খুঁজুন
সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সকলের দায়িত্ব চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি রক্ষায় এগিয়ে আসা।

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
সকলের দায়িত্ব চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি রক্ষায় এগিয়ে আসা।

ইকবাল হোসেন :

চট্টগ্রামের ফুসফুস বলা হয় এই সিআরবি চত্বরকে। সবুজে ঘেরা সারি সারি সুবিশাল বৃক্ষ। কোনো গাছের বয়স একশ বছর। কোনোটির বয়স দুশোর বেশি। বয়সের ভারে এই বৃক্ষগুলো ন্যুব্জ হয়নি, বরং শতবছরেও গাছগুলো ধরে রেখেছে তাদের সবুজের সজীবতা।

দুই’শ বছরের ঐতিহ্যম-িত বৃক্ষরাজিবেষ্টিত সিআরবি এলাকার সবুজ সরিয়ে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরাও চাই,হাসপাতাল হোক তবে সিআরবি তে না।অন্য কোনো জায়গায় হাসপাতাল গড়ে উঠুক সেটাই পুরো চট্টগ্রাম বাসীর কামনা।চট্টগ্রামের কিছু মানুষ মীরজাফরের ভূমিকা পালন করছে,ঐসব মীরজাফর গুলো কে চট্টগ্রাম বাসী স্মরণী ও বরণীয় করে রাখবে। সিআরবি নিয়ে কখনো ব্যবসা করতে দেয়া হবে না।সিআরবির সাথে জড়িয়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। চট্টগ্রামের মানুষ বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে হলেও মুক্তিযুদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সিআরবি কে রক্ষা করবে।

আজ এই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সবুজ বলয় শঙ্কিত সিআরবি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কিছু তস্কর হাসপাতাল বানাতে চাই এই সিআরবি চত্ত্বরে।চট্টগ্রামের মানুষ এতেই শঙ্কায় আছেন।যদি সিআরবিতে হাসপাতাল করবার অনুমতি পত্র দিয়ে দেন,রেলওয়ের কতৃপক্ষ,তাহলে,এখানকার শতবর্ষী গাছেরা যাবে কোথায়? এখানকার পাখি-পতঙ্গদের কে দেবে আশ্রয়? মানুষ বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার আর একটু সবুজের সান্নিধ্য পাবে কোথায়?হাসপাতাল অবশ্যই দরকার। এই করোনা মহামারিতে আমরা স্পষ্ট টের পাচ্ছি কত নিবিড়ভাবে আমাদের হাসপাতাল দরকার। কিন্তু, একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে গিয়ে এক ঐতিহাসিক পাবলিক সবুজ বলয়কে বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া কোনো সংবেদনশীল উন্নয়নবিধি নয়। কারণ,এই সবুজ বলয়ও মানুষসহ নানা প্রাণসত্ত্বাকে বিনামূল্যে অক্সিজেন যোগায়,বেঁচে থাকার সামাজিক-পরিবেশগত-মানসিক রসদ যোগায়।
শঙ্কা এ কারণেই যে, কোনো বৃহৎ অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণে আমরা দেখেছি বারবার কত নিদারুণভাবে বৃক্ষ, পাখি, পতঙ্গসহ বুনো প্রাণী নিশ্চিহ্ন করা হয়। নির্দয়ভাবে পাহাড়ি টিলা চুরমার করে সিলেট বা চট্টগ্রাম শহর গড়ে তোলা হয়েছে। এসব শহর আজ ঝলমলে প্লাস্টিক, প্রাণ নেই শিরায়।

সিলেটের বিশাল দীঘিগুলো দিন-দুপুরে হত্যা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এসব দীঘির পরিবেশগত অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। নাই হতে হতে চট্টগ্রাম শহরের ‘সিআরবির’ মতো একটি মাত্র পাবলিক সবুজ বলয়ের দিকে আজ তাক করেছে উন্নয়নের অমীমাংসিত তর্ক। তর্কটি কোনোভাবেই হাসপাতাল বনাম সিআরবি নয়। এটি হতেই পারে না।একটি হাসপাতালও সবুজ বলয় ছাড়া সম্ভব নয়, আবার একটি সবুজ বলয় সাজায় প্রাকৃতিক।তবে সিআরবির মতো এক ঐতিহাসিক সবুজ বলয়কে নিহত করে নয়, অন্য কোনো জায়গায়।আশা করছি, সিআরবিকে সুরক্ষিত রেখে জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, বন্দরনগরীর সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্র ডিসি হিলে বেশ কয়েক বছর ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ।সিআরবির শিরীষতলায় বাঙালি সংস্কৃতির চিয়ায়ত অনুষঙ্গ পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ উৎসব আয়োজিত হয়। পাশাপাশি শিরীষতলায় অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়ে থাকে।

সিআরবি এলাকায় বাণিজ্যিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হলে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনও হুমকির মুখে পড়বে।
বর্তমানে নগরের একমাত্র উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ হিসেবে নিত্যদিন প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণের জন্য মানুষ সিআরবিতে আসে। এ ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন এমনকি ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির সময়ে মানুষ সিআরবির পাহাড় ও বৃক্ষছায়ায় আসে প্রশান্তির খোঁজে।সিআরবি চট্টগ্রামে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক অনুষঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে হাসপাতালের মতো স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নয়।
চট্টগ্রামে ঐতিহ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
নগর বা জেলার অন্য কোনো স্থানে রেলওয়ের বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার জমিতে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন না করে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের প্রতি আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্টস ফোরাম পরিবার।

লেখকঃ-মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
              সভাপতি
  রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্টস ফোরাম-চট্টগ্রাম।         বিশ্ববিদ্যালয়।

Feb2

হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র হজ পালনে হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভা কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, পবিত্র হজ সামনে। আজ (রোববার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়েছে। হজযাত্রীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো চিহ্নিত করে তা কীভাবে দূর করা যায় কিংবা কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার হজযাত্রীদের সেবায় যারা নিয়োজিত থাকবেন, তারা সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাজীদের যাতে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

এদিকে, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত থেকে এ বছর হজের ফ্লাইট শুরু হবে। বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এ বছর সরকারি উদ্যোগে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করবেন। এসব হজযাত্রীর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাবেন ৫০ শতাংশ। অন্যরা সোদিয়া এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস বিমান সংস্থার ফ্লাইটে যাবেন।

সভায় হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, হাজীদের সব তথ্যাদি অনলাইনে সন্নিবেশিত করা, হজ এজেন্সির কাজের মূল্যায়ন, যেসব হজ এজেন্সি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করা, হাজীদের গাইডের জন্য মোয়াল্লেম সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের থেকে নিয়োগের (আগামী হজে থেকে) ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। আসছে ১৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

হত্যাচেষ্টা মামলায় দুপুরে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পরই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটু আগে তাকে (সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী) রিলিজ করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে মিছিল করছিলেন মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আশরাফুল।

এর আগে, তার আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই।

দাম বাড়ল ফার্নেস অয়েলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
দাম বাড়ল ফার্নেস অয়েলের

ফার্নেস অয়েলের (এইচএফও) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারে দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। নতুন এই মূল্য রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

রোববার জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুসারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের মূল্য প্রতি তিন মাস অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের গড় দর এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ১৫ মার্চ একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা মার্চ মাসের প্ল্যাটস সূচকভিত্তিক গড় মূল্য এবং বিনিময় হার বিশ্লেষণ করে এপ্রিল মাসের জন্য নতুন মূল্য সুপারিশ করে। পরে ৫ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় ওই সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন দামের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৃহৎ জ্বালানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।