খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন-এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইচ্ছা করলে এই সরকারের আকার ছোটও করতে পারেন, যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন। এটা অন্য কারও ভাবনার বিষয় নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আওয়ামী লীগ বাদ দেয়নি। উচ্চ আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। এখন আর প্রয়োজন নেই-এ জন্য আদালত এটা বাতিল করেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের তো কোনো বিষয় না। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনকে যেভাবে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তারাই সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজন করবে। এখানে সরকার নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনগুলো মেটাবে। পুলিশবাহিনীও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা, সরকারী সংস্থা-তারাও নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকবে। শেখ হাসিনার সরকার তখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। মেজর কোনো পলিসি ডিসিশন নিতে পারবে না। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও এটাই হয়।

একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের উল্লিখিত এসব কথা বলেন। ঘণ্টাব্যাপী আলাপকালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি, ইশতেহার প্রণয়ন, প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচনের আগে সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের কার্যকলাপসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি না-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নিজেরাই তাদের দফা বলে দিয়েছে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, ইসির পদত্যাগ-এগুলো না হলে তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। নির্বাচন কমিশন তাদের দুইবার ডেকেছিল, তারা যায়নি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি একবার তাদের ডেকেছিলেন, সেখানেও তারা (বিএনপি) যায়নি। আসলে তারা এসব আলোচনার পক্ষে নয়। এখন সরকার কি গায়ে পড়ে আলোচনা করবে, বিএনপি তো সরকারেরই পদত্যাগ চায়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রস্তুতি কেমন চলছে? মূল প্রতিশ্রুতি বা নির্বাচনি ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য কী হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি তফশিল ঘোষণা করলে নির্বাচন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বা ১০ তারিখের মধ্যে হতে পারে। কারণ, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আছে। এর আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ফলে নির্বাচনের তো খুব বেশি দেরি নেই। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি আরও ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এখন সেটা আরও জোরদার হচ্ছে।

নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোটের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা নির্বাচন হয়তো এককভাবে করব না। আমাদের ১৪ দলীয় জোট তো আছে, থাকবেই। আরও বেশি কিছু দল আছে, যারা জোট করার পক্ষপাতী। শেষ পর্যন্ত কারা আসে, কতটা বড় হয়-এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিটি নির্বাচনেই আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। এটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও করে আবার আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও করেন। ছয় মাস পরপরই এই রিপোর্টগুলো তার কাছে জমা হয়। এগুলো দেখে কোথায় কার কী অবস্থা, কার কেমন জনপ্রিয়তা-এসব বিষয় এসেসমেন্ট করেন। এ প্রক্রিয়াগুলো আমাদের চলে আসছে। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। এখন শেষ পর্যায়ের অনুসন্ধান চলছে। যারা আগ্রহী এবং যারা বর্তমানে এমপি আছেন, অবস্থা বুঝে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোথাও কিছু কম থাকলে সেটা নিরসনের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আমাদের আট সাংগঠনিক বিভাগে যে আটটি কমিটি আছে, এ কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের সম্মেলনের পাশাপাশি তারাও খোঁজখবর নেয়। তারা তাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট নেত্রীর কাছে জমা দেয়। এর সবকিছুই বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আছে আমাদের দলের মনোনয়ন বোর্ড। সেই বোর্ড জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেবে।

ইশতেহারের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ তথ্য জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ইশতেহার প্রণয়নের জন্য একটা কমিটি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। আমাদের দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা এটা করেছেন। এছাড়া আমাদের উন্নয়ন ইতোমধ্যে যেগুলো হয়েছে এবং সামনে যা আমরা করব, সেগুলো থাকবে। উন্নয়ন ও আধুনিকতার দিক থেকে গ্রামগুলোকে শহরের পর্যায়ে উন্নীত করার কাজ আমরা করে যাচ্ছি-এসব বিষয় আমাদের এবারের পরিকল্পনার মধ্যেও আছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমরা প্রতিবারই বাড়াচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলা করেছি। বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি, যা উন্নত দেশও দিতে পারেনি। এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে। তিনি দিনরাত কাজ করেন। তিনি বড়জোর সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। বাকি সময় তিনি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেন। কোথায় কী সমস্যা, সমাধান কীভাবে করতে হবে-এগুলো নিয়ে প্রতিনিয়তই কাজ করেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছি। বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। রিজার্ভ আমরা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছিলাম, সেটা এখন নেমে গেছে। এখানে ডলার সংকটও আছে। আমরা চেষ্টা করছি সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রব্যমূল্য। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি-কিভাবে দ্রব্যমূল্য মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা যায় সেটা আমাদের এই মুহূর্তে মূল ভাববার বিষয়। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-সংঘাত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেটা ভবিষ্যতে কার অবস্থা কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, এটা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। অন্যদিকে দেশে দেশে যুদ্ধ। সর্বশেষ ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধ। যুদ্ধটা কেন যেন ছড়িয়ে পড়ছে। সবাই জোটবদ্ধ হচ্ছেন। বিভিন্ন জোট আমরা দেখছি। জোটের সমীকরণে কোন বিষয় কোন দিকে গড়াবে বলা অত্যন্ত মুশকিল।

সড়ক, পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের গণতন্ত্র শতভাগ ত্রুটিমুক্ত-এটা আমরা মনে করি না। গণতন্ত্র পৃথিবীর কোথাও ত্রুটিমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করতে পারে না-তাদের গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত। তাদের গত নির্বাচনের পর তাদের গণতন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল মেনে নেয়নি। এ অবস্থায় তাদের ২০২৪ সালের নির্বাচন সামনে। এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত হচ্ছে। অভিযোগ চলছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও বলেছেন-ট্রাম্প গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চান। তিনি আরও বলেন, এখন আসলে এদিকে রাশিয়া, ওদিকে চায়না-এই শক্তি বলয়ের মধ্য দিয়ে ব্যালেন্স করে চলার বিষয় আছে। এদিকে আছে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। বিশ্বব্যাপী জোটগত উপকরণগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার ক্ষেত্রে নেতৃতত্বের ম্যাচিউরিটি ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হয়। এটা আমাদের নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) খুব সুচারুভাবে করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নানামুখী তৎপরতা আমরা দেখছি। এগুলো কি তাদের রুটিনওয়ার্ক নাকি এর মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে, যদি বলে নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি- আমরা বলব-তা নিয়ে তো আমাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। কারণ ভিসানীতি আর নিষেধাজ্ঞা তাদের বিরুদ্ধে আসবে যারা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। যারা এই নির্বাচনে বাধা দেবে তারা ভিকটিম হবে। আমরা কেন ভিকটিম হব? আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। ভায়োলেন্স করা আমাদের লক্ষ্য না। সেটাতে আমাদের ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেন এই বিষয়গুলো জটিল করতে চাইছে, এবং রাজনীতির নামে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে? এখন তারা নির্বাচনে বাধা দিলে তো তারাই এই ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান অনুযায়ী করতে চাই। নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। আমাদের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে অসুবিধা কোথায়? সম্প্রতি চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। বিএনপি এই নির্বাচনে অফিশিয়ালি অংশ নেয়নি। তবুও ভোটার উপস্থিতি ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচনকে আস্থায় নিয়েছে। বিএনপির অভিযোগ যে সঠিক নয়, সেটাও প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি এমন একটা দল, তাদের কাছে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন তখনই হবে যখন তাদের নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি দেওয়া হবে।

একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ৭০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করেন। বিএনপি জানে নির্বাচন করলে তারা টিকতে পারবে না। তারা জানে, নির্বাচনে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যাবে। সে কারণে এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এগুলো বলছে। কেন? তারা কখনো বলে-জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন, কখনো বলে বিদেশিরা এখানে এসে প্রভাবিত করবে। এগুলো তো হয় না। আমরা আমাদের সংবিধানে যে বিধিবিধান আছে, এটা মেনেই আমরা নির্বাচন করব। এটা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আসলে বিএনপি এসব উদ্ভট বিষয়গুলো নিয়ে আসছে। কারণ তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। আগুন-সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তাদের পুরোনো অভ্যাস। তারা এগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের একদফা তো আছেই আবার বলছে অক্টোবরে সরকারের পতন ঘটাবে। দেখা যাক, আমরাও প্রস্তুত আছি। আমরা সভা-সমাবেশ করছি। শান্তির পক্ষে। তারা যে অশান্তি করবে বা করছে এটার বিরুদ্ধে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি। শান্তির সমাবেশ থেকে বিএনপির আন্দোলন বা মিছিলে কোথাও আওয়ামী লীগ একটা ভায়োলেন্ট করেনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ-সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আছেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভাগীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে। এ বিষয়ে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নিজেও অনেককে ডেকে কথা বলেছেন। আমরাও ডেকে কথা বলছি। বিভাগীয় কমিটিগুলোও সেখানে যাচ্ছে বা ঢাকায় ডেকে এনে এগুলো সমাধানে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু একই দলের মধ্যে বিষোদগার করা বা কাদা ছোড়াছুড়ি করা অপ্রত্যাশিত। কাজেই এ ব্যাপারে আমরা সজাগ ও সচেষ্ট আছি।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে নতুন করে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা আইনগত ব্যাপার আইনগত ভাবেই সমাধান হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ব্যাপারে নজির আছে।

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।