খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়ালখালীতে ধানের শীষ প্রার্থীকে অবরুদ্ধ ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ বিএনপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
বোয়ালখালীতে ধানের শীষ প্রার্থীকে অবরুদ্ধ ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ বিএনপির

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। বোয়ালখালী প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে বোয়ালখালীতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের হাতে অবরুদ্ধের শিকার হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ানসহ কর্মী-সমর্থকরা।

ঘণ্টাব্যাপী বোয়ালখালী উপজেলার একটি এলাকায় অবরুদ্ধ করে প্রচার প্রচারণায় বাধা প্রদানসহ কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নবাব আলী সওদাগর বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বোয়ালখালী পৌরসভার বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু।

হাজী আবুল কালাম আবু বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমদ খানসহ নবাব আলী সওদাগর বাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমরা মানুষের বাড়ি ঘরে আশ্রয় নিই।

দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকবাসীর সহযোগিতায় ওই এলাকা ত্যাগ করি। নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করে আহত করেছে তারা।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ঘরে ঘরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে আসলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থকরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন।বোয়ালখালীতে

প্রচারণা না চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলেন। এ সময় ধানের শীষের কয়েকজন কর্মী সমর্থককে চড় থাপ্পরও মারেন। পরবর্তীতে তারা প্রচারণা না চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির সহ দফতর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন শুক্রবার সকাল ১০ টায় বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদন্ডীর মনচুর আওলিয়ার মাজার জেয়ারত শেষে গণসংযোগ শুরু করতেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলায় ৫ জন আহত হয়েছে। ৩ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বোরহান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোনাফ ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি কাজী রাসেলের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেন। হামলায় আহতরা হলেন উপজেলা যুবদলের সিঃ যুগ্ম আহবায়ক রবিউল ইসলাম ইকবাল, পূর্ব গোমদন্ডী ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম, মনু, ছাত্রদল নেতা রিয়াদ সহ আরো কয়েকজন।

শফিকুল ইসলাম সহ ২/৩ জন বোয়ালখালী মেডিকেল চিকিৎসা নিচ্ছে। হামলার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে বু সুফিয়ানের নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী পুরুষ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থীসহ কর্মী সমর্থকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবরে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) একরামুল ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দুইটি এলাকায় দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পৌর প্যানেল মেয়র এসএম মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী শান্ত ও সুন্দর পরিবেশকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিএনপি গুজব সৃষ্টি করছে। জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে এই ধরণের আজগুবি কল্পকাহিনী প্রচার করছে।

Feb2

কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, গণমুখী কবিয়াল জনক রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী ০৯ মে ২০২৬ ইং (২৬ শে বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা) এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কবিয়াল রমেশ স্মৃতি ট্রাস্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক মানস চৌধুরী।

সভা সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ বাবু কাজল শীল। সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি। এছাড়াও বক্তব্য দেন সদস্য রমেশ পরিবারের সদস্য এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন এবং প্রকৌশলী রানা শীল মাইকেল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রমেশ স্মৃতি ট্রাস্ট পরিবারের উত্তরাধিকারী পিকলু সরকার, রণধির শীল, সুব্রত সরকার টার্জেন, সমর শীল ওপেলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এতে এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটনকে আহ্বায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার রানা শীল মাইকেলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রমেশ পরিবারের চিত্ত রঞ্জন শীল, কল্পতরু শীল, দুলাল শীল, সুলাল শীল, নেপাল শীল, পিকলু সরকার, সুব্রত সরকার, রণধির শীল, রুপাল শীল, জুয়েল শীল, রাইনেল শীল, সমর শীল, প্রণব চৌধুরী রঞ্জন, তম্ময় শীল, লিংকন চৌধুরী, টিকলু সরকার, শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি ও রমেশ ভক্ত বিজয় শীল, জিকু শীল।

উল্লেখ্য : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার, ১৯৪৮ সালে “বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল” উপাধিপ্রাপ্ত এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল রমেশ শীল বাংলা লোকসংস্কৃতি ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে অনন্য অবদান রেখে গেছেন তার মহা কর্মযজ্ঞের কিছুটা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত রমেশ রচনাবলী বইয়ের মধ্যে।

আসন্ন জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কবিয়াল রমেশ শীলের জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে সভায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সরকার পরিবেশের ক্ষতি করে, চট্টগ্রামবাসীকে অস্থিরতার মধ্যে রেখে, ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। তবে যেভাবে ক্ষতি ভাবা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তা না। তার চেয়ে আরও বেশি জনবান্ধব, আরও বেশি চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন। সেগুলো বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান রেলমন্ত্রী।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি যেটি জেনেছি, আগের সরকার সিআরবিতে একটি প্রকল্পের জন্য চুক্তি করেছিল। তাদের সঙ্গে সমাধানে যেতে হবে। সম্ভাব্য কি সমাধান হতে পারে, তা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তবে কী সমাধান হচ্ছে বা সরকার এখানে হসপিটাল প্রতিষ্ঠিত করবে কি-না, করলে কী প্রক্রিয়ায় করবে সিটি নিয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

এসময় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সিআরবির বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করেন।

কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে চলছে জ্বালানি সংকট। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাস-ট্রাকের জ্বালানি ‘ডিজেল’-এর মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে যাবে বিভিন্ন পরিবহনের। এ অবস্থায় বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা আজ রোববারের (১৯ এপ্রিল) মধ্যেই ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বেশি ছিল। পরে সেটি বেশ কয়েকবার সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা।

ওই সময় সার্বিক বিবেচনায় তৎকালীন পরিবহন নেতারা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। সরকার সেটি আমলে না নিয়ে দূরপাল্লার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করে সেটি কমিয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।

বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের

শনিবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন নেতারা রোববারের মধ্যেই ভাড়া বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা সরকারকে শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনায় না নিয়ে সার্বিক বিষয় চিন্তা করে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক বলেন, বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দেশে শুধুমাত্র তেলের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে, অন্য খরচগুলোর বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়ার সমন্বয় সাধারণত করা হয় না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালে যে চাকার জোড়া ৫০ হাজার টাকায় কেনা যেত, ২০২৬ সালে সেটির দাম বেড়ে ৭৪ থেকে ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দামও দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। যেমন ১০ টাকার কোনো যন্ত্রাংশ এখন ২০-২৩ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আবার যেসব যন্ত্রাংশ আগে ১২০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম বেড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সার্বিকভাবে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না

মো. সাইফুল আলম, মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

গাড়ির মূল্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে এই বাস মালিক বলেন, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিসের দাম ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা এবং বডি তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ১১ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই একই চেসিসের দাম বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা এবং বডি তৈরির খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ শুধু এই দুই খাতেই মোট খরচ বেড়েছে প্রায় ২০-২১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে কিস্তির চাপ আরও বেড়েছে মালিকদের ওপর।

কত টাকা ভাড়া বাড়ানো যায়— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০২২ সালে জ্বালানির দাম বাড়ার পর সরকার ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রথমে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সমন্বয় করে ২ টাকা ১২ পয়সায় স্থির করা হয়। সেই সময় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা প্রস্তাব করা হলেও তা গৃহীত হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ভাড়ার আর কোনো সমন্বয় হয়নি, যদিও খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েই গেছে। এবার অন্তত কিলোমিটার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা না হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না।

তবে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, আমরা দায়িত্বে আসার পর ও ডলারের দাম বাড়ার পর ৩ টাকা ৭৫ পয়সার প্রস্তাব কমিটির কাছে দিয়ে রেখেছি। সেটি তেলের জন্য দেওয়া হয়নি, স্পেয়ার্স পার্সে ডলার মূল্য সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেটিসহ তেলের দাম বাড়ার জন্য আমরা ৪ টাকা ৫ পয়সা এবার প্রস্তাব করবো। আমরা মিনিস্ট্রিতে আজকে যোগাযোগ করে ফরমাল মিটিং হোক, ইনফরমাল মিটিং হোক করবো। কারণ আমাদের আজকে এখনো পর্যন্ত বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেইনি।

সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম রোববার দুপুরে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।

জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে

মো. হাদিউজ্জামান, অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বুয়েট

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, তারা প্রস্তাব করেছে ঠিক আছে। প্রস্তাব করা মানেই এটা চূড়ান্ত না। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণের কমিটি আছে। আমি বলবো, এই কমিটিতে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। প্রতিটি খাত ধরে ধরে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদেরও অনেকগুলো খাতে চাপের মধ্যে পড়তে হবে। জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে। আমি বললাম, প্রস্তাবটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। আলোচনা করে সেখানে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যেসব খাতের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব ক্ষেত্রে তো আসলে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।