খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল চিকিৎসা সাজিনাস হাসপাতালে, গ্যাংগ্রিন সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
ভুল চিকিৎসা সাজিনাস হাসপাতালে, গ্যাংগ্রিন সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু

পৃথিবীতে আসার পর মায়ের বুকের উষ্ণতা ঠিকমতো পাওয়ারও সুযোগ হয়নি। বাবার আঙুল ধরে হাঁটা, প্রথম হাসি, প্রথম ডাক কিংবা ভবিষ্যতের অসংখ্য স্বপ্ন, সবকিছু থেমে গেছে কয়েকদিনের ব্যবধানে।

জন্মের পর শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে লড়াই করে যখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিল এক নবজাতক, তখন তার বাম হাতে দেখা দেয় ভয়াবহ জটিলতা। হাতের কয়েকটি আঙুল কালো হয়ে যায়, পরে পুরো হাতে ছড়িয়ে পড়ে গ্যাংগ্রিন (রক্ত সঞ্চালনের অভাবে পচনশীল ক্ষত)।

জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় ছোট্ট হাতটি। কিন্তু ততক্ষণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কাছে হার মানে নবজাতকটি।

চট্টগ্রামের এক মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ একটি পোস্ট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি অভিযোগ করেছেন, সাজিনাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে তার সন্তানের হাত নষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেই জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ।

আমাতুল মাকনুন নামের ওই মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের সময় অক্সিজেন সংকট ও নিউমোনিয়ার কারণে শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। সে কারণে তাকে চট্টগ্রামের সাজিনাস হাসপাতাল লিমিটেডের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। ঈদুল আজহার ছুটিতে চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন অন্য চিকিৎসকেরা।

তিনি লিখেছেন, চিকিৎসার কয়েকদিন পর সন্তানের অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দেখে আসতেন। পঞ্চম দিন এক চিকিৎসক তাকে জানান, শিশুটিকে এনআইসিইউ থেকে বের করে কেবিনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। খবর শুনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। সেদিন অনেক অনুরোধ করে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সন্তানের পাশে কাটানোর সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সন্তানকে দেখার সময় তার বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান মা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই’। কিন্তু পরদিন চিকিৎসকদের ডাকে গিয়ে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তা তার ভাষায় জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাথে সাথে চিৎকার দিলাম। গতকাল দেখে গেলাম ভালো, আজকে কেন এই অবস্থা? আমি বুঝে গিয়েছি- ওরা ক্যানোলাতে কিছু ভুল করেছে। এটা সেলুলাইটিস হয়ে গ্যাংগ্রিনের দিকে চলে যাচ্ছে’।

মায়ের অভিযোগ, শিশুটির বাম হাতের নিচের অংশ, তর্জনী ও অনামিকাসহ কয়েকটি আঙুল কালো হয়ে গিয়েছিল। প্রথমদিকে চিকিৎসকেরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হয়। ভাসকুলার সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক শিশুটিকে দেখেন এবং চিকিৎসা দেন। একপর্যায়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়।

সেই আশ্বাসের কারণেই পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরদিন শিশুটির হাতের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তখন পরিবার তাকে দ্রুত রাজধানীতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাওয়ার আগে শিশুটির হাতে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর ব্যান্ডেজ খুলে চিকিৎসকেরা দেখতে পান হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে গেছে।

তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকায় ব্যান্ডেজ খোলার পর দেখলাম হাতের কব্জি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন। ওইটা থেকে পুরো বডিতে অনেকটাই ইনফেকটেড হয়েছে। ওর অর্গানগুলো কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছিল’।

রাজধানীর একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, শিশুটির জীবন বাঁচাতে আক্রান্ত হাতটি কেটে ফেলতে হবে। সেই মুহূর্তের বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান শিশুটির মা। তাঁর ভাষায়, ‘হাত ছাড়া না হয় আমার বাচ্চা বাঁচবে, এই বলে মনকে বুঝ দিয়েছিলাম’।

পরিবারের সম্মতিতে অস্ত্রোপচার করে শিশুটির হাত অপসারণ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সংক্রমণ শরীরের ভেতরে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। রক্তচাপ কমে যায়, শরীরের রং পরিবর্তিত হয়, লিভার ও পেট ফুলে যায়। একাধিক জটিলতার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট শিশুটি।

সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে মা লিখেছেন, ‘পরের দিন পুরো শরীরের কালার চেঞ্জ হলো, প্রেসার লো হলো, পেট ও লিভার ফুলে গেলো। দুইবার কার্ডিয়াক অ্যাটাকের পর আমার নিষ্পাপ যোদ্ধা সন্তান মারা গেল’।

আমাতুল মাকনুন বলেন, ‘সন্তানের হাতে জটিলতা দেখা দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। শেষ দুইদিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে পর্যন্ত আসেননি। রিলিজ সামারিতেও প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল না। ঢাকার ইবনে সিনা, এভারকেয়ার-সব জায়গার ডাক্তার আমাদের বলেছিলেন- ভুল ট্রিটমেন্ট আর অনভিজ্ঞতার কারণে আমার বাচ্চার এই অবস্থা হয়েছে। ওরা আমার বাচ্চাকে সবাই মিলে খুন করেছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। কেউ কেউ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সাজিনাস হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সরওয়ার কাশেম রাসেল বলেন, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল থেকে ক্যানোলা ইনফেকশন নিয়েই আসে পেশেন্ট। আমরা বিষয়টি লক্ষ্য করার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই। দুইদিন উন্নতিও লক্ষ্য করি কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া হয়। শিশুটিকে যে চিকিৎসাগুলো দেওয়া হয়েছিল তার ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আছে। গ্যাংগ্রীন হয়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়ার মত সুযোগ নেই। তাই শিশুটিকে যে চিকিৎসক চিকিৎসা করেছেন- ডা. ফয়সাল, তিনি ঢাকা এভারকেয়ারে নিয়ে যেতে বলেন। সব ধরনের ব্যবস্থাও করে রেখেছিলন। কিন্তু পেশেন্টকে এভারকেয়ারে না নিয়ে ইবনে সিনায় নেওয়া হয়। এতে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মত সময় নষ্ট হয়। যখন ইবনে সিনা থেকে এভারকেয়ারে নেওয়া হয় তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাজিনাস হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Feb2

ক্রিকেটারকে মারধর, জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটারকে মারধর, জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের

জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার শওকত আলী।

শনিবার (১৩ জুন) সিএমপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিএমপি কমিশনার বলেন, নাঈম হাসানের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনেছি। বিষয়টি জানার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, ঘটনাটিতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের আচরণ পেশাদারসুলভ ছিল না। পুলিশের কোনো সদস্য যদি অপেশাদার আচরণ করেন, তাহলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে তাকেই বহন করতে হবে এবং বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই সদস্য হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাশেদ। এছাড়া অভিযানে অংশ নেওয়া পুরো টিমের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় মামলা করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে কোনো অবৈধ বস্তু পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামানো হয়েছিল। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশকে অবশ্যই পেশাদার আচরণ করতে হয়। সেই জায়গায় ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, সেটিই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে একজন ব্যক্তি নাঈম হাসানকে মারধর করেছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে শওকত আলী বলেন, ওই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। তিনি নিজেও এ ঘটনার জন্য দুঃখিত। বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই অপেশাদার আচরণকে প্রশ্রয় দেয় না এবং কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়মের দায় পুলিশ বিভাগ নেবে না।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নগরের লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে আটক করে মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ক্রিকেটার হেনস্তা: এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটার হেনস্তা: এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।

মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।

পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার (১৩ জুন) সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান ওসি আরিফুর রহমান।

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে এসেই বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) ঢাকা থেকে বেসরকারি বিমান ইউএস-বাংলা বিমানযোগে দুই যুগ পর কক্সবাজারে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে প্রিয় নেতাকে বরণ করে শুভেচ্ছা জানান।

১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পিএমখালীর এই পাতলী খালটি তারই অন্যতম সাক্ষী, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রথম দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে রাতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।