খুঁজুন
, ,

আমেরিকায় গিয়ে একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি: ড. খন্দকার মোশাররফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 19 May, 2023, 9:07 pm
আমেরিকায় গিয়ে একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি: ড. খন্দকার মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা জাপানে গিয়েছিলো, যাওয়ার আগে অনেক কথা বলে গিয়েছি্লো। কিন্তু জাপান থেকে কিছু আনতে পারেনি। তার পরে আমেরিকা গিয়েছিলো। সেখানে সরকারি দফতরের একজন পিওনের সাথেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেনি। এই প্রধানমন্ত্রীকে আমেরিকা সরকার থেকে কেউ ওয়েলকাম করতে আসেনি। আমেরিকা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখাত হয়েছেন।’

তিনি শুক্রবার (১৯ মে) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী নসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মেদ সড়কে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ভিপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সি যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপির সি যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম।

তিনি বলেন, ‘যারা টাকা পাচারে জড়িত তাদের নাম সরকার মুখে আনছে না। কারণ তাদের লোকই এই টাকাগুলো পাচার করেছে। এইভাবে সরকার দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ গরীব মানুষ দু’বেলা খেতে পারে না, মধ্যবিত্ত মানুষ গরীব হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে এই অর্থনীতি ঠিক করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে। দেশের টাকা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছে। কানাডা, আমেরিকায় বাড়ি করেছে। মালয়েশিয়ায় থাকার ঘর করেছে। এসব আমাদের কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব কথা বলেছে।

‘এই সরকার যেখানে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে, সেখানে আর তারা বিচারবিভাগকে স্বাধীন করতে পারবে না। এই সরকার যেখানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্নভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে সেটা আর পুনরদ্ধার করতে পারবে না। তাই এদেশের জনগণ এই অবৈধ ও স্বৈরাচারী সরকারকে প্রত্যাখান করেছে। শুধু এই দেশের জনগণ নয় সারা দেশের মানুষ আজ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখান করেছে।’

‘ওয়াশিংটনের রাস্তায় মানুষ স্লোগান দিয়েছে শেখ হাসিনা ভোট চোর। সেখানে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে হঠাৎ করে বসে একটি ছবি দিয়ে সারা দেশের মানুষকে বোকা বানাতে চেয়েছে শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ সরকার স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কোনো বৈঠক হয়নি।’

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে আবার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায়, যারা এই দেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে, অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করেছে, সামাজিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, সুশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে সেই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় মানুষ আর দেখতে চায় না।’
‘আজকে স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আবার গায়েবি মামলা শুরু করেছে। নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার শুরু করেছে। আজকে আমরা বলতে এসেছি আর কোনো গায়েবি মামলা হতে পারবে না। আর কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।’

আওয়ামী লীগ আবার বাকশাল করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকারকে আর এই দেশের মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যত তাড়াতাড়ি বিদায় হও, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। এইসব কথা কিন্তু জনগণ আওয়াজ তুলেছে। এই আওয়াজকে আজকে আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকে সরকার সবজায়গায় ব্যর্থ হয়ে দেশে-বিদেশে মিথ্যাচার করছে। বানোয়াট কথা বলছে। জনগণ তাদের কথায় বিশ্বাস করে না।’

‘কারণ জনগণ জানে এই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পরে ক্ষমতায় থাকার সময় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সকল রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করে বাকশাল সৃষ্টি করেছিলো। জনগণ সে বাকশালকে প্রত্যাখান করেছিল। আজকে এই সরকার গত ১৪ বছর যাবৎ গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসে আবার বাকশাল করার চেষ্টা করছে। তারা একবার গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে আবার করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাজই হচ্ছে গণতন্ত্রকে হত্যা করা আর বিএনপির কাজ হচ্ছে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করা। আজকে সারাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। চট্টগ্রামে কিছুদিন আগে একটি উপনির্বাচন হয়েছে। সে উপনির্বাচনে এত সরকারের নেতা,মন্ত্রীদের প্রচারের পরও ভোট দিয়েছে শতকরা মাত্র ১৪ ভাগ মানুষ। এটা লজ্জার বিষয়।’

‘এবার নাকি শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবে। এই কথা কেউ বিশ্বাস করে না। এসব বানোয়াট কথা। বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অবৈধ সংসদ বাতিল করতে হবে। অন্তবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, আজকে জনগণ জেগে ওঠেছে। জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। যদি ক্ষমতা না ছেড়ে নিজের হাতে রাখেন তা হবে আওয়ামীলীগের জন্য অশনি সংকেত। এখন আওয়ামীলীগের কথা বললে জনগণ ছি ছি করে। আওয়ামীলীগ জনগণের দল নয়। জনগণ অচিরেই গনঅভ্যুত্থানের ডাক দিবে। সেদিন আওয়ামীলীগ পালানোর পথ পাবে না। পালানোর জন্য তাদেরকে রাস্তা ফ্রি করে দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, আওয়ামীলীগ দেশকে ধ্বংসের শেষ দিকে নিয়ে গেছে। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। আর বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। বেগম জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করলে একমাত্র দেশের মানুষ বিচার পাবে।

এস এম ফজলুল হক বলেন, দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠেছে। গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিতে হবে। একটা ধাক্কা দিতে পারলে এই সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ এই সরকারের কোনো ভিত্তি নাই।

সমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকের এই জনসভা জন সমুদ্রে পরিনত হয়েছে। শেখ হাসিনা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছে, আমাকে আমেরিকা ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা বলতে চাই, শুধু বিদেশিরা না, দেশের মানুষও শেখ হাসিনাকে এক মুহুর্তের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চায় না। শেখ হাসিনা ভোট চোর। তার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলন শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে আমরা গরে ফিরবো।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দিকে দিকে আওয়ামী লীগের পতনের ধবনি শোনা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বিবিসিকে বলেছে, আমেরিকা আওয়ামীলীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। এই বক্তব্যে কিন্তু মেসেজ আছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজরা রেহাই পাবে না। জনতার কাতারে তাদের বিচার হবে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছে এই সরকার। দেশে আর কোন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোন অধিকার নাই। আওয়ামীলীগের অধীনে কোন নির্বাচন মেনে নেবো না। আওয়ামী লীগের তথাকথিত সংসদ সদস্যরা কোন ধরনের ভোট ডাকাতির সুযোগ পাবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে যে বাধা সরকার সৃষ্টি করেছে সেই বাধা তুলে নিতে হবে। অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, জনতার জোয়ার এসেছে। এই জোয়ারে স্বৈরাচারের মসনদ ভেসে যাবে। বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা অনেক দিয়েছেন। কারাগারে আর কত জায়গা আছে? পুলিশের আর কত গুলি আছে?

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, চট্টগাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এম.এ হালিম, অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, নুরুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, আলহাজ সালাউদ্দিন, ইঞ্জি, বেলায়েত হোসেন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, সরওয়ার আলমগীর, কাজী সালাউদ্দিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মো, শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক মো. আলমগীর, সদস্য সচিব কামাল পাশা নিজামী, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ আফসার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, তাঁতীদলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান টিটু, শ্রমিকদলেব তাহের আহম্মেদ সহ বিভিন্ন স্থরের নেত্ববৃন্দ।

Feb2
Feb2

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।