খুঁজুন
, ,

বিশ্বকাপে অঘটনের শিকার চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 15 October, 2023, 11:47 pm
বিশ্বকাপে অঘটনের শিকার চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম বড় কোনো অঘটনের জন্ম দিলো আফগানিস্তান। আগের দুই ম্যাচে গো-হারা আফগানিস্তান আজ দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে হারিয়ে দিয়েছে গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে।

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত যে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারের জন্য কতবড় ভুল ছিল, তা ম্যাচ শেষে এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটিং তাণ্ডবে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।

জবাব দিতে নেমে আফগান স্পিনের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ইংলিশরা। মুজিব-উর রহমান, রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবির মায়াবি ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে ৪০.৩ ওভারে ২১৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যার ফলে আফগানিস্তানের জয় এলো ৬৯ রানে।

এ নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ খেললো আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ড। দুই দলই দুটি করে ম্যাচ হেরেছে এবং জিতেছে একটি করে ম্যাচ। ইংল্যান্ড হেরেছে নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের কাছে। আর আফগানিস্তান হারলো বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে।

২৮৫ রানের পুঁজি নিয়েই লড়াই করতে নামে আফগান বোলাররা। দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন বা হাতি পেস বোলার ফজল হক ফারুকি। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলা জনি বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার।

বেয়ারস্টো সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলেও বাংলাদেশ আম্পায়ার সৈকতের বিচক্ষণ সঠিক সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে যেন বিপদেই পড়ে ইংলিশরা।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ডেভিড মালান ও জো রুট কিছুটা বিপর্যয় সামাল দেন ৩০ রানের জুটি গড়ে। কিন্তু ৭ম ওভারেই সেই জুটি ভাঙেন স্পিনার মুজিব। তার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন আগের দুই ম্যাচে অর্ধশতক করা জো রুট।

প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ৫২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ডরা। আফগান স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। ১৩তম ওভারে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ারন ডেভিড মালানকে আউট করে আবারো ইংল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ফেলেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী। ১৫০তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা এই বোলার বলে মালান শর্ট এক্সট্রা কাভারে ইব্রাহিম জারদানের হাতে ধরা পড়েন।

৯০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক জস বাটলারকেও হারায় তারা। নাভিন উল হকের অসাধারণ এক ইন সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড আউট হন জস বাটলার। মাত্র ১৮ বলে ৯ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। বাটলারের আউটের দুই ওভার পরেই রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিভিংস্টোন।

১১৭ রানে ৫ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের এক পাশে যখন ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল চলছিল ঠিক অন্যপাশে আফগান বোলারদের উপর চড়াও হচ্ছিলেন হ্যারি ব্রুক। তুলে নিনে অর্ধশতকও।

২৮তম ওভারে আবারো ব্রেক থ্রু এনে দেন স্পিনার নবী। এবার তার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন স্যাম কারান। ক্রিস ওকসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৩তম ওভারে তাকেও প্যাভিলিয়নে ফেরান মুজিব।

মুজিবের বোলিংয়ের কারিশমা তখনও শেষ হয়নি। এরপরের ওভার করতে এসেই ইংলিশদের এই ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান ৬১ বলে ৬৬ রান ব্রুককে আউট করলে কার্যত ইংলিশদের জয়ের আশা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এরপর শেষের দিকে আদিল রশিদ ২০, ক্রিস উড ১৮ ও রিস টপলি ১৫ রান করলেও তা ম্যাচ জয়ের মত যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪০.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ইংলিশরা ২১৫ রানেই থামে।

আফগানিস্তানের হয়ে মুজিব ৩টি, নবী ও রশিদ খান ২টি, ফজলহক ফারুকী ও নাভিন উল হক ১টি করে উইকেট পান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামতে হয় আফগানিস্তানকে। রহমানুল্লাহ গুরবাজের টর্নেডো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে অসাধারণ সূচনা করেছিলো আফগানরা। তবে ১১৪ থেকে ১২২ রানের মধ্যে ৩ উইকেটের পতনে থমকে যায় তাদের ইনিংস। ইকরাম আলিখিল ৫৮ রান করার ফলে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ২৮৪ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান।
প্রথম ১৫টি ওভার যেন স্বপ্নের মত কেটেছিলো আফগানিস্তানের। কোনো উইকেট হারাতে হয়নি। রান তুলে ফেলেছে ১১০-এর বেশি। ইংল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে এমন স্বপ্নের শুরু কবে করতে পেরেছিলো আফগানরা!

কিন্তু এই সুখস্মৃতি খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একে একে তিনটি উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়েই পড়ে যায় আফগানরা। তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে রানআউট হন দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকা রহমানুল্লাহ গুরবাজ।

১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে হাশমতউল্লাহ শহিদি ব্যাট করছিলেন। আদিল রশিদকে ঠেলে দিয়েই দ্রুত একটি রান তুলতে যান তিনি। মিড উইকেটে ফিল্ডার ছিলেন ডেভিড উইলি। তিনি বল থ্রো করেন ব্যাটিংপ্রান্তে। বল ধরেই উইকেট ভেঙ্গে দেন জস বাটলার। সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস।

পরপর দুই বলে দুটি উইকেট হারিয়েই ব্যাকফুটে চলে যায় আফগানিস্তান। লড়াইয়ে নিজেদেরকে চালকের আসনে নিয়ে আসে ইংল্যান্ড।

আগে টস হেরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট করতে নামার পর আফগানদের ঠিক ‘আফগানিস্তানে’র মতো মনে হচ্ছিল না। এই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে বোলারদের পিটিয়েছিলো, ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছিলো রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরানের ব্যাটিংয়ে।

শেষ পর্যন্ত এই দু’জনের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে সক্ষম হন ইংলিশ লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। ১১৪ রানের বিশাল জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হলেন গুরবাজ এবং ইবরাহিম। আদিল রশিদকে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মেরে বাউন্ডারি আদায় করতে চেয়েছিলেন ইবরাহিম। কিন্তু শর্ট মিডউইকেটে সরাসরি জো রুটের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৪৮ বলে ২৮ রান করে আউট হলেন ইবরাহিম।

এরপর রহমত শাহ মাঠে নেমে খুব বেশিদূর যেতে পারেননি। মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। হাশমতউল্লাহ শহিদির ভুলে তো রান আউট হলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। ৫৭ বলে ৮০ রানের ইনিংসে গুরবাজ ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ৪টি।

হাশমতউল্লাহও বেশিক্ষণ খেলতে পারেননি। ৩৬ বল খেলে মাত্র ১৪ রানে আউট হন তিনি। ২৪ বলে ১৯ রান করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৬৬ বলে ৫৮ রান করেন ইকরাম আলিখিল। মোহাম্মদ নবি আউট হন ৯ রান করে। ২২ বলে ২৩ রান করেন রশিদ খান। তবে শেষ মুহূর্তে ঝড় তুলেছিলেন মুজিব-উর রহমান। ১৬ বলে ২৮ রান করেন তিনি। নাভিন-উল হক রানআউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় আফগানদের ইনিংস। তখনও একটি বল বাকি ছিল তাদের।

ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন আদিল রশিদ। ২ উইকেট নেন মার্ক উড। ১টি করে উইকেট নেন রিসি টপলি, লিয়াম লিভিংস্টোন এবং জো রুট।

Feb2
Feb2

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:22 pm
জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার উপজেলার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আমির হোসেন জানান, আমার একটি জায়গার দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরমান তার ভাই ও তাদের সহযোগীরা আমার কাছে চাঁদাদাবি করে এবং আমাকে আমার ক্রয়কৃত জায়গা থেকে দখল উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হিসেবে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করবেন।

মামলায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পাটের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসা তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে কথাও বলেন আসামিরা। ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। আসামি আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বাদী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোন নির্দেশ আসে নি।

অভিযুক্ত আরমান উদ্দীন বলেন, মামলায় ঘটনার যেই তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই আমি ও আমার ভাই আরিফ সৌদি আরবে অবস্থান করছি। আর আমি যে বাদীকে কল দিছি এমন তথ্যও দিতে পারবে না। বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না,সেও আমাকে চিনবে কি না সন্দেহ আছে।

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।