খুঁজুন
, ,

ভারতে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই, দাবি মোদির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 23 June, 2023, 10:47 am
ভারতে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই, দাবি মোদির

ভারতে ধর্মীয় বৈষম্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার দাবি, তার সরকারের অধীনে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হয় না।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দাবি করেন।

যদিও ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাংবাদিকদের নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ সামনে এনেছে বহু মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। শুক্রবার (২৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর করছেন। ২০১৪ সালে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকবারই দেশটিতে সফরে গেছেন এবং তবে প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণের কারণে মোদির এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের শুরুতেই মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মোদি। এমনকি মোদির মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠিও লিখেছেন ৭৫ জন মার্কিন আইনপ্রণেতা।

ওই চিঠিতে ওয়াশিংটন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ভারতে মানবাধিকারের বিষয়গুলো উত্থাপন করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে অনুরোধ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ওই ৭৫ জন সদস্য। মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের এই আইনপ্রণেতারা সবাই ডেমোক্র্যাট দলীয়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, তিনি হোয়াইট হাউসে আলোচনার সময় মোদির সাথে মানবাধিকার এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পরে প্রেস কনফারেন্সে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ‘আপনার দেশের মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অধিকারের উন্নতি এবং বাকস্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য আপনি কি পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক,’ এমন প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তাদের উন্নতি করার দরকার নেই।

মোদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সংবিধান ও আমাদের সরকার এবং আমরা প্রমাণ করেছি, গণতন্ত্র ঠিকমতো চলতে পারে। জাতি, ধর্ম, ধর্ম, লিঙ্গ ইস্যুতে ভারতে (আমার সরকারে) বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।’

রয়টার্স বলছে, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত প্রতিবেদনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভারতে মুসলমান, হিন্দু দলিত, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দেশটির সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে এনেছে।

মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
এদিকে নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বহু সংখ্যক বিক্ষোভকারী হোয়াইট হাউসের কাছে জড়ো হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেন ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিলের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর অজিত সাহি। তিনি বলেছেন, ‘মোদির চিন্তা করা উচিত কেন প্রেস ব্রিফিংয়ে তাকে প্রথম প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এটা সবার কাছে স্পষ্ট যে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।’

ভারতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে হিন্দুত্ব ওয়াচ নামে একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রাকিব হামিদ নায়েক বলেছেন, ‘মোদির মন্তব্য (তার সরকারের অধীনে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই) সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য একটি কালো গহ্বরে পরিণত হয়েছে।’

২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি পাঁচবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মর্যাদার সাথে এই সফরটিই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে মোদির প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। যদিও মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির অধীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

ওয়াশিংটন দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আশা করছে। কারণ চীনকে মোকাবিলায় ভারতকে পাশে রাখা প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। তবে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বিগ্ন যে, ভূরাজনীতির হিসেব-নিকেশে হয়তো ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো চাপা পড়ে যাবে।

আর এ কারণে বেশ কয়েকটি মার্কিন মানবাধিকার গোষ্ঠী আগেই মোদির সফরের সময় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনকে মোকাবিলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের গুরুত্ব এবং উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ওয়াশিংটনের পক্ষে ভারত ও তার সরকারের মানবাধিকারের সমালোচনা করা বেশ কঠিন করে তুলেছে। আর এ কারণেই বৃহস্পতিবার মোদির জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছেন বাইডেন।

রয়টার্স বলছে, মার্কিন কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী সদস্য প্রতিনিধি ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইব প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো অন্যান্য প্রগতিশীল আইন প্রণেতাদের সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে মোদির ভাষণ বয়কট করেছেন। মূলত ভারতীয়

ভিন্নমতাবলম্বী এবং সংখ্যালঘুদের – বিশেষ করে মুসলমান – ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে মোদির ভাষণ বয়কট করেন তারা।

মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, মোদির আক্রমনাত্মক হিন্দু জাতীয়তাবাদ ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য জায়গাকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।

নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ভারত সরকারের নীতির সুবিধা সকলের কাছেই পৌঁছাচ্ছে। তবে মানিবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভারতে ভিন্নমতাবলম্বী, সংখ্যালঘু এবং সাংবাদিকরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

Feb2
Feb2

দরবারে হাশেমীয়ায় ঐতিহাসিক ১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী শীর্ষক সেমিনার শুরু আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 11:16 pm
দরবারে হাশেমীয়ায় ঐতিহাসিক ১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী শীর্ষক সেমিনার শুরু আজ

নগরীর জালালাবাদস্থ দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার,ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত বিশ্ব মানবতার মুক্তির অনন্য দিশারী, শফিউল মুজনেবিন, রহমাতুল্লিল আলামিন, রাসূলে পাক (দ.)’র এই দুনিয়ায় শুভাগমন উপলক্ষে ৫০তম ঐতিহাসিক পবিত্র ১২দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শীর্ষক সেমিনার – ২০২৬ইং আন্জুমানে মুহিব্বানে রাসূল (দ.) গাউছিয়া জিলানী কমিটি ও গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় আজ ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা হতে দরবার সংলগ্ন ঈদে মিলাদুন্নবী ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।

দরবারে সাজ্জাদনশীন পীরে তরীকত হাফেজ মাওলানা কাযী মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হাশেমীর সভাপতিত্বে আজকের প্রথম দিবসে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম গহিরা এফ.কে জামেউল উলুম মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস,মুফতিয়ে আহলে সুন্নাত মুফতি আল্লামা ইব্রাহীম আল কাদেরী (মুঃজিঃআ), হাটহাজারী ছিপাতলী আলীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফাচ্ছির আল্লামা গাজী শফিউল আলম নেজামী (মুঃজিঃআ), রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা কাযী মুহাম্মদ ইউনুছ রেজভী(মুঃজিঃআ), জালালাবাদস্থ ফয়যানে হাশেমী ইসলামী সেন্টারের উপাধ্যক্ষ মাওলানা কাযী ওমর ফারুক আলকাদেরী, গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাওলানা মনির আহমদ আনোয়ারী, ফটিকছড়ি দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা জাফর উদ্দীন কামালী। এছাড়াও দেশবরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় সাংসদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

১২দিন ব্যাপী এই শীর্ষক সেমিনারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র খতমে কোরআন, খতমে বোখারী শরীফসহ ফজিলতপূর্ণ বিভিন্ন খতমাদি ও কসিদা,নাতে রাসূল, মানকাবাত, শাজরা শরীফ পাঠ এবং রাসূলে পাক (দ.)’র ৬৩ বছরের জিন্দেগীর উপর নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্যনির্ভর আলোচনা।

উক্ত সেমিনারে দলে দলে যোগদান করে রাসূলে পাক (দ.)’র নীতি আর্দশ ধারণ করার ও নিজেদের উভয় জাহানের কামিয়াবী হাসিল করার জন্য সমগ্র সুন্নী মুসলমানের প্রতি দরবারের সাজ্জাদানশীন ও সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমী আহ্বান জানান।

কেউ চান মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউ চিকিৎসার টাকা—গণশুনানিতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 6:15 pm
কেউ চান মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউ চিকিৎসার টাকা—গণশুনানিতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ

তিন মেয়েকে নিয়ে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই বিধবা সারাবান তাহুরার। সন্তানের হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজীব দাশ। বাবা-মাকে হারানো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিজান মিয়ার উচ্চশিক্ষা থমকে যাওয়ার শঙ্কা অর্থাভাবে। আবার কেউ প্যারালাইসিস, হৃদ্‌রোগ কিংবা দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পারছেন না।

ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) তাঁরা হাজির হয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে। সঙ্গে ছিল নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে লেখা আবেদনপত্র।

তবে শুধু আবেদন গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একে একে আবেদনকারীদের কথা শোনেন তিনি। জানতে চান তাঁদের পরিবার, আয়-রোজগার, চিকিৎসা, পড়াশোনা ও বসবাসের বর্তমান অবস্থা। পরে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রয়েছেন বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সারাবান তাহুরা। প্রায় দুই বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর জীবন বদলে যায়। তাঁর মেয়েদের বয়স ১০, ৮ ও ৪ বছর। স্বামী পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন। সেখানে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিন মেয়েকে নিয়ে দেশে ফেরেন সারাবান।

দেশে ফিরে প্রথমে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় প্রায় এক বছর আশ্রয় পান। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্ব চাম্বল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ হয়। কিন্তু ঘরটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ থাকায় সেটিও ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

নিজের কোনো জমি বা বসতভিটা নেই সারাবানের। সেলাইয়ের কাজ করে তিন মেয়ের ভরণপোষণ চালান। সন্তানদের নিয়ে আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় নিজ এলাকা বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাস জমিতে একটি ঘর নির্মাণ বা পুনর্বাসনের আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যান তিনি।

গণশুনানিতে সন্তানের চিকিৎসার আবেদন নিয়ে এসেছিলেন চন্দনাইশের রাজীব দাশ। তাঁর শিশুসন্তান জন্মগত হার্নিয়ায় আক্রান্ত। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সন্তানের চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে আটকে না থাকে, সে জন্য জেলা প্রশাসকের সহায়তা চান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিজান মিয়ার লড়াইটা আবার ভিন্ন। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। পরিবারে তাঁর পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো উপার্জনক্ষম কেউ নেই।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে পাঠ্যবই অডিও আকারে রেকর্ড করে পড়তে হয় মিজানকে। পরীক্ষায় প্রয়োজন হয় শ্রুতিলেখকের। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় তাঁর পড়াশোনার খরচও বেশি। আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এককালীন অনুদানের আবেদন করেন তিনি।

চিকিৎসার অর্থ চেয়ে গণশুনানিতে এসেছিলেন পটিয়ার রাজমিস্ত্রি আজিজুল হকও। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না তিনি। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলের সংসারের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফটিকছড়ির হাফেজ মো. আবু তাহের ২০২২ সালে স্ট্রোক করার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি; কথা বলতেও পারেন না। নিজের জায়গা-জমি নেই, উন্নত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই। সেই অসহায়ত্বের কথা জানাতেই জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছিলেন তিনি।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত পিয়া আকতারের নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি রয়েছে অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের ভরণপোষণের চিন্তা। দুর্ঘটনায় ডান পা পুড়ে যাওয়া উম্মে সানিয়া পুষ্প তিন মাস ধরে অসুস্থ। ছেলে সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। আর্থিক সংকটে থাকা লুবনা আকতার ও হাজেরাও সহায়তার আশায় আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হন।

প্রত্যেকের কথা আলাদাভাবে শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুধু আবেদনপত্রে লেখা তথ্য নয়, তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও সরাসরি জানতে চান তিনি। কারও চিকিৎসা, কারও পড়াশোনা, আবার কারও পরিবার চালানোর সংকট বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

জেলা প্রশাসনের সাপ্তাহিক এই গণশুনানিতে তাই বুধবারের দৃশ্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন জীবনসংগ্রামের। কারও চাওয়া একটি নিরাপদ ঘর, কারও সন্তানের চিকিৎসা, কারও আবার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়। তবে অসহায় মানুষগুলোকে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়া, তাঁদের সংকটের কথা শোনা এবং জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাপ্তাহিক গণশুনানি হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি জায়গা।

ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 9:47 am
ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অবরোধ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও জাহাজটির ক্রুরা তা উপেক্ষা করেন বলে দাবি করেছে সেন্টকম।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় জাহাজটির কোনো ক্রু আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে কমে এলেও নতুন এই হামলা পরিস্থিতিকে ফের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে ১৩ দিন ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর হামলা অনেকটাই থেমে যায়। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের আওতায় এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অকার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘অমান্যকারী’ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি জাহাজকে অচল করা এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।