্গি হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু তবুও পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বসে নেই। চীন যদি সত্যি সত্যি করোনা ভাইরাস ইচ্ছেকৃত ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে আগামীতে চীনই রাজত্ব করবে এই পৃথিবীতে। কারণ এ-র কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং এরা ছড়িয়ে থাকলে, এরা ঔষধও আবিষ্কার করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। হয়তো ওরাই সর্বপ্রথম ঔষধ রপ্তানি করবে পুরো পৃথিবীতে। এক্ষেত্রে চীন অর্থনীতিতে এক নাম্বার পজিশনে চলে আসবে। আর যদি করোনা চীনের জৈব কারখানায় সৃষ্টি না হলেও চীন আমেরিকার উপর নিশ্বাস ফেলবে। কারণ এই করোনা কালেও তাদের উৎপাদন ও অর্থনীতি একদিনের জন্যও বসে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আজ চীনের হাতের মুঠোয়। আর পুরো পৃথিবীর দুশো দেশই who এর নির্দেশে চলছে। যুদ্ধবাজ আমেরিকার অস্ত্রের বাজারের বৃহৎ একটি অংশও চীন ও রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। এতে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে চীনও প্রতিদ্বন্দ্বী করবে আরো বেশি। রাশিয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে চীনকে শতভাগ সাপোর্ট দিবে। শুধুমাত্র আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার জন্য। সেক্ষেত্রে রাশিয়াও কিছুটা চায়না নির্ভর হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্ত অবস্থান নাড়িয়ে দিতে পারে চীন। তেল বাণিজ্যে বড়ভাগ বসাতে পারে চীন। ক্রীড়াতেও ইউরোপের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েতে যাচ্ছে। সর্বপরি পৃথিবীর বাণিজ্যে এখন যা আছে, তারচেয়ে বড় একটা অংশ একক আধিপত্যে নিবে চীন এটা অনস্বীকার্য। তাই পৃথিবীতে আমেরিকার রাজত্বে কিছুটা ভাটা পড়তে যাচ্ছে এটা সুনিশ্চিত। আর পৃথিবীব্যাপী চীনের বাণিজ্য ও ঋণের বোঝা সবাইকে ভোগাবে।

তবুও সুন্দর একটা সকালের চিন্তা করে পৃথিবী। এই করোনার বদলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নিতে চায় পৃথিবী। প্রানখুলে নিঃস্বাস নিতে চায় পৃথিবী। মৃত্যুপুরি থেকে মুক্তি চায় পৃথিবী। সেটা আমেরিকা-চায়না বা, যে কেউই দিক না কেন, মানুষই হাতেই থাকবে সেই চাবি।

লেখক:সৌরভ প্রিয় পাল
সমাজকর্মী ও ক্রীড়াবিদ।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।