খুঁজুন
, ,

বয়সের কারণে মির্জা ফখরুলের মতিভ্রম ঘটেছে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 June, 2021, 5:33 pm
বয়সের কারণে মির্জা ফখরুলের মতিভ্রম ঘটেছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। যেখানে সবাই প্রশংসা করছে সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি বলে ? দেশের ৫০ বছরের অর্জন নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন তাতে মনে হচ্ছে বয়সের কারণে উনার মতিভ্রম ঘটেছে। বিএনপির ডাক্তারদের সংগঠন ‘ড্যাব’ কে অনুরোধ জানাবো মির্জা ফখরুলের মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করাতে।

তিনি বলেন, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪১ শতাংশ ছিল সেখান থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আজকে বিশ্বের পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে একসময়ের ঋণ গ্রহিতার বাংলাদেশ এখন অন্য দেশকে ঋণ দেয়। বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা এই সমস্ত উন্নয়ন দেখতে পায়না। প্রতিদিন মিথ্যা কথা অব্যাহত রেখেছে। তাদের রাজনীতির মূল বিষয় হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং তারেক রহমানের শাস্তি।

রোববার (২০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী বহলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপকারভোগীদের মাঝে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে দুইশতক জমিসহ ঘরের কবুলিয়তনামা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে দেশের ৫০ বছরের অর্জন আওয়ামী লীগ নষ্ট করে দিয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এরআগে গণবভন থেকে রাঙ্গুনিয়ায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের দুইশতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া প্রান্ত থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান ও উপকারভোগী জাহানারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ইউএনও এসময় দুই দফায় রাঙ্গুনিয়ার ১৬৫টি গৃহহীন অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে দুইশতক জমিসহ সেমিপাকা ঘরনির্মাণ করে হস্তান্তর এবং দলীয় ভাবেও আরো কিছু ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগে অনেক মানুষের মানসম্মত গৃহ ছিলনা, বঙ্গবন্ধু কন্যার ঘোষণা অনুযায়ী এখন গৃহের সমস্যারও সমাধান হয়েছে। এখন যারা ঘর পেয়েছে তারা কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি এভাবে জমিসহ ঘর পাবেন, এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলবেন। স্বপ্নকেও হার মানিয়েছে তাদের প্রাপ্তি। এই ধরণের ঘটনা আমাদের দেশে কখনো ঘটেনি, অন্য কোন দেশে ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না।

তিনি বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দুই’শ বিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছি। আমরা অন্যান্য দেশকেও ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। আজকে বাংলাদেশকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের মহাসচিব, জার্মান প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. অর্মত্য সেন প্রশংসা করে। কিন্তু বিএনপি ও তার মিত্ররা প্রশংসা করতে পারেনা।

বেগম জিয়ার সুস্বাস্থ্যের সাথে দীর্ঘায়ু কামনা করে তথ্যও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, কিন্তু আপনারা দেখেছেন খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকাকালীন প্রতিদিনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব এবং তাদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেছেন। এবং দাবী দিয়েছেন তাকে সুস্থ করার জন্য বিদেশ নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বাড়ি ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশে তিনি ভাল সুচিকিৎসা পেয়েছেন এবং ভাল চিকিৎসা পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তারা যে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবী করেছিল সেটি যে অমূলক তা প্রমাণ হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে পাকিস্তানে হা-হুতাশ হয় আর ভারতের টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় বিতর্কের ঝড় উঠে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই অগ্রযাত্রায় সমস্ত মানব উন্নয়ন সূচক, সামাজিক সূচক, অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তান আমাদের পেছনে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলেছি, ভারতে মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে দুই হাজার ডলার, সেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে, জুন মাসে তা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা মানব উন্নয়ন সূচক এবং সামাজিক সূচকে ভারতকে বহু আগেই পেছনে ফেলেছি। মহামারীর মধ্যে প্রায় সবদেশে মাইনাস জিডিপি গ্রোথ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে পজিটিভ জিডিপি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে কোন গৃহহীন মানুষ থাকবে না। মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান। অন্ন সমস্যার সমাধান বহু আগে হয়েছ। একসময় বাংলাদেশকে কেউ কেউ বলতো তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ, সেই বাংলাদেশ এখন উপচে পড়া খাদ্যে উদ্ধৃত্তের দেশ। দূর্যোগ দূর্বিপাকে আগে আমরা অন্য দেশ থেকে সাহায্য নিতাম, এখন আমরা বিভিন্ন দেশকে সাহায্য করি। নেপালের ভূমিকম্পে আমরা ৩০ হাজার মেট্টিক টন চাল সহায়তা দয়েছি। শ্রীলঙ্কা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য দেশকেও আমরা সহায়তা দিয়েছি।

তিনি বলেন, একসময় পুরানো কাপড় বস্তাভরে এদেশে আসতো, সেই ধোলাই করা পুরনো কাপড় আমরা বিভিন্ন বাজার থেকে কিনে পড়তাম। আর এখন আমাদের দেশে সেলাই করা কাপড় বিদেশে যায়, তারা সেই কাপড় পড়ে এখন তাদের সাহেবগিরী বজায় রাখে। এভাবে বস্ত্রের সমস্যার সমাধানও হয়েছে। এখন বাসস্থানের সমাধানও করছেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, মেয়র শাহজাহান সিকদার, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদার, সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোহামামদ সেলিম, গিয়াস উদ্দিন খাঁন স্বপন, ইউপি চেয়ারম্যান নুর কুতুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/পায়েল

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।