খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে আরও ১৬ স্থায়ী কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
সংসদে আরও ১৬ স্থায়ী কমিটি গঠন

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১৬টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। কমিটিগুলোর মধ্যে একটিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব করেন।

চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, দ্বাদশ সংসদের ৫০টি কমিটি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে রাত জেগে সভাপতিসহ সদস্যদের নাম লিখে দিয়েছেন। সে খাতাটি আমার হাতে। চলতি সপ্তাহেই সবগুলো কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হবে। কমিটিগুলোর যথাযথ ভূমিকা সংসদকে আরও বেশি কার্যকর করবে।

গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পিটিশন কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম নাহিদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. হুছামুদ্দিন চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে (সিলেট-৬)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (ঢাকা-৮), আবদুল মজিদ (কুমিল্লা-২), আহমদ হোসেন (নেত্রকোনা-৫), বিপ্লব হাসান পলাশ (কুড়িগ্রাম-৪), আবদুল মালেক সরকার (ময়মনসিংহ- ৬), আজিজুল ইসলাম (যশোর-৬)।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি সভাপতি করা হয়েছে সিলেট-৫ আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মাওলানা হুসামুদ্দীন চৌধুরী। এ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। তিনি দ্বাদশ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (ফরিদুল হক খান), এইচ এম ইব্রাহীম (নোয়াখালী-১), রশিদুজ্জামান (খুলনা-৬), বীর বাহাদুর উশৈসিং (বান্দরবান), রেজাউল হক চৌধুরী (কুষ্টিয়া-১), ননী গোপাল মণ্ডল (খুলনা-১), আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন (কুমিল্লা-৮), মোহাম্মদ ফয়সাল (মুন্সীগঞ্জ-৩), আমানুর রহমান খান রানা (টাঙ্গাইল-৩)।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুর-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (নাজমুল হাসান), মাশরাফি বিন মর্তুজা (নড়াইল-২), শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), মাইনুল হোসেন খান (ঢাকা-১৪), আব্দুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), সাকিব আল হাসান (মাগুরা-১), সোলায়মান সেলিম (ঢাকা-৭) ও মহিউদ্দিন মহারাজ (পিরোজপুর-২)।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: আসাদুজ্জামান নূর (নীলফামারী-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৬), ফেরদৌস আহমেদ (ঢাকা-১০), মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল (নীলফামারী-৩), জান্নাত আরা হেনরি ((সিরাজগঞ্জ-২), নাঈমুজ্জামান ভূইঁয়া (পঞ্চগড়-১), কামরুল আরেফিন (কুষ্টিয়া-২) ও সৈয়দ সায়েদুল হক (হবিগঞ্জ-৪)।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: শেখ ফজলুল করিম সেলিম (গোপালগঞ্জ-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, আ ফ ম রুহুল হক (সাতক্ষীরা-৩), জাহিদ মালেক (মানিকগঞ্জ-৩), সৈয়দা জাকিয়া নূর (কিশোরগঞ্জ-১), ডা. সামির উদ্দিন আহমেদ শিমুল (চাপাইনবাবগঞ্জ-১), আব্দুল আজিজ (সিরাজগঞ্জ-৩), মো. তৌহিদুজ্জামান, (যশোর-২) ও হামিদুল হক খন্দকার (কুড়িগ্রাম-২)।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: সাগুফতা ইয়াসমিন (মুন্সিগঞ্জ-২), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (সিমিন হোসেন রিমি), আব্দুল আজিজ (সিরাজগঞ্জ-৩), সৈয়দা জাকিয়া নূর (কিশোরগঞ্জ-১), খাদিজাতুল আনোয়ার (চট্টগ্রাম-২), তাহমিনা বেগম (মাদারীপুর-৩) ও জিল্লুর রহমান (মৌলভীবাজার-৩)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: রফিকুল ইসলাম (চাদঁপুর-৫), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আ ক ম মোজাম্মেল হক), শাহাজান খান (মাদারীপুর-২), রাজি উদ্দিন আহমেদ (নরসিংদী-৫), নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (চাদঁপুর-২), গোলাম দস্তগীর গাজী (নারায়ণগঞ্জ-১), ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৪)।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি- আফতাব উদ্দিন সরকার (নীলফামারী-১), সদস্য- মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (রুমানা আলী), আহমেদ ফিরোজ কবির (পাবনা-২), আবুল কালাম (নাটোর-১), এস এম সাহাজাদা (পটুয়াখালী-৩), এইচ এম বদিউজ্জামান (বাগেরহাট-৪), নিলুফার আনজুম (ময়মনসিংহ-৩), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১) ও গোলাম সারোয়ার টুকু (বরগুনা-১)।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সভাপতি: এইচএম ইব্রাহীম (নোয়াখালী-১), সদস্য- ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, শাজাহান খান (মাদারীপুর-২), শামীম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৪), ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), এস এম আল মামুন (চট্টগ্রাম-৪), এস এম ব্রহানী সুলতান মামুদ (নওগাঁ-৪), আসাদুজ্জামান (রংপুর-১) ও মো. আবদুল্লাহ (লক্ষ্মীপুর-৪)।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে (রংপুর-৪)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আহসানুল ইসলাম টিটু), আ ক ম বাহিউদ্দিন বাহার (কুমিল্লা-৬), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (বগুড়া-২), শাহজাহান ওমর (ঝালকাঠি-১), মাহমুদ হাসান সুমন (ময়মনসিংহ-৮), সুলতানা নাদিরা (বরগুনা-২)।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে (পিরোজপুর-১)। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আবদুর রহমান), আশরাফ আলী খান খসরু (নেত্রকোনা-২), বিএম কবিরুল হক মুক্তি (নড়াইল-১), ছোট মনির (টাঙ্গাইল-২), নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন (লক্ষ্নীপুর-২), রশিদুজ্জামান (খুলনা-৬), মোস্তাক আহমেদ রুহি (নেত্রকোনা-১), মশিউর রহমান মোল্লা সজল (ঢাকা-৫)।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাককে (টাঙ্গাইল-১)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (আবদুস শহীদ), ওমর ফারুক চৌধুরী (রাজশাহী-১), মামুনুর রশিদ কিরণ (নোয়াখালী-৩), উম্মে কুলছুম স্মৃতি (গাইবান্ধা-৩), এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪), এম এ জাহের (কুমিল্লা-৫), জাকির হোসেন সরকার (রংপুর-৫), দেওয়ান জাহিদ আহমেদ (মানিকগঞ্জ-২)।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদারকে। সদস্য হিসেবে আছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (সাবের হোসেন চৌধুরী), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), শাহাব উদ্দিন (মৌলভীবাজার-১), আবদুল ওদুদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), তানভীর শাকিল জয় (সিরাজগঞ্জ-১), গালিবুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), এস এম আতাউল হক (সাতক্ষীরা-৪), ছানোয়ার হোসেন ছানু (শেরপুর-১)।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী (মুহিব্বুর রহমান), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন (চুয়াডাঙ্গ-১), মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (ফেনী-৩), শাহিন আক্তার (কক্সবাজার-৪), মোস্তাক আহমেদ রুহি (নেত্রকোনা-১), মজিবুর রহমান চৌধুরী (ফরিদপুর-৪), সালাহউদ্দিন মাহমুদ (মানিকগঞ্জ-১), আবদুর রশিদ (জামালপুর-৪)।

পিটিশন কমিটি

সভাপতি: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (রয়পুর-৬), শামসুল হক টুকু (পাবনা-১), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (ঠাকুরগাঁও-৩), আখতার উজ্জামান (গাজীপুর-৫), আবদুল মজিদ (কুমিল্লা-২), উম্মে কুলসুম স্মৃতি (গাইবান্ধা-৩) ও নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ-৫)।

লাইব্রেরি কমিটি

সভাপতি: ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু (পাবনা-১), শফিকুর রহমান (চাঁদপুর-৪), আফতাব উদ্দিন সরকার (নীলফামারী-১), আহমেদ ফিরোজ কবির(পাবনা-২), শামসুল আলম দুদু (জয়পুরহাট-১), সাহাদারা মান্নান (বগুড়া-১), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১) ও আব্দুল কাদের আজাদ (ফরিদপুর ৩)।

এর আগে গতকাল রোববার অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ১২টি কমিটি গঠন করা হয়।

Feb2

ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি গাড়ির ভেতর থেকে। বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

চার ভাই হলেন— রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ার মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইদের মধ্যে দুজনের আগামীকাল শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হন। এর মধ্যেই পথে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, এতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রাতের দিকে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ওমানের স্থানীয় পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই ওমান প্রবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫ তারিখ (শুক্রবার) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকার ফলে এর এসি থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দুই ভাই একসাথে দেশে ফেরার আনন্দ নিয়ে শপিং করতে বের হলেও, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, তাদের দুই ভাই দেশে ফেরার কথা ছিল কিন্তু ফিরছেন লাশ হয়ে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ওই চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পর ওই চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় থাকা তাদের এক স্বজনকে ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে জানান, তারা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। যেখানে অবস্থান করছেন, সেই এলাকার লোকেশনও পাঠান। এর মধ্যেই রাতে মুলাদ্দাহ এলাকায় পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসা নিতেই ক্লিনিকটির সামনে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন চার ভাই। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া উদ্বোধনের সময় শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে।

আজ ২৩ মে বুধবার বিকেলে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল’ বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষির চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে বামনশাহী খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানকার ৫৪টি খালের মধ্যে ৬২ কিঃমিঃ খননসহ মোট ১২৮ কিঃমিঃ খাল খনন করা হবে। তিনি বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির উপরিভাগ কাটা হয়ে থাকে। এ বছর আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে খননকৃত খালের মাটি যেন ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তাহলে এসব মাটির যেমন কার্যকর ব্যবহার হবে তেমনি কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা পাবে। চট্টগ্রামের ডি সি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপন করা হবে।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননকৃত খালের মাটি যেন আবার সেই খালে না পড়ে সে বিষয়টি তদারক করা হবে। তাছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল মরে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাও খনন করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খননের জন্য খাল বাছাই এর ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষির গুরুত্ব দেখা হবে। যেসব খালের দ্বারা কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজে করা যবে-সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দুর করতে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলা-প্রভৃতি বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা ছিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এসময় সিদ্দীকা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জনগণ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগণের নিকট তুলে ধরতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ১৮০ দিনের প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারা দেশে ১০২১টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১০৬০টি চলচ্চিত্র প্রামাণ্যচিত্র ও টিভিসি প্রদর্শণী, ৩২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার ও মাইকিং, ২৩১৬টি অনলাইন প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামেলি সমাবেশ, ১৪টি নৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ৩৪০টি স্থানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন বড় পর্দায় জনবহুল স্থানে প্রদর্শণ করা হয়েছে। একই কর্মসুচির আওতায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ৬০ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শণী, ৮টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১৮০টি অনলাইন প্রচার এবং অগ্রাধিকারমূলক কর্মসুচির উদ্বোধন বড় পর্দায় ৫টি জনবহুল স্থানে দেখানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন ও নারীর জন্য গাড়ি বিষয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মোঃ কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

“আমরা সবাই এখন নিজের সন্তানকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পাওয়ানোর দৌড়ে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা কি ভাবছি—আমার সন্তানটি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠছে কি না? আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না। পরিবার ও সমাজ থেকে মানবিক সংযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু চিকিৎসা নয়, অটিজম প্রতিরোধে সামাজিক সুস্থতাও জরুরি।”

আজ বুধবার ( ১৩ মে) চট্টগ্রামে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৩ সালে ডোনাল্ড গ্রে ট্রিপলেট নামে এক শিশুকে কেন্দ্র করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লিও কানার অটিজম নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সেই গবেষণার মাধ্যমেই আধুনিক অটিজম ধারণার সূচনা হয়।

তিনি বলেন, “অটিজম” শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “অটোস” থেকে, যার অর্থ নিজেকে কেন্দ্র করে থাকা। তবে আজ অটিজম শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি সামাজিক বাস্তবতারও অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা মঞ্চে যারা কথা বলি, আমরা পিছনের চিত্রটা তুলে ধরি না। দেশের ৯৮ লক্ষ অটিস্টিক শিশুদের পরিবারে যে কষ্ট, যে হাহাকার আছে, তা আড়ালেই থেকে যায়।”

তিনি বলেন, “আমরা স্টিফেন হকিংয়ের কথা শুনেছি, মাইকেল ফেলপসের কথা শুনেছি। হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের জীবনেও গভীর মানসিক সংকট ছিল। মানুষের মানসিক জগৎ, একাকিত্ব, গ্রহণ-বর্জনের প্রবণতা—এসব বিষয় নিয়েই আজকের অটিজম আলোচনার বিস্তৃতি।”

গতকাল চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে অটিজম ইউনিট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সেখানে অত্যন্ত বড় একটি অটিজম ইউনিট দেখেছি। দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছি—কেন অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা বাড়ছে?”

তিনি জানান, চিকিৎসকদের মতে আগে শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “একসময় ‘পরিজন’ শব্দটির গভীরতা ছিল। আজ আমরা পরিবারকেন্দ্রিক হলেও মানবিক সংযোগ হারিয়ে ফেলছি। আমরা সবাই ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে আছি। জীবনের আনন্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তারা অনেকেই সচেতন ও সচ্ছল পরিবারের প্রতিনিধি। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য পরিবার আছে, যারা নীরবে সংগ্রাম করছে। তাদের কণ্ঠ আমরা কতটা শুনছি?”

নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল নিয়ে কথা বলি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালনের জায়গাটি ভুলে যাই। শুধু অন্যকে দোষারোপ করলে হবে না; প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। তাই আমাদের শুধু সহায়তা নয়, প্রতিরোধ নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী থাকবে?”

পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও ইউরোপ-আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা এক নয়। আমাদের সংস্কৃতি, পরিবার ও মূল্যবোধ আলাদা। পশ্চিমা আচরণ হুবহু অনুসরণ করলে সবসময় তা আমাদের সমাজে মানানসই হবে না।”

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মানুষ। প্রতিটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ—Every Life Matters। এই জনগণকেই দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তবে কেউ তার কাছে যাবে না। তেমনি মানুষের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে, তবে সে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হওয়ার দাবি করতে পারে না।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “‘আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমি মানুষ।’ মানুষ হওয়ার জন্য মানবিকতা প্রয়োজন। বড়দের সম্মান করতে জানতে হবে, ছোটদের ভালোবাসতে জানতে হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা যদি এই মূল্যবোধ থেকে সরে যাই, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠন সম্ভব হবে না। বরং আমাদের নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ বহন করতে হবে। কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে কেউ দ্রুত এগোতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসংযুক্ত। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের সমাজের অস্থিরতা কমাতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। অটিজম বিষয়ে বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, প্রয়াস-এর অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল সাঈদা তাহমিনা সিমা, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জাফর আলম এবং অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী।

মীরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, উর্বশী দেওয়ান, মো. শহীদ উল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের অ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে প্রাপ্ত এককালীন অনুদান বিতরণ করা হয়। এসময় চট্টগ্রামের ২৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অটিজম সচেতনতা বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।