খুঁজুন
, ,

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

Feb2
Feb2

সিএমপির দুই থানায় ওসি বদলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 7 October, 2026, 8:04 pm
সিএমপির দুই থানায় ওসি বদলি

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে খুলশী থানার বর্তমান ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

আদেশ অনুযায়ী, চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, খুলশী থানার বর্তমান ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে, খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১ মাস ১০ দিনের মাথায় বদলি হলেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ছিলেন।

লিংকে ক্লিক, তারপরেই সর্বনাশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 7 October, 2026, 7:46 pm
লিংকে ক্লিক, তারপরেই সর্বনাশ

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধও। অনলাইন স্ক্যাম, অচেনা লিংকে চাপ দিয়েই অন্যের মোবাইল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

মুহূর্তেই লিংকে চাপ দেওয়া ব্যক্তি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা।

সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দীনের মোবাইল ফোন হ্যাক করে ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।

ভুক্তভোগী মো. জামাল উদ্দীন থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করেন, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে দোকানে থাকা অবস্থায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি সন্দেহজনক নোটিফিকেশন আসে। বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বাতিল করলেও কিছুক্ষণ পর মোবাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে, যা তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে আপডেট শেষ হলে তিনি লক্ষ্য করেন, মোবাইলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। এ সময় তার জি-মেইল ও গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত ব্যাংক হিসাব, পিন কোডসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য নিয়ে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা একটি বেসরকারি ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে কয়েক ধাপে মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার ৪৫০ টাকা উত্তোলন করে নেয়।

আরেক ভুক্তভোগী সাইফ নাহিদ বলেন, ‘আমি বিদেশে থাকি। বাবা অসুস্থ থাকায় দেখাশোনার জন্য আল আমিন হোসেন নামের একজনকে দায়িত্ব দেই। জানুয়ারি থেকে সে চাকরিতে যোগ দেয়। ঘটনা শুরু হয় ১১ সেপ্টেম্বর। হঠাৎ দেখলাম, আমার অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স ৮২৫ টাকা। বিষয়টি দেখতে আব্বাকে ফোন দিলাম, কারণ আব্বার মোবাইলেও এক্সেস আছে। উত্তরে তিনি বলেন, জানেন না। পরে দেখি, আলামিনের নম্বরে নগদ ও বিকাশে ট্রানজেকশন হয়েছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশের ভয় দেখালাম। তারপর সে স্বীকার করে- তার ভুল হয়েছে। ট্রানজেকশন করা ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ফেরত দেয়’।

তিনি আরও বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর আল আমিন আবারও দুটি ট্রানজেকশন করে। একটি ৫ হাজার আরেকটি ৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। পরে খুঁজে দেখি, আমার আব্বার ৪ লাখ টাকার একটি এফডিআর ভেঙে সেখান থেকে ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিল সে। তবে ওইদিন রাতেই মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালের পাশের একটি ক্যাশ পয়েন্ট থেকে আরও ৬০ হাজার, ৮০ হাজার ও ২২ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেয়।

বিষয়টি জানতে পেরে তাকে জিজ্ঞেস করি, এই টাকা সে নিয়েছে কি-না। আমার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীকে জানালে তারা আমার বাসায় আসেন। সকালে তার বাবা আসার কথা থাকায় আমরা রাতভর অপেক্ষা করি। এর মধ্যেই ভোর ৬টার দিকে আল আমিন পালিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমার আব্বার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করার হুমকি দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আল আমিন প্রায় ২ লাখ টাকা নেয়। পরে সেই টাকা আড়াল করতে বিভিন্নভাবে আরও ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা সরিয়ে নেয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি’।

সাইবার স্ক্যামিংয়ে টাকা হারিয়েছেন পেশায় ফটো সাংবাদিক হায়দার আলী। তিনি বলেন, ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর মোবাইল স্ক্রলিং করছিলাম। এ সময় ১২ হাজার টাকার একটি রিসিভ মানির ম্যাসেজ আসে। মোবাইলের ইনবক্স চেক করে দেখলাম, কোনো টাকা বা ম্যাসেজ আসেনি। প্রথমে চোখের ভুল ভেবেছি। রাত ১২টায় রিচার্জ করতে গিয়ে ওই মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের অ্যাপে দেখি- ব্যালেন্স শূন্য। পরে দেখি, আমার কোনো টাকা নেই। ৭০০ টাকা ছিল, লেনদেন ও সিটি ব্যাংকের লোনের অ্যামাউন্ট এক্সেস ছিল ১২ হাজার। পরে চেক করে দেখি, লোনটা আমার অজান্তেই নিয়ে নিয়েছে। আমার কাছে কোনো ওটিপি চায়নি, পিন কোডও আসেনি। পুলিশ বলছে, আমি অনলাইন স্ক্যামের শিকার হয়েছি’।

যেভাবে মোবাইল নিয়ন্ত্রণে নেয় হ্যাকাররা

মোবাইল হ্যাকিংয়ের বিষয়ে কথা হয় একজন প্রযুক্তিবিদের সঙ্গে। তিনি জানান, হ্যাকিং মূলত অনেকভাবেই করা যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে মানুষকে টার্গেট করা হয়, তার অসাবধানতার কারণে হ্যাকিংটা করতে পারে। যেমন: লোভনীয় অফার দেখিয়ে কিছু লিংক পাঠানো হয়। পরে লোভে পড়ে ভুক্তভোগী ফিশিং লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে তার পুরো ফোনের এক্সেস চলে যায় হ্যাকারের হাতে।

অনেক সময় লিংকে ক্লিক করার পর একটি অচেনা সফটওয়্যার তাদের মোবাইলে ইনস্টল হয়ে যায়। সেই সফটওয়্যারে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ থাকে, কল লিস্ট, গ্যালারি, ডিভাইসের যাবতীয় ব্যাংকিং অ্যাপের এক্সেস দেওয়া থাকে। পরে টার্গেট করা ব্যক্তি তার ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ঢুকলে তখন পাসওয়ার্ডটি হ্যাকারদের কাছে চলে আসে। এভাবেই প্রতারণাগুলো বেশি হয়। তারা এমন লোভনীয় অফার দিয়ে লিংক পাঠাবে, যা আপনি ক্লিক করতে বাধ্য।

যেভাবে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাবেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. ইকবাল আহমেদ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড ভেরিফিকেশন কোড। এগুলো কোনো অবস্থাতেই কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। ব্যাংক, মোবাইল বা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা অন্য কোনো কাস্টমার কেয়ার থেকে যদি ফোন দেয়, যাচাই করতে হবে তা সঠিক কি-না। পরিচিত এসএমএস, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে যে কোনো ধরনের লিংকে ক্লিক করা যাবে না। অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে ‘পুরস্কার পেয়েছেন’, ‘সরকারি ভাতা এসেছে’- এই ধরনের বিভিন্ন প্রতারণামূলক ম্যাসেজ আসে। অনেক সময় ছবি বা ভিডিও থাকে। এমন প্রলোভন বা ভয় দেখিয়ে সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা। অনেকেই মোবাইলে থাকা অ্যাপ আপডেট করে না। নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। পাসওয়ার্ড, পিন বা অন্যান্য সিকিউরিটির পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের মতো সিকিউরিটি ব্যবহার করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাইবার প্রতারণার একটি বড় অংশ সরাসরি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে হচ্ছে- বিষয়টি তা নয়। এখন মানুষকে কৌশলে বিশ্বাস করিয়ে সব ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাকে টেকনিক্যাল ভাষায় সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। প্রতারকরা অনেক সময় মোবাইল হ্যাক বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইলে ম্যাসেজ দেয়। সেক্ষেত্রে খুব কৌশলে সেটি ব্যবহার করে আমাদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তারপর আমরা আমাদের পিন, ওটিপি শেয়ার করে ফেলি। ফিশিংসহ কাস্টমার কেয়ারের নম্বর, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাকাউন্ট, স্ক্রিন শেয়ারিংসহ আরও বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়।

সরকারও বাড়িয়েছে নজরদারি

সম্প্রতি এসব ঘটনায় সরকারও নজরদারি বাড়িয়েছে। এআই আর নানাভাবে অনলাইনে মানুষের প্রতারণা ঠেকাতে কাজ করবে বিশেষ ইউনিট। ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল নিয়ে গত ১ অক্টোবর সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ। দুনিয়াতে সাইবার রিলেটেড অ্যাক্টিভিটিস বেশি। আগের ওল্ড-স্কুল থট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাইবার রিলেটেড এই ইউনিট আরও অনেক আগে রেইজ করা উচিত ছিল। আশা করি, আমরা সফলকাম হবো এবং সাইবার সম্পর্কিত সমস্ত অপরাধকে আমরা কমব্যাট করতে পারবো, ফাইট করতে পারবো’।

ওয়াকিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নন, ওসি ছাত্রদল-যুবদল নিধনে নেমেছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 7 October, 2026, 6:12 pm
ওয়াকিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নন, ওসি ছাত্রদল-যুবদল নিধনে নেমেছেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি (ওসি) পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছেন। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বলেও মানতে নারাজ মেয়র।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ঈদগাঁহ রূপসা বেকারি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডা. শাহাদাত।

মেয়র বলেন, ওয়াকিল গত ১৭–১৮ বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তিনি ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিমের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। তখন তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও তিনি এখন খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন কীভাবে, সেটি তার প্রশ্ন।

ডা. শাহাদাতের দাবি, আব্দুর রহিম খুলশী থানার ওসি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি হৃদয় নামের এক তরুণ হত্যার ঘটনায় করা মামলাকে কেন্দ্র করেও ওসি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন মেয়র। তার ভাষ্য, ওই মামলার আসামি কামরুলকে পুলিশ মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইয়ের নাম বলতে বাধ্য করেছে-এমন অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)ওয়াকিলের দুই ভাই তার কাছে এসেছিলেন।

মেয়র বলেন, তার কাছে আসা ওয়াকিলের দুই ভাই অভিযোগ করেছেন, কামরুলকে মারধর করে জোর করে ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে। পরে ওয়াকিল ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রসেনও একই কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এমনকি মামলার বাদীও ওয়াকিলকে কামরুলের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেননি বলে মেয়র দাবি করেন।

ওয়াকিলকে তিনি আশ্রয় দিয়েছেন—এমন প্রচারেরও প্রতিবাদ করেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘ওয়াকিল নিজে তার কাছে আসেননি, তার দুই ভাই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। ওয়াকিল যদি কোনো মামলার আসামি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত হন, তাকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

মেয়রের গাড়িতে করে ওয়াকিল নগর ভবন থেকে বেরিয়ে গেছেন, এমন প্রচারের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শাহাদাত। তিনি বলেন, তিনি প্রকাশ্যেই গাড়িতে উঠেছেন এবং সেখানে সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে ওয়াকিল আমার গাড়িতে উঠেছেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ প্রমাণ ছাড়া এমন খবর প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তার দাবি, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার ‘ভালো ইমেজ নষ্ট’ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকাকালে আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাকলিয়ায় আয়োজিত একটি মেজবান থেকে খাবারের ডেকচি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগেরও স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ বা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ধরতে আমরা চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ কর্মকর্তা কেন সেই কাজ করবেন, সেটাই আমার প্রশ্ন।’

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে ধরতে নগর ভবনে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও তাকে আটক করা যায়নি। এ অভিযানকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে হট্টগোল, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের ওই অভিযান ও ওয়াকিলের নগর ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেয়রের হস্তক্ষেপে তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মেয়রের গাড়িতে করে সরে যান—এমন অভিযোগও ওঠে। তবে মেয়র তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে খুলশীর ওয়্যারলেস এলাকায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। ওই সময় তার বাসার একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। হামলায় খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সম্প্রতি, খুলশীতে কিশোর হৃদয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘সেভেন স্টার’ নামের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনায় ওয়াকিল ও তার ভাইয়ের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ৪ অক্টোবর ওই গ্যাংয়ের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।