খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমেরিকায় গিয়ে একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি: ড. খন্দকার মোশাররফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
আমেরিকায় গিয়ে একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি: ড. খন্দকার মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা জাপানে গিয়েছিলো, যাওয়ার আগে অনেক কথা বলে গিয়েছি্লো। কিন্তু জাপান থেকে কিছু আনতে পারেনি। তার পরে আমেরিকা গিয়েছিলো। সেখানে সরকারি দফতরের একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি। এই প্রধানমন্ত্রীকে আমেরিকা সরকার থেকে কেউ ওয়েলকাম করতে আসেনি। আমেরিকা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখাত হয়েছেন।’

তিনি শুক্রবার (১৯ মে) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী নসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মেদ সড়কে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ভিপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সি যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপির সি যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম।

তিনি বলেন, ‘যারা টাকা পাচারে জড়িত তাদের নাম সরকার মুখে আনছে না। কারণ তাদের লোকই এই টাকাগুলো পাচার করেছে। এইভাবে সরকার দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ গরীব মানুষ দু’বেলা খেতে পারে না, মধ্যবিত্ত মানুষ গরীব হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে এই অর্থনীতি ঠিক করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে। দেশের টাকা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছে। কানাডা, আমেরিকায় বাড়ি করেছে। মালয়েশিয়ায় থাকার ঘর করেছে। এসব আমাদের কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব কথা বলেছে।

‘এই সরকার যেখানে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে, সেখানে আর তারা বিচারবিভাগকে স্বাধীন করতে পারবে না। এই সরকার যেখানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্নভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে সেটা আর পুনরদ্ধার করতে পারবে না। তাই এদেশের জনগণ এই অবৈধ ও স্বৈরাচারী সরকারকে প্রত্যাখান করেছে। শুধু এই দেশের জনগণ নয় সারা দেশের মানুষ আজ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখান করেছে।’

‘ওয়াশিংটনের রাস্তায় মানুষ স্লোগান দিয়েছে শেখ হাসিনা ভোট চোর। সেখানে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে হঠাৎ করে বসে একটি ছবি দিয়ে সারা দেশের মানুষকে বোকা বানাতে চেয়েছে শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ সরকার স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কোনো বৈঠক হয়নি।’

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে আবার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায়, যারা এই দেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে, অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করেছে, সামাজিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, সুশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে সেই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় মানুষ আর দেখতে চায় না।’
‘আজকে স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আবার গায়েবি মামলা শুরু করেছে। নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার শুরু করেছে। আজকে আমরা বলতে এসেছি আর কোনো গায়েবি মামলা হতে পারবে না। আর কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।’

আওয়ামী লীগ আবার বাকশাল করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকারকে আর এই দেশের মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যত তাড়াতাড়ি বিদায় হও, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। এইসব কথা কিন্তু জনগণ আওয়াজ তুলেছে। এই আওয়াজকে আজকে আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকে সরকার সবজায়গায় ব্যর্থ হয়ে দেশে-বিদেশে মিথ্যাচার করছে। বানোয়াট কথা বলছে। জনগণ তাদের কথায় বিশ্বাস করে না।’

‘কারণ জনগণ জানে এই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পরে ক্ষমতায় থাকার সময় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সকল রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করে বাকশাল সৃষ্টি করেছিলো। জনগণ সে বাকশালকে প্রত্যাখান করেছিল। আজকে এই সরকার গত ১৪ বছর যাবৎ গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসে আবার বাকশাল করার চেষ্টা করছে। তারা একবার গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে আবার করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাজই হচ্ছে গণতন্ত্রকে হত্যা করা আর বিএনপির কাজ হচ্ছে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করা। আজকে সারাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। চট্টগ্রামে কিছুদিন আগে একটি উপনির্বাচন হয়েছে। সে উপনির্বাচনে এত সরকারের নেতা,মন্ত্রীদের প্রচারের পরও ভোট দিয়েছে শতকরা মাত্র ১৪ ভাগ মানুষ। এটা লজ্জার বিষয়।’

‘এবার নাকি শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবে। এই কথা কেউ বিশ্বাস করে না। এসব বানোয়াট কথা। বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অবৈধ সংসদ বাতিল করতে হবে। অন্তবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, আজকে জনগণ জেগে ওঠেছে। জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। যদি ক্ষমতা না ছেড়ে নিজের হাতে রাখেন তা হবে আওয়ামীলীগের জন্য অশনি সংকেত। এখন আওয়ামীলীগের কথা বললে জনগণ ছি ছি করে। আওয়ামীলীগ জনগণের দল নয়। জনগণ অচিরেই গনঅভ্যুত্থানের ডাক দিবে। সেদিন আওয়ামীলীগ পালানোর পথ পাবে না। পালানোর জন্য তাদেরকে রাস্তা ফ্রি করে দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, আওয়ামীলীগ দেশকে ধ্বংসের শেষ দিকে নিয়ে গেছে। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। আর বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। বেগম জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করলে একমাত্র দেশের মানুষ বিচার পাবে।

এস এম ফজলুল হক বলেন, দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠেছে। গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিতে হবে। একটা ধাক্কা দিতে পারলে এই সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ এই সরকারের কোনো ভিত্তি নাই।

সমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকের এই জনসভা জন সমুদ্রে পরিনত হয়েছে। শেখ হাসিনা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছে, আমাকে আমেরিকা ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা বলতে চাই, শুধু বিদেশিরা না, দেশের মানুষও শেখ হাসিনাকে এক মুহুর্তের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চায় না। শেখ হাসিনা ভোট চোর। তার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলন শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে আমরা গরে ফিরবো।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দিকে দিকে আওয়ামী লীগের পতনের ধবনি শোনা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বিবিসিকে বলেছে, আমেরিকা আওয়ামীলীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। এই বক্তব্যে কিন্তু মেসেজ আছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজরা রেহাই পাবে না। জনতার কাতারে তাদের বিচার হবে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছে এই সরকার। দেশে আর কোন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোন অধিকার নাই। আওয়ামীলীগের অধীনে কোন নির্বাচন মেনে নেবো না। আওয়ামী লীগের তথাকথিত সংসদ সদস্যরা কোন ধরনের ভোট ডাকাতির সুযোগ পাবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে যে বাধা সরকার সৃষ্টি করেছে সেই বাধা তুলে নিতে হবে। অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, জনতার জোয়ার এসেছে। এই জোয়ারে স্বৈরাচারের মসনদ ভেসে যাবে। বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা অনেক দিয়েছেন। কারাগারে আর কত জায়গা আছে? পুলিশের আর কত গুলি আছে?

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, চট্টগাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এম.এ হালিম, অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, নুরুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, আলহাজ সালাউদ্দিন, ইঞ্জি, বেলায়েত হোসেন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, সরওয়ার আলমগীর, কাজী সালাউদ্দিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মো, শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক মো. আলমগীর, সদস্য সচিব কামাল পাশা নিজামী, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ আফসার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, তাঁতীদলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান টিটু, শ্রমিকদলেব তাহের আহম্মেদ সহ বিভিন্ন স্থরের নেত্ববৃন্দ।

Feb2

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।