খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সংঘাত-মারামারি চাই না, নৌকা-স্বতন্ত্র যাকে খুশি ভোট দেবে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
‘সংঘাত-মারামারি চাই না, নৌকা-স্বতন্ত্র যাকে খুশি ভোট দেবে’

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ যাকে ভোট দেবে সে-ই নির্বাচিত হবে। কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না। এখানে কোনো রকম সংঘাত, মারামারি আমি দেখতে চাই না। কোনো সংঘাত হলে, আমার দলের যদি কেউ করে তাহলেও রেহাই নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব। সেটা মনে রাখবেন।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে পাঁচ জেলার নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভোটের অধিকার দিয়েছে আওয়ামী লীগ, সেটা অব্যাহত থাকবে। এবার নির্বাচনে আপনাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ করে কোনো মানুষের ক্ষতি যেন করতে না পারে। এদিকে সকলকে সজাগ থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন, জনগণ ভোট দেবে। ভোটের মালিক জনগণ, এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এটা উন্মুক্ত করেছি। আমাদের নৌকার প্রার্থী আছে, স্বতন্ত্র আছে, অন্যান্য দলও আছে। প্রত্যেকে জনগণের কাছে যাবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই নির্বাচিত হবে। কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না। এখানে কোনো রকম সংঘাত, মারামারি আমি দেখতে চাই না। কোনো সংঘাত হলে, আমার দলের যদি কেউ করে, তাহলে রেহাই নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব। সেটা মনে রাখবেন। আমরা চাই জনগণ তার ভোটের অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করুক। যাকে খুশি তাকে পছন্দ করবে, তাকে ভোট দেবে। সে জয়ী হয়ে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে আমাদের আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাবে। আজকে যতটুকু উন্নতি করেছি থাকবে না। আমারা দেশের মানুষের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করি, বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ ক্ষুধা মুক্ত, স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়ে যাব। জনগণকে আহ্বান জানাই, নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের জন্য সেবা করার সুযোগ দিন।

অতীতে ভোটের অধিকার ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়েছিল

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম অত্যাচার হয়েছিল বলে জনসভায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারাই নৌকায় ভোট দিয়েছিল তারাই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়েছিল। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে; এই প্রত্যয় নিয়েই সংগ্রাম করেছি। অনেক সংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের পার করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে, কারাগারে যেতে হয়েছে। তারপরও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ২১ বছর পরে ক্ষমতায় আসি। জনগণের সেবক হিসেবে যাত্রা শুরু করি। ৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল ৭৫-এর পরে বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ।

তিনি বলেন, আমরা খাদ্যসেবা নিশ্চিত করি, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিই, শিক্ষার ব্যবস্থা করি, বিনামূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আমরা এ দেশের রাস্তাঘাট-পুল ব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নিই, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করি। ১৬০০ থেকে ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করি। প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ, একটা বড় দেশ থেকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব ছিল, আমি বলেছিলাম এটা জনগণের সম্পদ আমি বিক্রি করতে পারি না। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কত মানুষকে হত্যা করেছে তার কোনো হিসাব নেই। আমাদের মা-বোনদের ওপর পাকিস্তানিরা যেভাবে নির্যাতন করেছে, সেভাবেই নির্যাতন করেছে। সেইসময় ফাহিমা, মহিমা, রুমা আত্মহত্যা করে নিজেদের ইজ্জত বাঁচান। এ রকম একটা তাণ্ডব শুধু নয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন বাংলাদেশ ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। পাঁচ বার দুর্নীতিতে তারা বিশ্বে এক নম্বর হয়েছিল। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বাংলা ভাই, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, আমাদের কত নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে তার হিসাব নেই। আমরা নিজেই বারবার তাদের হাতে আক্রমণের শিকার হয়েছি। তারপরও আমরা কিন্তু দমে যাইনি। বরং এগিয়ে গিয়েছি। আমি তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, এত বাধা বিপত্তি, অত্যাচার, নির্যাতন, সবকিছু সহ্য করে নেতাকর্মীরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন।

মানুষকে মানুষ মনে করলে পুড়িয়ে মারত না

বিএনপি মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ হিসেবে গণ্য করলে রেলে আগুন দিয়ে বিএনপি কীভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারল? একটা মা তার ছোট বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য বুকে ধরে রেখেছিল, সেই অবস্থায় মরে কাঠ হয়ে গেল! বাসের ভেতরে হেলপার ঘুমিয়ে ছিল, আগুন দিল, হেলপার পুড়ে শেষ! ঠিক ১৩ ও ১৪ সালের মতো এবারও একই ঘটনা তারা (বিএনপি) ঘটিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে কার দ্বারা? অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘনকারী, সেনা আইন লঙ্ঘনকারী, ক্ষমতা দখলকারী এক জেনারেলের পকেট থেকে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। হ্যাঁ-না ভোটের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ক্ষমতায় বসে থেকে একদিকে সেনাপ্রধান, আরেকদিকে রাষ্ট্রপ্রধান, আবার নির্বাচনও করেছে। এটা সেনা আইন বিরোধী। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে বের হওয়া একটা দল বিএনপি। তাদের কাজের সবকিছুই অবৈধ।

আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির কাজ হচ্ছে জ্বালাও পোড়াও, অগ্নি সন্ত্রাস। এটাই তারা পারে। এটাই তারা ভালো বুঝে, এটাই তারা জানে। নির্বাচনে তারা আসবে না; আসবে কীভাবে বলেন? ২০০৮-এর নির্বাচন নিয়ে তো কারো কোনো অভিযোগ নেই। কেউ তো কোনো কথা বলতে পারে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল কী ছিল? সেই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট, তারা পেয়েছিল মাত্র ৩০টা সিট। আর আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছিল ২৩৩টা সিট। এই কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। তারা বড় বড় কথা বলে, ভোটের কথা বলে; ওরা ভোটের কী বুঝে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টা স্কুল, ৭০টি সরকারি অফিস, ছয়টা ভূমি অফিস এবং ৩২৫২টি গাড়ি, ২৯টা রেল, ৯টা লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। এমনকি জজের এজলাসেও তারা আগুন দেয়। বোমা মেরে ঝালকাঠিতে জজকে হত্যা করে। গাজীপুরে আইনজীবীদের আক্রমণ করল এবং বোমা মেরে আহত করল। এটাই-তো বিএনপির চরিত্র। এখন আবার শুরু করেছে অগ্নিসন্ত্রাস। বাসে আগুন দিচ্ছে, রেলে আগুন দিচ্ছে। নতুন কোচ আমরা কিনেছি, মানুষ যাতে শান্তিতে চলাফেরা করতে পারে। মানুষের শান্তি দেখলে ওদের মনে অশান্তি লাগে। সেগুলোও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। কারণ, দুর্নীতি একটি দেশকে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিছু লোক হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়, আর যারা সৎভাবে জীবন যাপন করে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমরা ঘোষণা দেব। দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়, সমতাভিত্তিক সমাজ, অর্থনৈতিককে ন্যায় এবং সমতাভিত্তিক করে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। সেভাবে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ শুধু একটা শব্দ নয়, এর অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নকে স্থায়ী করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুফল ভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সেজন্য আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ঠিক করে দিয়েছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ নিতে পারবে তারা। কৃষকদের মধ্যে যারা বর্গাচাষি তারা যাতে জামানত না রেখে কৃষি ঋণ পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেছি। আমরা কৃষকদের উপকরণ কার্ড দিয়েছি। ২ কোটির উপরে কৃষক এই উপকরণ কার্ড পান, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ভর্তুকির টাকা ব্যাংকে সরাসরি তাদের কাছে চলে যায়।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে এই কৃষকরা সার চেয়েছিল বলে তাদের গুলি করা হত্যা করা হয়। আজ আমাদের কৃষকদের সারের পেছনে ছুটতে হয় না। সার কৃষকের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়। আওয়ামী লীগ সরকারে এসে এ ব্যবস্থা করেছে।

Feb2

রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনে তাগিদ দিয়ে আসছে। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উত্সাহিত করাই বিশ্ব রক্তদান দিবসের উদ্দেশ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

রক্ত মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল স্কটল্যান্ড। বিপরীতে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে। যেখানে ২৮ বছর পর খেলতে নামা স্কটিশরা ৩৬ বছর পর মেগা ইভেন্টে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। এমনকি ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী দুই দল ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন স্কটল্যান্ড।

আজ (রোববার) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে জন ম্যাকগিনের গোলে হাইতিকে ১-০ গোলে হারাল ইউরোপীয় দেশটি। যদিও ২৮তম মিনিটে ম্যাকগিনের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে পরাস্ত করে আসে স্কটল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি।

১৯৯০ সালের পর স্কটিশরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। অবশ্য মাঝে তারা বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ২৮ বছর। শেষবার তারা সুইডেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। তবে এখনও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে ম্যাকগিনের গোলটি আসে বক্সের ভেতরে চে অ্যাডামসের মিস করা শট থেকে। বলটি হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিডের গায়ে লেগে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। ১৩ গজ দূর থেকে ম্যাকগিনের নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ১৭তম মিনিটেও গোলের খুব কাছে ছিল স্কটল্যান্ড। অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে শট নেন, তবে সেটি পোস্টের উপরের অংশ ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

হাইতি কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয়ার্ধে। ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের ক্রস থেকে উইলসন ইসিডর বল জালে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হতে পারেননি। এরপর ৮৪তম মিনিটে ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

আগামী ২০ জুন পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে। একইদিন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা।

ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

এদিকে ব্রাজিল কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক এমন সময় ম্যাচের ২১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে এগিয়ে যায় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলের। ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিয়ুসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।

১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল রক্ষণ আগলে বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিল মরক্কো। এ সময় ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। যদিও ৯৯ মিনিটে তাদের রক্ষণে কিছুটা ভয় ছড়ায় হাকিমির দল। যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার না ঠেকালে ফল ভিন্ন হতে পারত।

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকেও হয়তো বিশ্বকাপের যাত্রায় পয়েন্ট হারাতে হতো। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ‘সি’ গ্রুপের দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ মরক্কোকে।