খুঁজুন
, ,

নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 12 October, 2023, 4:42 pm
নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন-এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইচ্ছা করলে এই সরকারের আকার ছোটও করতে পারেন, যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন। এটা অন্য কারও ভাবনার বিষয় নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আওয়ামী লীগ বাদ দেয়নি। উচ্চ আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। এখন আর প্রয়োজন নেই-এ জন্য আদালত এটা বাতিল করেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের তো কোনো বিষয় না। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনকে যেভাবে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তারাই সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজন করবে। এখানে সরকার নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনগুলো মেটাবে। পুলিশবাহিনীও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা, সরকারী সংস্থা-তারাও নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকবে। শেখ হাসিনার সরকার তখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। মেজর কোনো পলিসি ডিসিশন নিতে পারবে না। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও এটাই হয়।

একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের উল্লিখিত এসব কথা বলেন। ঘণ্টাব্যাপী আলাপকালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি, ইশতেহার প্রণয়ন, প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচনের আগে সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের কার্যকলাপসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি না-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নিজেরাই তাদের দফা বলে দিয়েছে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, ইসির পদত্যাগ-এগুলো না হলে তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। নির্বাচন কমিশন তাদের দুইবার ডেকেছিল, তারা যায়নি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি একবার তাদের ডেকেছিলেন, সেখানেও তারা (বিএনপি) যায়নি। আসলে তারা এসব আলোচনার পক্ষে নয়। এখন সরকার কি গায়ে পড়ে আলোচনা করবে, বিএনপি তো সরকারেরই পদত্যাগ চায়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রস্তুতি কেমন চলছে? মূল প্রতিশ্রুতি বা নির্বাচনি ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য কী হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি তফশিল ঘোষণা করলে নির্বাচন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বা ১০ তারিখের মধ্যে হতে পারে। কারণ, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আছে। এর আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ফলে নির্বাচনের তো খুব বেশি দেরি নেই। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি আরও ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এখন সেটা আরও জোরদার হচ্ছে।

নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোটের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা নির্বাচন হয়তো এককভাবে করব না। আমাদের ১৪ দলীয় জোট তো আছে, থাকবেই। আরও বেশি কিছু দল আছে, যারা জোট করার পক্ষপাতী। শেষ পর্যন্ত কারা আসে, কতটা বড় হয়-এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিটি নির্বাচনেই আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। এটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও করে আবার আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও করেন। ছয় মাস পরপরই এই রিপোর্টগুলো তার কাছে জমা হয়। এগুলো দেখে কোথায় কার কী অবস্থা, কার কেমন জনপ্রিয়তা-এসব বিষয় এসেসমেন্ট করেন। এ প্রক্রিয়াগুলো আমাদের চলে আসছে। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। এখন শেষ পর্যায়ের অনুসন্ধান চলছে। যারা আগ্রহী এবং যারা বর্তমানে এমপি আছেন, অবস্থা বুঝে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোথাও কিছু কম থাকলে সেটা নিরসনের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আমাদের আট সাংগঠনিক বিভাগে যে আটটি কমিটি আছে, এ কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের সম্মেলনের পাশাপাশি তারাও খোঁজখবর নেয়। তারা তাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট নেত্রীর কাছে জমা দেয়। এর সবকিছুই বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আছে আমাদের দলের মনোনয়ন বোর্ড। সেই বোর্ড জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেবে।

ইশতেহারের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ তথ্য জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ইশতেহার প্রণয়নের জন্য একটা কমিটি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। আমাদের দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা এটা করেছেন। এছাড়া আমাদের উন্নয়ন ইতোমধ্যে যেগুলো হয়েছে এবং সামনে যা আমরা করব, সেগুলো থাকবে। উন্নয়ন ও আধুনিকতার দিক থেকে গ্রামগুলোকে শহরের পর্যায়ে উন্নীত করার কাজ আমরা করে যাচ্ছি-এসব বিষয় আমাদের এবারের পরিকল্পনার মধ্যেও আছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমরা প্রতিবারই বাড়াচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলা করেছি। বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি, যা উন্নত দেশও দিতে পারেনি। এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে। তিনি দিনরাত কাজ করেন। তিনি বড়জোর সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। বাকি সময় তিনি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেন। কোথায় কী সমস্যা, সমাধান কীভাবে করতে হবে-এগুলো নিয়ে প্রতিনিয়তই কাজ করেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছি। বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। রিজার্ভ আমরা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছিলাম, সেটা এখন নেমে গেছে। এখানে ডলার সংকটও আছে। আমরা চেষ্টা করছি সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রব্যমূল্য। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি-কিভাবে দ্রব্যমূল্য মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা যায় সেটা আমাদের এই মুহূর্তে মূল ভাববার বিষয়। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-সংঘাত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেটা ভবিষ্যতে কার অবস্থা কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, এটা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। অন্যদিকে দেশে দেশে যুদ্ধ। সর্বশেষ ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধ। যুদ্ধটা কেন যেন ছড়িয়ে পড়ছে। সবাই জোটবদ্ধ হচ্ছেন। বিভিন্ন জোট আমরা দেখছি। জোটের সমীকরণে কোন বিষয় কোন দিকে গড়াবে বলা অত্যন্ত মুশকিল।

সড়ক, পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের গণতন্ত্র শতভাগ ত্রুটিমুক্ত-এটা আমরা মনে করি না। গণতন্ত্র পৃথিবীর কোথাও ত্রুটিমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করতে পারে না-তাদের গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত। তাদের গত নির্বাচনের পর তাদের গণতন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল মেনে নেয়নি। এ অবস্থায় তাদের ২০২৪ সালের নির্বাচন সামনে। এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত হচ্ছে। অভিযোগ চলছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও বলেছেন-ট্রাম্প গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চান। তিনি আরও বলেন, এখন আসলে এদিকে রাশিয়া, ওদিকে চায়না-এই শক্তি বলয়ের মধ্য দিয়ে ব্যালেন্স করে চলার বিষয় আছে। এদিকে আছে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। বিশ্বব্যাপী জোটগত উপকরণগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার ক্ষেত্রে নেতৃতত্বের ম্যাচিউরিটি ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হয়। এটা আমাদের নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) খুব সুচারুভাবে করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নানামুখী তৎপরতা আমরা দেখছি। এগুলো কি তাদের রুটিনওয়ার্ক নাকি এর মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে, যদি বলে নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি- আমরা বলব-তা নিয়ে তো আমাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। কারণ ভিসানীতি আর নিষেধাজ্ঞা তাদের বিরুদ্ধে আসবে যারা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। যারা এই নির্বাচনে বাধা দেবে তারা ভিকটিম হবে। আমরা কেন ভিকটিম হব? আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। ভায়োলেন্স করা আমাদের লক্ষ্য না। সেটাতে আমাদের ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেন এই বিষয়গুলো জটিল করতে চাইছে, এবং রাজনীতির নামে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে? এখন তারা নির্বাচনে বাধা দিলে তো তারাই এই ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান অনুযায়ী করতে চাই। নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। আমাদের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে অসুবিধা কোথায়? সম্প্রতি চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। বিএনপি এই নির্বাচনে অফিশিয়ালি অংশ নেয়নি। তবুও ভোটার উপস্থিতি ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচনকে আস্থায় নিয়েছে। বিএনপির অভিযোগ যে সঠিক নয়, সেটাও প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি এমন একটা দল, তাদের কাছে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন তখনই হবে যখন তাদের নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি দেওয়া হবে।

একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ৭০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করেন। বিএনপি জানে নির্বাচন করলে তারা টিকতে পারবে না। তারা জানে, নির্বাচনে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যাবে। সে কারণে এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এগুলো বলছে। কেন? তারা কখনো বলে-জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন, কখনো বলে বিদেশিরা এখানে এসে প্রভাবিত করবে। এগুলো তো হয় না। আমরা আমাদের সংবিধানে যে বিধিবিধান আছে, এটা মেনেই আমরা নির্বাচন করব। এটা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আসলে বিএনপি এসব উদ্ভট বিষয়গুলো নিয়ে আসছে। কারণ তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। আগুন-সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তাদের পুরোনো অভ্যাস। তারা এগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের একদফা তো আছেই আবার বলছে অক্টোবরে সরকারের পতন ঘটাবে। দেখা যাক, আমরাও প্রস্তুত আছি। আমরা সভা-সমাবেশ করছি। শান্তির পক্ষে। তারা যে অশান্তি করবে বা করছে এটার বিরুদ্ধে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি। শান্তির সমাবেশ থেকে বিএনপির আন্দোলন বা মিছিলে কোথাও আওয়ামী লীগ একটা ভায়োলেন্ট করেনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ-সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আছেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভাগীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে। এ বিষয়ে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নিজেও অনেককে ডেকে কথা বলেছেন। আমরাও ডেকে কথা বলছি। বিভাগীয় কমিটিগুলোও সেখানে যাচ্ছে বা ঢাকায় ডেকে এনে এগুলো সমাধানে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু একই দলের মধ্যে বিষোদগার করা বা কাদা ছোড়াছুড়ি করা অপ্রত্যাশিত। কাজেই এ ব্যাপারে আমরা সজাগ ও সচেষ্ট আছি।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে নতুন করে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা আইনগত ব্যাপার আইনগত ভাবেই সমাধান হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ব্যাপারে নজির আছে।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:42 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।