খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক সুদের হার এপ্রিলে সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
ব্যাংক সুদের হার এপ্রিলে সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের স্বার্থে ব্যাংকগুলো আগামী এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)’র একটি প্রতিনিধিদল আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্টে ২২৫ কোটি টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে যা বলেছেন তা আমি পুনরায় বলতে চাই না। আশা করি সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার বাস্তবায়ন করা হবে। তা না হলে দেশে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হবে না এবং বিনিয়োগের ধারাও সংকটাপন্ন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা এর আগে যেসব দাবি করেছেন আমি তা পূরণ করেছি। কিন্তু আপনার আপনাদের কথা রাখেননি। আশা করি এবার অঙ্গীকারের ব্যতয় ঘটবে না। আপনারা তা বাস্তবায়ন করবেন।’

এর আগে বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন তারা আগামী এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার বাস্তবায়ন করবেন। অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সরকার সকল খাত বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার একা দেশের উন্নয়ন করতে পারে না। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দিতে গিয়ে তাঁর সরকারকে বহু বাধার সম্মুখীন হতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর তহবিল বন্ধে যাদের ভূমিকা ছিল তাদের পক্ষ থেকে বাধা ছিল। তারা প্রশ্ন করেছিল দেশের অর্থনীতি যেহেতু অত বড় নয় সেক্ষেত্রে এতগুলো ব্যাংকের অনুমোদন দিয়ে কি হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু সে সময় আমার উত্তর ছিল যে, এখন অর্থনীতি বড় নয়, কিন্তু একদিন এটি অনেক বড় হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সুগম করতে তিনি অনেক লোককে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলেন কেন? দেশের মানুষের বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে। আমরা একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে মানুষ বিনিয়োগ করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চায় যাতে দেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশের অদম্য অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক। আমরা বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, যেখান থেকে এটি আর কখনো মুখ থুবড়ে পড়বে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালিরা বিশ্বের যে কোন জায়গায় গিয়ে গর্ব করে বলতে পারে, আমার দেশ বাংলাদেশ। আমরা বাঙালি, আমাদের মর্যাদা রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছে এবং বিজয় অর্জন করেছে। ‘আমরা একটি বিজয়ী জাতি এবং আমরা সবসময় মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাই।’
ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কিছুই পাওয়ার নেই এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে তিনি গর্ববোধ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে বেঁচে থাকতে চাই। তিনি আমার সকল কাজের প্রেরণা।’

১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, কেউ বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না।’

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের অনুদান দেয়ার জন্য বিএবি’কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে মুজিব বর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দিনও পার করতে হয়েছে যখন আমরা জাতির পিতার জন্মশত বর্ষ উদযাপনের কথা ভাবতেও পারিনি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবং জনগণের সমর্থনে আমরা এটি উদযাপন করছি। আপনাদের অনুদান এ লক্ষ্যে কাজে লাগানো হবে।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং তাঁর বোন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িসহ সবকিছু দেশের মানুষের জন্য দান করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্ট থেকে দুর্গত মানুষ ও মেধাবি শিক্ষার্থী এবং একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গকে অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ ট্রাস্টের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হবে। ‘আমরা ইতোমধ্যে এ লাইব্রেরির জন্য বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশে একটি বাড়ি কিনেছি। এই লাইব্রেরির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম অনেক তথ্য জানতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজ নামচা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ওপর গোপন গোয়েন্দা নথিপত্র-এর মতো বঙ্গবন্ধুর লিখিত বই পড়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেউ এসব ঐতিহাসিক বই পড়লে জাতির পিতা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে।’

বঙ্গবন্ধুর চীন সফরের ওপর ওপর শিগগিরই একটি বই প্রকাশিত হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বই লিখতে পারলে বঙ্গবন্ধু একজন ভাল সাহিত্যিক হতে পারতেন।’

এর আগে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিএবি’র প্রধান কার্যালয়ে ‘মুজিব কর্নার’ উদ্বোধন করেন।

বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে বিএবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মুজিব কর্নার স্থাপন করবে।

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।