খুঁজুন
, ,

আবু সুফিয়ানের গণসংযোগ গণমিছিলে পরিণত হচ্ছে:আকবর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 6 January, 2020, 8:43 pm
আবু সুফিয়ানের গণসংযোগ গণমিছিলে পরিণত হচ্ছে:আকবর

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেছেন, আবু সুফিয়ানের সমর্থনে পাঁচলাইশের গণসংযোগ গণমিছিলে পরিণত হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে ১৩ জানুয়ারী ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। এই শান্তিপূর্ণ স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ভোটের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। ভোট গণনা পর্যন্ত সবাইকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় হবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিজয়। বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের মাঝে ফিরিয়ে আনার বিজয়। মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার বিজয়।

তিনি আজ ৬ জানুয়ারী (সোমবার) চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান ধানের শীষের পক্ষে পাঁচলাইশ ৩ নং ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মাওলানা আতিক উল্লাহ খান’র মাজার জেয়ারত করে গণসংযোগ শুরু করে ওয়াজেদিয়া, হরিপুর, মিয়া নগর, নয়াহাট, ফকিরাবাদ, কয়লার ঘর, নেজাম হামছা, বোর্ড অফিস হয়ে চালিতাতলী এলাকায় এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

এ সময় তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে আমরা সমান সুযোগ পাবো এটা আশাকরি না। সমান সুযোগ পাবো না জেনেই আমরা নির্বাচনে এসেছি। আমাদের আস্থা হচ্ছে জনগণ ও ভোটারের উপর। আমরা সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাঠে আছি গণতন্ত্রের স্বার্থে। জনগণ সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ১৩ জানুয়ারী ধানের শীষের পক্ষের রায় হবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির রায়। মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার রায়। আজকে জনগণ জেগে উঠেছে। জনগণের এ জোয়ার কেউ রুখতে পারবে না। সন্ত্রাসীদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। জনগণের দিন এসে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে জনগণের সরকার গঠিত হবে। ভয় পাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগ জুলুম নির্যাতন করে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য শত চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারেনি। বরং বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে। ফ্যাসিবাদের মসনদ দুর্বল হয়েছে। বিএনপির মনোবল বেড়েছে। নির্বাচন ও আন্দোলন সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, থাকবো। আমাদের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্ধ নেই। আমরা এক মায়ের সন্তান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ১৩ তারিখ হয়তো নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চলমান থাকবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাহলে কি পুলিশ এতদিন আওয়ামীবান্ধব ছিল? যার কারণে বিগত নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ তারিখের রাতে হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ধানের শীষের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা ধরে রাখা আমাদের সকলের ঈমানী দায়িত্ব। তিনি ১৩ জানুয়ারী ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবু সুফিয়ানকে জয়ী করতে সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সাধারণ জনগণ চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে আমাদের মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শংকা আছে। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অতীত কর্মকান্ড সুখকর নয়। তারপরও ধানের শীষের যে জোয়ার উঠেছে তা কোন অপশক্তি ঠেকাতে পারবে না। জনগণের বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ বলেন, ১৩ জানুয়ারী হচ্ছে ভোট যুদ্ধের লড়াই। এ লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতে হবে। আওয়ামীলীগ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। তাই আবু সুফিয়ানকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেয়া এই চট্টগ্রাম-৮ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মেয়র এবং একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এটা স্পষ্টত নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যারা আইন বানাচ্ছেন, তারাই আইন ভঙ্গ করছেন। সরকারি দলের নেতাদের আইন অমান্যের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ঠ সংশয় তৈরি হয়েছে।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম আবু ফয়েজ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, সামশুল হক, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, উত্তর জেলা বিএনপির নুরুল আমীন, নুর মোহাম্মদ, সেকান্দর চৌধুরী, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম, জি. এম আইয়ুব খান, বায়েজিদ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু মোজাফ্ফর মো. আনাছ, ন্যাপ নগর সভাপতি ওসমান গণি সিকদার, লেবার পার্টির সভাপতি আলাউদ্দিন, এনপিপি সভাপতি আনোয়ার সাদেক সাদি, নগর বিএনপির সহসম্পাদক মো. ইদ্রিাস আলী, জেলী চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন বুলু, আরিফ মেহেদী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জসিম, নগর সদস্য জসিম উদ্দিন, শাহেদা বেগম, আফরোজা বেগম জলি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ সাব্বির, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মো. ইলিয়াছ, জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন আলম, বিএনপি নেতা সামশুল আলম মেম্বার, মাহবুবুল আলম, আনিসুর রহমান বাবুল, হাজী আবুল কালাম আবু, ইসমাইল হোসেন বালি, মো. ইউসুফ, আবদুল কাদের, আবুল বাশর, হাজী মো. বকতেয়ার, মোঃ ইসমাইল, জাহাঙ্গির আলম, বাদশা মিয়া, নুরু সওদাগর, আবদুল হালিম কালু, অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এম এ রাজ্জাক, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, মহিউদ্দিন জুয়েল, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, নাজিম উদ্দিন হিরো, মোঃ হাসান, আব্দুল হালিম, রাশেদ খান টিপু, আবুল হাসান বাপ্পা, ফিরোজ মাহমুদ, কাজী মহিউদ্দিন প্রমূখ।

এদিকে আজ বিকালে বোয়ালাখালী পৌরসভার ২, ৩, ৪, ৫ নং ওয়ার্ড়ে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। তিনি নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ জনগণের মাঝে ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, বোয়ালখালীর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: ইসাহাক চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।