খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব সমাজ বদলে দিবে করোনা ভাইরাস

সৌরভ প্রিয় পাল : করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। ৩১শে ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এর পর ১১ই জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নি বিশেষজ্ঞরা।

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার মানুষ এবং সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ কররেছেন ১৫৮২ জন।

করোনার কারণে মানুষ, সমাজ, চিকিৎসা ব্যাবস্থা, রাষ্ট্র, এশিয়া এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা:

এক. করোনা। রুপক অর্থে যদি বলি কিছু না করতে বলছে করোন! যেমন পাপ করোনা! যুদ্ধ-হানাহানি করোনা! এইরকম অনেক নেগেটিভ কিছু করোনা। এই ধরিত্রী আর সহ্য করতে পারছে না। তাই করোনা দিয়ে আমাদের বদলে দিতে চাইছে! এই কথাগুলোর বিজ্ঞান ভিত্তিক কোন ভিত্তি নেই। তবুও ধর্মভীরু বা, ধর্মান্ধদের কথার কথা হতে পারে। এসবের ভিত্তি থাকুক আর নাই বা থাকুক এই করোনা আমাদের সত্যিই বদলে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সমাজ, পরিবার-পরিজন বিপদে কিভাবে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে দাঁড়িয়েছে তার চিনিয়েছে। মাতাপিতা ও সন্তানের সম্পর্ক নতুন করে বদলে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত মাতাপিতাকে সন্তান এবং করোনা আক্রান্ত সন্তানকে মাতাপিতা কিভাবে রাস্তায় বা, জঙ্গলে ফেলে আসে তা দেখিয়েছে। করোনা আক্রান্ত বা, করোনা সিনড্রোম নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশের জন্য কবরকুড়া বা সৎকার তো দুরের কথা লাশ বহনে খাটিয়া পর্যন্ত দেয়নি এ সমাজ। অনেকেই তো এলাকায় কবর দিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত পরিবার সহ হাসপাতালে সেবা প্রদানকারী হেলথ ওয়ার্কারদের এলাকায় কতোভাবে নিগৃহীত করেছে, হেয় প্রতিপন্ন করেছে এমনকি আক্রমণও করেছে এ সমাজ। তাই সমাজ নিচে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

দুই. এই গেলো সমাজ। এবার আসুন রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চিকিৎসা সেবা, সংক্রমণ ঠেকানো ও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসা দুটোই ঠিকভাবে করতে পারছে না সরকার। সেজন্য দেশে করোনার সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। তাছাড়া ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি জনসমক্ষে ভেসে ওঠেছে।

চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে কতো নাগরিক। ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বার সহ রোগীদেখা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে করোনাকালে গলাকাটা বিলও নিতে দেখেছি। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডাক্তার দেখাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে নাগরিকদের। কিছু সময়ের জন্য ধনী-গরিব ব্যবধান কমিয়ে এনেছিলো করোনা। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিআইপিদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা চালু করায় এটা অত্যান্ত গর্হিত পাপ করেছে সরকার। অন্যদিকে লকডাউনের দরুন দেশের অর্থনীতির দৈন্যদশা। জিডিপি ৩ ভাগের নিচে নেমে আসতে পারে। প্রবৃদ্ধির হার ৬০/৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। রাজনীতিও বদলে গেছে বা, যাচ্ছে। কিছুটা হলেও সহনশীলতা এসেছে রাজনীতিতে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভুমিকা অনস্বীকার্য এই করোনায়। তাদের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে এই করোনা কালে। শিক্ষা ব্যবস্থার পঞ্জিকাও পাল্টে যাবে। সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবিকার উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দেশে বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে যাচ্ছে।

তিন. এশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চীনে জন্ম নেওয়া ভাইরাসটি বিশ্ব বদলে দিবে অথচ এশিয়ার পরিবর্তন করবে না তা হয় না! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পুরো এশিয়ার একক নেতৃত্ব হয়তো চীনের হাতে চলে যাবে। এশিয়ার দুই পরাশক্তির দেশ চীন-ভারত।

ইতোমধ্যে ভারতকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে চীন। যেমন, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো হলো, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ভুটান, চীন, বার্মা ও বাংলাদেশ। এরমধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোতে সবক্ষেত্রেই চীনের প্রভাব অপরিসীম। সবাই চীনের অর্থনীতির কাছে জিম্মি।

ভারতের আমদানি বাণিজ্যে চীনের ভুমিকা অপরিসীম। ভারতের জিডিপি অনেকটা নির্ভর করে চায়নার কাচামালের উপর। এখন বাংলাদেশও হাত দিয়েছে চায়না। চীন সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশে। যেমন, অর্থনৈতিক, কারিগরি-প্রযুক্তি, চিকিৎসা সহ নানা দিকে। চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোন ও অর্থনৈতিক সুবিধার লোভে চাপা পড়ছে বাংলাদেশ। সুতরাং অদুর ভবিষৎএ হয়তো চীনের দিকেই ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ। সেই পরিপেক্ষিতে ভারত একঘরে হতে পারে অনেকটা। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতা কিছুটা হলেও ভুলে যাতে পারে। এর কারণ হিসেবে ভারতীয় একগুঁয়েমি এবং বড়ভাইনীতি দায়ী হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিলেও ভারত তেমন কিছু দেয়নি বাংলাদেশকে। শুধু কাগজে বা মুখে বন্ধুপ্রতীম হলে তো একটা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাচুক্তি ও সীমান্তহত্যা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলিয়ে রেখেছে ভারত। চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা ভারত পেলেও, তা চায়নার হাতে বন্দরের মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর তাই আভাস দিচ্ছে। পাকিস্তান, ভারত আর চীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলেও শুধুমাত্র চীন উচ্চ অর্থনীতির দেশ হওয়ায়, এশিয়ার একমাত্র পরাশক্তি হতে যাচ্ছে চায়না এটা অনস্বীকার্য।

চার. বিশ্বও বদলে দিয়েছে করোনা। বিশ্বজুড়ে প্রায় কোটি মানুষকে আক্রান্ত করে সাড়ে চার লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিলো করোনা। তবে সঠিক পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যাবে। আধুনিক বিশ্বে ও তাদের প্রযুক্তি করোনার নিকট কতোটা অসহায় এটাই তার প্রতিচ্ছবি। ইউরোপ আমেরিকাকে সবাই এত উন্নত মনে করতো, অথচ তাদের দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি! চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। বিশ্বের অর্থনীতিও টালমাটাল করে দিয়েছে করোনা। প্রথম সারির দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার ও চায়নার অবস্থানও বদলে যাবার আভাস মিলেছে। হয়তো পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ ও হামলাগুলো কিছুদিন ধরে জিরিয়ে নিচ্ছে। গত চারমাস যাবৎ কোন দেশে জঙ্গি হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু তবুও পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বসে নেই। চীন যদি সত্যি সত্যি করোনা ভাইরাস ইচ্ছেকৃত ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে আগামীতে চীনই রাজত্ব করবে এই পৃথিবীতে। কারণ এ-র কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং এরা ছড়িয়ে থাকলে, এরা ঔষধও আবিষ্কার করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। হয়তো ওরাই সর্বপ্রথম ঔষধ রপ্তানি করবে পুরো পৃথিবীতে। এক্ষেত্রে চীন অর্থনীতিতে এক নাম্বার পজিশনে চলে আসবে। আর যদি করোনা চীনের জৈব কারখানায় সৃষ্টি না হলেও চীন আমেরিকার উপর নিশ্বাস ফেলবে। কারণ এই করোনা কালেও তাদের উৎপাদন ও অর্থনীতি একদিনের জন্যও বসে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আজ চীনের হাতের মুঠোয়। আর পুরো পৃথিবীর দুশো দেশই who এর নির্দেশে চলছে। যুদ্ধবাজ আমেরিকার অস্ত্রের বাজারের বৃহৎ একটি অংশও চীন ও রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। এতে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে চীনও প্রতিদ্বন্দ্বী করবে আরো বেশি। রাশিয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে চীনকে শতভাগ সাপোর্ট দিবে। শুধুমাত্র আমেরিকাকে ধরাশায়ী করার জন্য। সেক্ষেত্রে রাশিয়াও কিছুটা চায়না নির্ভর হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্ত অবস্থান নাড়িয়ে দিতে পারে চীন। তেল বাণিজ্যে বড়ভাগ বসাতে পারে চীন। ক্রীড়াতেও ইউরোপের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েতে যাচ্ছে। সর্বপরি পৃথিবীর বাণিজ্যে এখন যা আছে, তারচেয়ে বড় একটা অংশ একক আধিপত্যে নিবে চীন এটা অনস্বীকার্য। তাই পৃথিবীতে আমেরিকার রাজত্বে কিছুটা ভাটা পড়তে যাচ্ছে এটা সুনিশ্চিত। আর পৃথিবীব্যাপী চীনের বাণিজ্য ও ঋণের বোঝা সবাইকে ভোগাবে।

তবুও সুন্দর একটা সকালের চিন্তা করে পৃথিবী। এই করোনার বদলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নিতে চায় পৃথিবী। প্রানখুলে নিঃস্বাস নিতে চায় পৃথিবী। মৃত্যুপুরি থেকে মুক্তি চায় পৃথিবী। সেটা আমেরিকা-চায়না বা, যে কেউই দিক না কেন, মানুষই হাতেই থাকবে সেই চাবি।

লেখক:সৌরভ প্রিয় পাল
সমাজকর্মী ও ক্রীড়াবিদ।

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।