খুঁজুন
, ,

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 3 May, 2026, 3:33 pm
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।

Feb2
Feb2

রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 11:03 pm
রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারী) কল্যাণ ট্রাস্টের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে বিরোধ ও আইনি জটিলতা আরও গভীর হয়েছে। ভোটার তালিকা, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই, আপিলের সময়সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক প্রার্থী। এর মধ্যেই আগামী ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণে আপাতত অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন “গ” গ্রুপ এর বৈধ প্রার্থী আহামুদুর রহমান টিটু,প্রধান সহকারী, ডিটিও,ঢাকা দপ্তর।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারী) কল্যাণ ট্রাস্টের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৬-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৩০ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের সময় নির্ধারিত ছিল।

তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় একাধিক কর্মচারীর নাম, পদবি ও কর্মস্থলসংক্রান্ত ভুল-ত্রুটি,অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, চাকুরী হইতে অব্যাহতি নেওয়া কর্মচারী, মৃত ব্যক্তির নাম,বদলীজনিত ব্যক্তি,কর্মস্থল থেকে অনেক দূরের কর্মচারী ছিল। কয়েকজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিক কেন্দ্রে থাকার বিষয়ও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংশোধনের জন্য ০২ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২৯ জুলাই প্রকাশিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের খসড়া তালিকায় একজন প্রার্থীকে বৈধ এবং অন্য ০২ জন কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে আপিলের সুযোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীপক্ষের দাবি, নির্বাচনী নীতিমালা ও তফসিলে আপিলের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

মামলার নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে অবৈধ ঘোষিত এক প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের ০৮ মিনিট পর আপিল জমা দেন। নথিতে আপিল গ্রহণের সময় ১৪:০৮ মিনিট উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ৩০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাড়ে সাতটার দিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ‘সাময়িকভাবে বৈধ’ বা ‘স্থগিত’ প্রার্থী হিসেবে রাখা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রার্থীকে তার সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তির প্রমাণ দাখিলের জন্য সময় দেওয়া হয়।

এরপর ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের একটি অফিস স্মারকের মাধ্যমে ওই প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা এবং ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বাদীপক্ষ এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

আদালতে কারণ দর্শানোর নোটিশ
বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর সংশ্লিষ্টদের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হয়েছে। নথিতে ৬ আগস্টের নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত অফিস স্মারক বাতিল, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে প্রার্থিতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের আদেশ চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অফিস স্মারকের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

ভোটে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন ” গ” গ্রুপ এর মই মার্কার বৈধ প্রার্থী আহামুদুর রহমান টিটু।

এই আইনি জটিলতার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি ১৬ আগস্টের নির্বাচনে আপাতত ভোটগ্রহণে অংশ নেবেন না। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বরং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বার্থে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধের কারণ, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও তাদের অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন।

কী হতে যাচ্ছে?
১৬ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে আদালতে বিচারাধীন বিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভোটগ্রহণে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপরই এ বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।

এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

স্পোর্টসকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 7:37 pm
স্পোর্টসকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ক্যারিয়ার হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। তাই স্পোর্টস ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু বই পড়ার মধ্য দিয়ে একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ ও দক্ষ নাগরিক তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের খেলার মাঠ, খেলোয়াড় এবং ক্রীড়াঙ্গন নানা দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। তাদের মোবাইল আসক্তি থেকে বের করে খেলার মাঠে নিয়ে আসতে হবে।সেইসাথে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে,যারা প্রতিভাবান এবং খেলাধুলায় ভালো করবে, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতা এবং স্কুল পর্যায়ে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জার্সি, ব্যাগ, জুতা ও যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই স্কুলের ছেলেমেয়েরা। তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন।

ক্রীড়া সংগঠকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে দলাদলি ও বিভাজন পরিহার করে খেলাধুলার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যারা খেলাধুলাকে ভালোবাসেন, তাদের ক্রীড়ার উন্নয়নে এবং যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসেন, তাদের সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে।

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খানেঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মশিউল আলম স্বপন সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে আসা ব্যাক্তিবর্গসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পর মাঠে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হয়।

শিপইয়ার্ডে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 7:05 pm
শিপইয়ার্ডে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের একটি এলএনজি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা ও আহত শ্রমিকের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন এ টাকা দেবে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর টিম গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের টিম গেছে। একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে। যাতে বিশেষজ্ঞ থাকবে। রিপোর্ট পেলে বুঝতে পারব সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছিল কিনা।