খুঁজুন
, ,

সংসদে আরও ১৬ স্থায়ী কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 5 February, 2024, 11:51 pm
সংসদে আরও ১৬ স্থায়ী কমিটি গঠন

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১৬টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। কমিটিগুলোর মধ্যে একটিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব করেন।

চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, দ্বাদশ সংসদের ৫০টি কমিটি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে রাত জেগে সভাপতিসহ সদস্যদের নাম লিখে দিয়েছেন। সে খাতাটি আমার হাতে। চলতি সপ্তাহেই সবগুলো কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হবে। কমিটিগুলোর যথাযথ ভূমিকা সংসদকে আরও বেশি কার্যকর করবে।

গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পিটিশন কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম নাহিদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. হুছামুদ্দিন চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে (সিলেট-৬)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (ঢাকা-৮), আবদুল মজিদ (কুমিল্লা-২), আহমদ হোসেন (নেত্রকোনা-৫), বিপ্লব হাসান পলাশ (কুড়িগ্রাম-৪), আবদুল মালেক সরকার (ময়মনসিংহ- ৬), আজিজুল ইসলাম (যশোর-৬)।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি সভাপতি করা হয়েছে সিলেট-৫ আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মাওলানা হুসামুদ্দীন চৌধুরী। এ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। তিনি দ্বাদশ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (ফরিদুল হক খান), এইচ এম ইব্রাহীম (নোয়াখালী-১), রশিদুজ্জামান (খুলনা-৬), বীর বাহাদুর উশৈসিং (বান্দরবান), রেজাউল হক চৌধুরী (কুষ্টিয়া-১), ননী গোপাল মণ্ডল (খুলনা-১), আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন (কুমিল্লা-৮), মোহাম্মদ ফয়সাল (মুন্সীগঞ্জ-৩), আমানুর রহমান খান রানা (টাঙ্গাইল-৩)।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুর-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (নাজমুল হাসান), মাশরাফি বিন মর্তুজা (নড়াইল-২), শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), মাইনুল হোসেন খান (ঢাকা-১৪), আব্দুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), সাকিব আল হাসান (মাগুরা-১), সোলায়মান সেলিম (ঢাকা-৭) ও মহিউদ্দিন মহারাজ (পিরোজপুর-২)।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: আসাদুজ্জামান নূর (নীলফামারী-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৬), ফেরদৌস আহমেদ (ঢাকা-১০), মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল (নীলফামারী-৩), জান্নাত আরা হেনরি ((সিরাজগঞ্জ-২), নাঈমুজ্জামান ভূইঁয়া (পঞ্চগড়-১), কামরুল আরেফিন (কুষ্টিয়া-২) ও সৈয়দ সায়েদুল হক (হবিগঞ্জ-৪)।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: শেখ ফজলুল করিম সেলিম (গোপালগঞ্জ-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, আ ফ ম রুহুল হক (সাতক্ষীরা-৩), জাহিদ মালেক (মানিকগঞ্জ-৩), সৈয়দা জাকিয়া নূর (কিশোরগঞ্জ-১), ডা. সামির উদ্দিন আহমেদ শিমুল (চাপাইনবাবগঞ্জ-১), আব্দুল আজিজ (সিরাজগঞ্জ-৩), মো. তৌহিদুজ্জামান, (যশোর-২) ও হামিদুল হক খন্দকার (কুড়িগ্রাম-২)।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: সাগুফতা ইয়াসমিন (মুন্সিগঞ্জ-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (সিমিন হোসেন রিমি), আব্দুল আজিজ (সিরাজগঞ্জ-৩), সৈয়দা জাকিয়া নূর (কিশোরগঞ্জ-১), খাদিজাতুল আনোয়ার (চট্টগ্রাম-২), তাহমিনা বেগম (মাদারীপুর-৩) ও জিল্লুর রহমান (মৌলভীবাজার-৩)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: রফিকুল ইসলাম (চাদঁপুর-৫), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আ ক ম মোজাম্মেল হক), শাহাজান খান (মাদারীপুর-২), রাজি উদ্দিন আহমেদ (নরসিংদী-৫), নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (চাদঁপুর-২), গোলাম দস্তগীর গাজী (নারায়ণগঞ্জ-১), ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৪)।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি- আফতাব উদ্দিন সরকার (নীলফামারী-১), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (রুমানা আলী), আহমেদ ফিরোজ কবির (পাবনা-২), আবুল কালাম (নাটোর-১), এস এম সাহাজাদা (পটুয়াখালী-৩), এইচ এম বদিউজ্জামান (বাগেরহাট-৪), নিলুফার আনজুম (ময়মনসিংহ-৩), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১) ও গোলাম সারোয়ার টুকু (বরগুনা-১)।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: এইচএম ইব্রাহীম (নোয়াখালী-১), সদস্য- ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, শাজাহান খান (মাদারীপুর-২), শামীম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৪), ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), এস এম আল মামুন (চট্টগ্রাম-৪), এস এম ব্রহানী সুলতান মামুদ (নওগাঁ-৪), আসাদুজ্জামান (রংপুর-১) ও মো. আবদুল্লাহ (লক্ষ্মীপুর-৪)।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে (রংপুর-৪)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আহসানুল ইসলাম টিটু), আ ক ম বাহিউদ্দিন বাহার (কুমিল্লা-৬), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (বগুড়া-২), শাহজাহান ওমর (ঝালকাঠি-১), মাহমুদ হাসান সুমন (ময়মনসিংহ-৮), সুলতানা নাদিরা (বরগুনা-২)।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে (পিরোজপুর-১)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আবদুর রহমান), আশরাফ আলী খান খসরু (নেত্রকোনা-২), বিএম কবিরুল হক মুক্তি (নড়াইল-১), ছোট মনির (টাঙ্গাইল-২), নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন (লক্ষ্নীপুর-২), রশিদুজ্জামান (খুলনা-৬), মোস্তাক আহমেদ রুহি (নেত্রকোনা-১), মশিউর রহমান মোল্লা সজল (ঢাকা-৫)।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাককে (টাঙ্গাইল-১)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আবদুস শহীদ), ওমর ফারুক চৌধুরী (রাজশাহী-১), মামুনুর রশিদ কিরণ (নোয়াখালী-৩), উম্মে কুলছুম স্মৃতি (গাইবান্ধা-৩), এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪), এম এ জাহের (কুমিল্লা-৫), জাকির হোসেন সরকার (রংপুর-৫), দেওয়ান জাহিদ আহমেদ (মানিকগঞ্জ-২)।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদারকে। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (সাবের হোসেন চৌধুরী), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), শাহাব উদ্দিন (মৌলভীবাজার-১), আবদুল ওদুদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), তানভীর শাকিল জয় (সিরাজগঞ্জ-১), গালিবুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), এস এম আতাউল হক (সাতক্ষীরা-৪), ছানোয়ার হোসেন ছানু (শেরপুর-১)।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (মুহিব্বুর রহমান), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন (চুয়াডাঙ্গ-১), মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (ফেনী-৩), শাহিন আক্তার (কক্সবাজার-৪), মোস্তাক আহমেদ রুহি (নেত্রকোনা-১), মজিবুর রহমান চৌধুরী (ফরিদপুর-৪), সালাহউদ্দিন মাহমুদ (মানিকগঞ্জ-১), আবদুর রশিদ (জামালপুর-৪)।

পিটিশন কমিটি

সভাপতি: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (রয়পুর-৬), শামসুল হক টুকু (পাবনা-১), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (ঠাকুরগাঁও-৩), আখতার উজ্জামান (গাজীপুর-৫), আবদুল মজিদ (কুমিল্লা-২), উম্মে কুলসুম স্মৃতি (গাইবান্ধা-৩) ও নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ-৫)।

লাইব্রেরি কমিটি

সভাপতি: ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু (পাবনা-১), শফিকুর রহমান (চাঁদপুর-৪), আফতাব উদ্দিন সরকার (নীলফামারী-১), আহমেদ ফিরোজ কবির(পাবনা-২), শামসুল আলম দুদু (জয়পুরহাট-১), সাহাদারা মান্নান (বগুড়া-১), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১) ও আব্দুল কাদের আজাদ (ফরিদপুর ৩)।

এর আগে গতকাল রোববার অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ১২টি কমিটি গঠন করা হয়।

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।