খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি’র রোডমার্চে বাবার ছবি দেখে বিষপান করা ছাত্রলীগ নেতার পাশে তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বিএনপি’র রোডমার্চে বাবার ছবি দেখে বিষপান করা ছাত্রলীগ নেতার পাশে তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রামে বিএনপি’র রোডমার্চে অংশনেয়া বাবার ছবি দেখে ক্ষোভে বিষপান করা রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা নীরব ইমন (২২) কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গেলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৩ নং ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ইমনের পাশে কিছু সময় কাটান তথ্যমন্ত্রী। এসময় তিনি অসুস্থ ছাত্রলীগ নেতার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা ও চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ছাত্রলীগ নেতার বাবা মোহাম্মদ জহিরের হাতে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

এরআগে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মালিরহাট এলাকার আলকাজ পন্ডিত বাড়ির নিজ বসতঘরে বিষপান করেন নীরব ইমন। সে পোমরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তার বাবা জহির ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।

বৃহস্পতিবার ইমনের বাবা মোহাম্মদ জহির (৪৫) চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইমনের মেসেঞ্জারে পাঠান তার বন্ধুরা। বিএনপির রোডমার্চে তার বাবার অংশ নেয়াকে মেনে নিতে পারেননি ইমন। ক্ষুুদ্ধ ইমন বাড়িতে ছুটে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে রাগারাগি করেন এবং একপর্যায়ে বিষপান করে বসেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

অসুস্থ ইমন শুক্রবার চমেক হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ রাজনীতি করে দেশের উন্নয়নের জন্য, আমার বাবা অনেকদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, কিন্তু তার দল রাঙ্গুনিয়ায় কোন উন্নয়ন করেনি। রাঙ্গুনিয়ায় আমাদের নেতা তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন, হাজার হাজার ছেলেমেয়ের চাকুরি হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, আমার বাবাকে অনেকবার নিষেধ করেছি সে শুনেনি। বাবা অন্য দলের রাজনীতি করবে আর বন্ধুরা সেটা আমাকে দেখিয়ে দিবে সেটা মেনে নিতে পারিনি। এসময় তার বাবা মোহাম্মিদ জহিরও পাশে উপস্থিত ছিলেন।

চমেক হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এম এ সাত্তার বলেন, বিষপানে অসুস্থ ইমনকে ৪৮ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রথমে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন খারাপ অবস্থায় ছিল। তাকে ওয়াশ করা হয়েছে। এখন তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারবে।

Feb2

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের বিবেক, মানবিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণ। কেবল শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অভিভাবক হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধেই নিহিত।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শনিবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা” শীর্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সমাজে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মধ্যে ছুটছে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আমরা নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে ফেলছি। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ-পদবি নয়, তার মানবিক সত্তা।

তিনি বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, চাঁদের যদি আলো না থাকে, সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তাহলে যেমন তাদের মূল্য থাকে না, তেমনি মানুষের যদি মানবিকতা না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে তারও কোনো মূল্য থাকে না।”

রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের স্কাউট আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান মানুষ তৈরির লক্ষ্য থেকেই স্কাউটিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজও সেই দর্শন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী খারাপ মানুষের কারণে নয়, বরং ভালো মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি, মানুষ হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে? মানুষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ বা ডিগ্রি অর্জন নয়; বরং বড়দের সম্মান করা, ছোটদের ভালোবাসা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু বই থেকে শিক্ষা নেয় না; তারা তাদের শিক্ষকদের জীবনাচরণও অনুসরণ করে। আমরা কি আমাদের সন্তানদের সামনে এমন একজন মানুষকে দাঁড় করাতে পারি, যাকে দেখে বলতে পারব—তুমি তাঁর মতো হও?”

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ দেশের মানুষ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের কোনো বড় খনিজ সম্পদ নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ এই দেশের মানুষ। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।” এই মানবসম্পদকে দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেধা পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বহু মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে উৎসাহিত হবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে প্রযুক্তি একসময় মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির তথ্য মানুষের সাক্ষ্যের চেয়েও বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় মানুষের বিবেক, সততা ও নৈতিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে না চাইলে আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতায়, তার মূল্যবোধে এবং তার দায়িত্ববোধে।”

মাদক ও সামাজিক অপরাধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ছাড়া মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সৎভাবে কাজ করি, মানবিকতা ও বিবেককে জাগ্রত করি, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদ।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন।

অনুষ্ঠান শেষে স্কাউটিংয়ে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি স্কাউট গ্রুপ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা এবং আলহাজ্ব এয়াকুব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বানিজ্যিক এলাকা চৌমুহনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত খালেদ চৌধুরীর পুত্র।

স্থানীয়দের ধারণা, কর্ণফুলি নদীর বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম। এ সময় রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এই ঘটনায় যেই বা যারা জড়িত থাকুক তদন্তপূর্বক জড়িততের আইনের আওতায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। অপরাধীরা বিন্দুমাত্রও ছাড় পাবেনা। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্য বলেন, পুলিশী তদন্ত চলছে। একটু সময় দিতে হবে। আপনারা সহযোগিতা করলে খুব দ্রুত অপরাধীদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।