খুঁজুন
, ,

দুর হবে পটিয়াবাসীর দুঃখ! দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬ রুটে চলবে এসআলমের ১শ বাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 January, 2020, 11:04 am
দুর হবে পটিয়াবাসীর দুঃখ! দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬ রুটে চলবে এসআলমের ১শ বাস

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। রাজীব সেন প্রিন্স,চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া রুটে বাসে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি দূরীকরণে চট্টগ্রাম সিনেমা প্যালেস থেকে পটিয়া স্টেশন পর্যন্ত নতুন বাস সার্ভিস চালু করেছে দেশের বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ।এস আলম বাস

এছাড়াও আগামী দু একদিনের মধ্যে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়া রুটে এস আলমের নতুন বাস সার্ভিসটি চালু হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে এই সার্ভিসের উদ্ধোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় এস আলম গ্রুপের পরিচালক (টেকনিক্যাল) শহীদুল আলম ও ডিসি ট্রাফিক (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানয়ারি চট্টগ্রাম সিনেমা প্যালেস থেকে শুরু হওয়া বাস সার্ভিসের ৩২ আসনের বাসগুলোতে প্রতি সিটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। নগরীর সিনেমা প্যালেস থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে আধ ঘণ্টা পরপর ৩০টি বাস আসা যাওয়া করবে। পরবর্তীতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়নো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এস আলম বাস ভাড়া

তবে ভাড়াটা একটু বেশি হয়েছে মন্তব্য করে ভাড়াটা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানটির উদ্দ্যেক্তা ও গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন পটিয়াবাসীরা। তাছাড়া নগরীর কোতোয়ালি ও শাহ আমানত ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় আলাদা যাত্রী কাউন্টার রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ও ব্যাংকার সৌরভ দে নতুন বাস সার্ভিসটি চালু করায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ এবার লাঘব হবে।

শহর থেকে বাড়ি আবার বাড়ি থেকে শহর মুখী হতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বরে এবং পটিয়ার বিভিন্ন স্টেশনে গণপরিবহনের জন্য যাত্রীদের আর যুদ্ধ করতে হবে না।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহণ মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা যাত্রীরা এবার কিছুটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। চালক ও হেলপারদের নৈরাজ্য সীমা নিয়ন্ত্রণে আসবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ও যাত্রী হয়রানী হ্রাস পাবে বলে মনে করেন পটিয়ার এ বাসিন্দা।

একই এলাকার রুবেল দে নামে এক শিক্ষকও পটিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করে নতুন এ বাস সার্ভিস চালু করায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। তবে ভাড়াটা একটু বেশি হয়েছে জানিয়ে তা ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে যাত্রীদের সুবিধার্থ এ নগরীর কোতোয়ালি ও নতুন ব্রিজে আলাদা বাস কাউন্টার রাখার জন্য কতৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ জানান।

এস আলম গ্রুপ কর্মকর্তারা জানায়, চট্টগ্রাম নগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহণ সংকট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। শীঘ্রই এসি ও নন এসি মিলে ২০০ বাস নামাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস থেকে ইতিমধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া রুটে এ বাস সার্ভিস শুরু হয়েছে। আগামী দুএকদিনের মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি রুটে এ সার্ভিসটি চালু হবে।এস আলম বাস ভাড়া কাউন্টারে

জানা যায়, নগরীর প্রধান ব্যস্ততম রুট কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা, লালদীঘি থেকে ভাটিয়ারী এবং নিউমার্কেট থেকে ফতেয়াবাদ রুটগুলোতে চলাচলের জন্য অন্তত ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ আসনের ১শ এসি বাস নামানোর কথা ভাবছে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে নতুন বছরের শুরু থেকে মহানগর রুটে বাস চলাচল শুরু হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ আরো ৬টি রুটে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১শ নন এসি বাস সার্ভিসটি চালু এবং এসব সার্ভিস তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য আরো ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কতৃপক্ষ।

ভারতের গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি অশোক লেল্যান্ড থেকে এসব বাস সরবরাহ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি বাসগুলোর চেসিস সরবরাহ করবে। আর বডি প্রস্তুত হবে দেশেই। এস আলম গ্রুপ বাসগুলো সরবরাহ করতে কার্যাদেশ দিয়েছে এবং বিআরটিএ’র রোড পারমিট ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অনুমোদন পেলে আগামী মাস থেকে মহানগর রুটে বাসগুলো চলাচল শুরু করবে।

এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে ৩০টি বাস দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুটি রুটে নতুন সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে।

সিনেমা প্যালেস-পেকুয়া-মগনামা-মহেশখালী ও সিনেমা প্যালেস-পটিয়া ছাড়াও শীঘ্রই দক্ষিণ চট্টগ্রামে আরো ৪টি রুটে বাস সার্ভিসটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

রুটগুলোর মধ্যে থাকছে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী, চট্টগ্রাম-সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম-লোহাগাড়া ও চট্টগ্রাম-চকরিয়া। নগরী ও দক্ষিণ জেলার ৯টি রুটে বাস সার্ভিসটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে অন্তত ৫শ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছেন এসআলম গ্রুপের কর্মকর্তারা।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্দ্যেগে সার্ভিসটি পুরোপুরি চালু হলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল। তিনি বলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুরোধ রক্ষা করেছেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

বাসে অনিয়ম, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, যেখানে-সেখানে বাস থামানো বন্ধ করতে এবং যাত্রীদের স্বস্তির জন্য সিটি মেয়র এসআলম গ্রুপকে অনুরোধ করেছেন নগরীতে তাদের প্রতিষ্ঠানের বাস নামাতে।

এ ব্যাপারে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও স্বীকার করেছেন নগরীকে আরো সুন্দর করতে এবং গণপরিবহণের নৈরাজ্য ও হয়রানী থেকে নগরবাসীকে স্বস্থি দেওয়ার উদ্দ্যেশে আমি এস আলম গ্রুপকে নগরীতে বাস নামানোর জন্য আমি অনুরোধ করেছিলাম, তারা রাজি হয়েছে।

এস আলম গ্রুপ বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। পরিবহন, হোটেল, ঢেউটিন, সয়াবিন তেল, সিমেন্ট, চিনি, সিআর কয়েলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা গড়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পায় এস আলম গ্রুপ।

এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ
শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ

গ্রুপটি কয়েক বছর আগেও তেল, গম, চিনি আমদানিতে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা থেকে কিছুটা সরে এসে জ্বালানি, সিমেন্ট, ইস্পাত, ঢেউটিন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এসব ব্যাংক ছাড়াও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিট্যাল ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মালিকানা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।