খুঁজুন
বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাগত হিজরি নববর্ষ ১৪৪৬

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
স্বাগত হিজরি নববর্ষ ১৪৪৬

বাংলাদেশের আকাশে মুহাররম মাসের চাঁদ উদয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন হিজরি বর্ষ। হিজরি সনের প্রথম মাস হলো মহররম। হিজরি সন গণনা করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে। পবিত্র কুরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফে এ মাসকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। কোরআনের ভাষায় এটি সম্মানিত চার মাসের ‘আরবাআতুন হুরুম’ অন্যতম।

এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- এক হাদিসে নবী করিম সা: বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর কাছে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ’ (মুসলিম-৩৬৮)।

দিন, মাস আর সনের হিসাব ছাড়া আধুনিক পৃথিবীতে কোনো কাজই চলে না। আমাদের বাংলাদেশে তিনটি বর্ষপঞ্জির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সরকারি-বেসরকারি দাফতরিক কাজকর্ম, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ইংরেজি বর্ষপঞ্জি একটি অপরিহার্য মাধ্যম। হিন্দু-সম্প্রদায়ের পূজা-পার্বণ, বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ আর কৃষিজীবীদের আবাদি মৌসুমের হিসাব ছাড়া বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়। মুসলমানদের নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, শবেবরাত, শবেকদর, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ ধর্মীয় বিষয়াবলির জন্য হিজরি সনের হিসাব অপরিহার্য।

হিজরি সন গণনার সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক এক অবিস্ময়রণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে। রাসূল সা: ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আরবি মহররম মাসকে হিজরি সনের প্রথম মাস ধরে সাল গণনা শুরু হয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তথা দ্বীনের স্বার্থে পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় রাসূল সা: ও সাহাবায়ে কেরামদের হিজরতের বছর থেকেই হিজরি সনের সূচনা।

খলিফা হজরত ওমর ফারুক রা:-এর শাসনামলে ১৬ হিজরি সনে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মূসা আশআরি রা: ইরাক ও কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদা হজরত আবু মূসা আশআরি রা: খলিফা ওমর রা:-এর খেদমতে এ মর্মে পত্র লিখেন যে, আপনার পক্ষ থেকে পরামর্শ কিংবা নির্দেশ সংবলিত যেসব চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছে তাতে দিন, মাস, কাল, তারিখ ইত্যাদি না থাকায় কোন চিঠি কোন দিনের তা নিরূপণ করা আমাদের জন্য সম্ভব হয় না। এতে করে আমাদের নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্যা হয়। অনেক সময় আমরা বিব্রত বোধ করি চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে।

হজরত আবু মূসা আশআরির চিঠি পেয়ে হজরত উমর রা: এ মর্মে পরামর্শসভার আহ্বান করেন যে, এখন থেকে একটি ইসলামী তারিখ প্রবর্তন করতে হবে। ওই পরামর্শসভায় হজরত উসমান রা: হজরত আলী রা:সহ বিশিষ্ট অনেক সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ওই সভায় ওমর রা: সিদ্ধান্ত দেন ইসলামী সন প্রবর্তনের। তবে কোন মাস থেকে বর্ষের সূচনা করা হবে তা নিয়ে পরস্পরের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়।

কেউ এ মত পোষণ করেন- রাসূল সা:-এর জন্মের মাস রবিউল আওয়াল থেকে বর্ষ শুরু করার। আবার কেউ কেউ মত পোষণ করেন রাসুলের ওফাতের মাস থেকে বর্ষ শুরু করা হোক। অন্যান্যের মতে, হুজুর সা:-এর হিজরতের মাস থেকে বর্ষ করা হোক। এভাবে বিভিন্ন মতামত আলোচিত হওয়ার পর হজরত উমর রা: বললেন, হুজুর সা:-এর জন্মের মাস থেকে হিজরি সনের গণনা শুরু করা যাবে না। কারণ খ্রিষ্টান সম্প্রদায় হজরত ঈসা আ:-এর জন্মের মাস থেকেই খ্রিষ্টাব্দের গণনা শুরু করেছিল। তাই রাসূল সা:-এর জন্মের মাস থেকে সূচনা করা হলে বাহ্যত খ্রিষ্টানদের অনুসরণ ও সদৃশতা হয়ে যায়, যা মুসলমানদের জন্য পরিত্যাজ্য।

এ সম্পর্কে রাসুলের বাণী- ‘তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বিরোধিতা করো’ (বুখারি ও আবু দাউদ শরিফ)।

অপর দিকে, হুজুর সা:-এর ওফাত দিবসের মাস থেকেও গণনা শুরু করা যাবে না, কারণ এতে হুজুর সা:-এর মৃত্যু ব্যথা আমাদের মাঝে বারবার উত্থিত হবে। পাশাপাশি অজ্ঞ যুগের মৃত্যুও শোক পালনের ইসলামবিরোধী একটি কুপ্রথারই পুনরুজ্জীবন ঘটবে।

হজরত ওমর রা:-এর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের সাথে হজরত উসমান রা: ও হজরত আলী রা: একবাক্যে সহমত পোষণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওমর ফারুক রা: হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপঞ্জি গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল উলা ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।

Feb2

চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে কুরবানির পশুর দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন দর ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিন সচিবালয়ে কুরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছানো হবে। এজন্য ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় এই লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সঠিক সময়ে লবণের সরবরাহ এবং চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চামড়া পাচার রোধ ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া যাবে। মূলত কুরবানিকে ঘিরে চামড়া শিল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খল রাখতেই প্রতি বছরের মতো এবারও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেক সভায় উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো— একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কোলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে ভারত। ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।

ফারাক্কা ব্যারেজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালে লবণাক্ততা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি কৃষি, মৎস্য, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অবকাঠামো পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম ধাপ)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যার পুরো অর্থই সরকারি নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়ন করবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ২০৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- নির্ধারিত গতিতে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং রেল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো।

ওই কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কে ক্রমবর্ধমান পরিচালন চাপ এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এসএম শাকিল আখতার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইন আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখনো আধুনিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও কোচের সংকট রয়েছে। তাই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় গত একনেক সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নতুন লোকোমোটিভ, কোচ ও মালবাহী বগি সংগ্রহে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার ৯৩০ দশমিক ৮৮ রুট কিলোমিটার এবং ২ হাজার ৫০৫ দশমিক ৫০ ট্র্যাক কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এসব রেলপথে নিয়মিত যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে এই নেটওয়ার্কের বড় অংশ ১ হাজার ৯৩০, ১ হাজার ৯৪৩, ১ হাজার ৯৬৮ ও ১ হাজার ৯৬৯ সালে স্থাপিত পুরোনো রেললাইন দিয়ে গড়ে ওঠায় অনেক অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেশ কিছু অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে রেললাইনে ফাটল, ওয়েল্ডিং জয়েন্টে ত্রুটি এবং লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এতে নিরাপদ ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, রেললাইনের স্লিপার ও ব্যালাস্টের অবস্থাও উদ্বেগজনক। অনেক এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ট্র্যাকের স্থিতিশীলতা ও সঠিক গেজ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যালাস্টেরও ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। এতে ট্র্যাকের ভারসাম্য ও গেজ সুরক্ষা দুর্বল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।

সৈয়দপুর-জয়দেবপুর করিডোরসহ কয়েকটি রেলপথ ২০০০ সালের শুরুর দিকে পুরোনো সরঞ্জাম দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলাচলের কারণে এসব লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এতে রেললাইন, স্লিপার ও ফিটিংসের কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক এলাকায় ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে আনতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১ দশমিক ৪৯২ কিলোমিটার রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়া ৫০০ দশমিক ২ কিলোমিটার রেললাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আরও ৪৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার রেলপথের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও মালবাহী পরিবহন সচল রাখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর-ইব্রাহিমাবাদ, সয়দাবাদ-ঈশ্বরদী বাইপাস, ঈশ্বরদী বাইপাস-মালঞ্চি, ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী বাইপাস, মালঞ্চি-সাহাগোলা, সাহাগোলা-সান্তাহার, সান্তাহার-জয়পুরহাট, জয়পুরহাট-বিরামপুর, বিরামপুর-পার্বতীপুর, আব্দুলপুর-রাজশাহী কোর্ট এবং ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ।

প্রকল্প এলাকা রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের একাধিক জেলায় বিস্তৃত। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী ও কুষ্টিয়া।

দেশীয় পরিবহন উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকল্পটি আঞ্চলিক রেল সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বেনাপোল, দর্শনা, রহনপুর, বিরল ও চিলাহাটির মতো প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে মালবাহী পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এসব বন্দরে নিয়মিত পাথর, বোল্ডারসহ ভারী মালামাল পরিবহন করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে- বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেলভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোও শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক (টিএআর), দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ফোরাম, বিমস্টেক এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগের মতো আঞ্চলিক সংযোগ কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করেছে।