খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দইজ্জার’ তল দিয়ে গাড়ি চলে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
‘দইজ্জার’ তল দিয়ে গাড়ি চলে : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে আপনাদের জন্য আমি একটি ছোট্ট উপহার নিয়ে এসেছি। এটি হলো টানেল। এখন দইজ্জার (চট্টগ্রামের এক অঞ্চলের ভাষায় সাগর বা দরিয়া)। তল দিয়ে গাড়ি চলে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় টানেল আর নেই। আগামীকাল এই টানেল জনসাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে কর্ণফুলীর কেইপিজেড মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রামের ভেতর ঢুকে যানজটে পড়তে হবে না। টানেলটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। যা দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

এর আগে এদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দোয়া ও মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর টানেলের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে রওনা দেয়। বেলা ১২টা ১ মিনিটে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টানেলে টোল প্রদান করেন শেখ হাসিনা। তার কাছ থেকে টোল গ্রহণ করেন ঝুমুর আক্তার নামে টোল প্লাজার নারী কর্মী। উদ্বোধন ও টোল প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কর্ণফুলীর কেইপিজেড মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার উদ্দেশ্য রওনা দেয়।

সেখানে চীনের রাষ্ট্রপতির পক্ষে পাঠানো একটি পত্র পাঠ করেন দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এরপর টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে একটি থিম সং পরিবেশন করা হয়। এছাড়া জনসভা মাঠে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। টানেল উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে স্বারক ডাকটিকিট উন্মোচন ও ৫০ টাকা মূল্যমানের নোট অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বহরে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিমসহ অন্যান্যরা।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দুই তীর সংযুক্ত করে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টানেলটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং টানেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন।

নির্মাণের আগে করা সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানেল চালুর পর এর ভেতর দিয়ে বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সে হিসাবে দিনে চলতে পারবে ১৭ হাজার ২৬০টি গাড়ি। ২০২৫ সাল নাগাদ টানেল দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২৮ হাজার ৩০৫টি যানবাহন চলাচল করবে। যার মধ্যে অর্ধেক থাকবে পণ্যবাহী পরিবহন। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার ৯৪৬টি এবং ২০৬৭ সাল নাগাদ এক লাখ ৬২ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।

টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেয় চার হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দেয় চীন সরকার। চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ শতাংশ হারে ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ দিয়েছে। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

Feb2

প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া উদ্বোধনের সময় শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে।

আজ ২৩ মে বুধবার বিকেলে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল’ বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষির চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে বামনশাহী খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানকার ৫৪টি খালের মধ্যে ৬২ কিঃমিঃ খননসহ মোট ১২৮ কিঃমিঃ খাল খনন করা হবে। তিনি বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির উপরিভাগ কাটা হয়ে থাকে। এ বছর আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে খননকৃত খালের মাটি যেন ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তাহলে এসব মাটির যেমন কার্যকর ব্যবহার হবে তেমনি কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা পাবে। চট্টগ্রামের ডি সি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপন করা হবে।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননকৃত খালের মাটি যেন আবার সেই খালে না পড়ে সে বিষয়টি তদারক করা হবে। তাছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল মরে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাও খনন করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খননের জন্য খাল বাছাই এর ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষির গুরুত্ব দেখা হবে। যেসব খালের দ্বারা কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজে করা যবে-সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দুর করতে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলা-প্রভৃতি বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা ছিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এসময় সিদ্দীকা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জনগণ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগণের নিকট তুলে ধরতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ১৮০ দিনের প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারা দেশে ১০২১টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১০৬০টি চলচ্চিত্র প্রামাণ্যচিত্র ও টিভিসি প্রদর্শণী, ৩২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার ও মাইকিং, ২৩১৬টি অনলাইন প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামেলি সমাবেশ, ১৪টি নৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ৩৪০টি স্থানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন বড় পর্দায় জনবহুল স্থানে প্রদর্শণ করা হয়েছে। একই কর্মসুচির আওতায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ৬০ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শণী, ৮টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১৮০টি অনলাইন প্রচার এবং অগ্রাধিকারমূলক কর্মসুচির উদ্বোধন বড় পর্দায় ৫টি জনবহুল স্থানে দেখানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন ও নারীর জন্য গাড়ি বিষয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মোঃ কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

“আমরা সবাই এখন নিজের সন্তানকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পাওয়ানোর দৌড়ে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা কি ভাবছি—আমার সন্তানটি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠছে কি না? আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না। পরিবার ও সমাজ থেকে মানবিক সংযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু চিকিৎসা নয়, অটিজম প্রতিরোধে সামাজিক সুস্থতাও জরুরি।”

আজ বুধবার ( ১৩ মে) চট্টগ্রামে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৩ সালে ডোনাল্ড গ্রে ট্রিপলেট নামে এক শিশুকে কেন্দ্র করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লিও কানার অটিজম নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সেই গবেষণার মাধ্যমেই আধুনিক অটিজম ধারণার সূচনা হয়।

তিনি বলেন, “অটিজম” শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “অটোস” থেকে, যার অর্থ নিজেকে কেন্দ্র করে থাকা। তবে আজ অটিজম শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি সামাজিক বাস্তবতারও অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা মঞ্চে যারা কথা বলি, আমরা পিছনের চিত্রটা তুলে ধরি না। দেশের ৯৮ লক্ষ অটিস্টিক শিশুদের পরিবারে যে কষ্ট, যে হাহাকার আছে, তা আড়ালেই থেকে যায়।”

তিনি বলেন, “আমরা স্টিফেন হকিংয়ের কথা শুনেছি, মাইকেল ফেলপসের কথা শুনেছি। হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের জীবনেও গভীর মানসিক সংকট ছিল। মানুষের মানসিক জগৎ, একাকিত্ব, গ্রহণ-বর্জনের প্রবণতা—এসব বিষয় নিয়েই আজকের অটিজম আলোচনার বিস্তৃতি।”

গতকাল চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে অটিজম ইউনিট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সেখানে অত্যন্ত বড় একটি অটিজম ইউনিট দেখেছি। দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছি—কেন অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা বাড়ছে?”

তিনি জানান, চিকিৎসকদের মতে আগে শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “একসময় ‘পরিজন’ শব্দটির গভীরতা ছিল। আজ আমরা পরিবারকেন্দ্রিক হলেও মানবিক সংযোগ হারিয়ে ফেলছি। আমরা সবাই ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে আছি। জীবনের আনন্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তারা অনেকেই সচেতন ও সচ্ছল পরিবারের প্রতিনিধি। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য পরিবার আছে, যারা নীরবে সংগ্রাম করছে। তাদের কণ্ঠ আমরা কতটা শুনছি?”

নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল নিয়ে কথা বলি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালনের জায়গাটি ভুলে যাই। শুধু অন্যকে দোষারোপ করলে হবে না; প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। তাই আমাদের শুধু সহায়তা নয়, প্রতিরোধ নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী থাকবে?”

পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও ইউরোপ-আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা এক নয়। আমাদের সংস্কৃতি, পরিবার ও মূল্যবোধ আলাদা। পশ্চিমা আচরণ হুবহু অনুসরণ করলে সবসময় তা আমাদের সমাজে মানানসই হবে না।”

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মানুষ। প্রতিটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ—Every Life Matters। এই জনগণকেই দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তবে কেউ তার কাছে যাবে না। তেমনি মানুষের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে, তবে সে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হওয়ার দাবি করতে পারে না।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “‘আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমি মানুষ।’ মানুষ হওয়ার জন্য মানবিকতা প্রয়োজন। বড়দের সম্মান করতে জানতে হবে, ছোটদের ভালোবাসতে জানতে হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা যদি এই মূল্যবোধ থেকে সরে যাই, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠন সম্ভব হবে না। বরং আমাদের নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ বহন করতে হবে। কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে কেউ দ্রুত এগোতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসংযুক্ত। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের সমাজের অস্থিরতা কমাতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। অটিজম বিষয়ে বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, প্রয়াস-এর অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল সাঈদা তাহমিনা সিমা, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জাফর আলম এবং অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী।

মীরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, উর্বশী দেওয়ান, মো. শহীদ উল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের অ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে প্রাপ্ত এককালীন অনুদান বিতরণ করা হয়। এসময় চট্টগ্রামের ২৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অটিজম সচেতনতা বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে কুরবানির পশুর দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন দর ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিন সচিবালয়ে কুরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছানো হবে। এজন্য ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় এই লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সঠিক সময়ে লবণের সরবরাহ এবং চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চামড়া পাচার রোধ ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া যাবে। মূলত কুরবানিকে ঘিরে চামড়া শিল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খল রাখতেই প্রতি বছরের মতো এবারও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।