খুঁজুন
, ,

আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি-জামায়াতের হাতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 July, 2024, 6:55 pm
আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি-জামায়াতের হাতে

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি-জামায়াতের হাতে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম ছাত্ররা সরকারের উদ্যোগ ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা সেটি করেননি। তাদের কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) বিএনপি-জামায়াত ও জঙ্গিদের হাতে। যারা দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এদের আক্রোশই ছিল পুলিশ ও আওয়ামী লীগের প্রতি। দুইজন সাংবাদিককে হত্যা ও একজন নারী সাংবাদিককে নাজেহাল করেছে তারা। এরা মানুষের শত্রু, জনগণের ও দেশের শত্রু।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতকারীদের নাশকতা-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জে নজিরবিহীন তাণ্ডবের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে একটি ভবনে আগুন দিয়ে তিন শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা। শিমরাইলে মা হাসপাতালেও আগুন দেয় তারা। সেখান থেকে নবজাতক ও গর্ভবতী মায়েদের অনেক কষ্টে উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। পিবিআই অফিস, পাসপোর্ট অফিস, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ২ নম্বর রেলগেটে পুলিশ বক্স, সিটি কর্পোরেশন ভবন, যুব উন্নয়ন অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মদনপুরে ছয় পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, থানায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ওরা পদ্মা সেতুর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও প্ল্যান সেতু ভবনে হামলা করে পুড়িয়ে দিয়েছে৷ ত্রাণ ভবন বিনষ্ট করেছে তারা। যে বিটিভি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর্কাইভে সংরক্ষণ করে, সেই বিটিভি ভবনও পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমাদের স্বপ্নের ও গর্বের মেট্রোরেলও ওদের অগ্নিসংযোগে এখন বন্ধ।

শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ছাত্র আন্দোলনের নেতা‌রা নতুন ‌যে ৮ দফা দাবি দিয়েছিলেন সে প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এগুলোর মধ্যে যৌ‌ক্তিক দাবিগুলো ক্রমান্বয়ে মেনে নেবেন। কিন্তু সেই সুযোগ শিক্ষার্থীরা দেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারী তিনজ‌নকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা নিজেদের ওপরে হামলার শঙ্কা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। কারা তাদের আক্রমণ করতে চায় সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে যে পুলিশ, তাদের ওপর নির্মমভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের দেশপ্রেমিক বিজিবিদের ওপরও হামলা করা হয়েছে। আমাদের র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি যখন একত্রে পারছিল না তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছি। খুব শিগগিরই আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাব। আমি আগেই বলেছি, ছাত্রদের মিসগাইড করে যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, আমাদের ছাত্রলীগের অনেকেই শাহাদাত বরণ করেছে। তিনজন পুলিশ মারা গেছেন। একজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বর্তমানে এক‌টি মহল সোশ্যাল মি‌ডিয়ার মাধ‌্যমে গুজব ছ‌ড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রা‌ন্তি ছড়াচ্ছে। এইসব গুজব থেকে দেশকে রক্ষা করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।

সহিংসতায় প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তিনজন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন। এক পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল ওরা। গাজীপুরের সাবেক জনপ্রিয় মেয়রের পিএসকেও ওরা হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছিল। এমনকি নরসিংদী জেলখানায় ওরা হামলা করে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বের করে এনেছে, অস্ত্রও লুট করেছে। সেই অস্ত্র ওরা এখন পুলিশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে চায়, জঙ্গিদের দ্বারা আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা, আপনারা ওদের বীভৎসতা, নির্মমতা বেশি করে প্রচার করুন। আমাদের পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশপ্রেমিক। তারা এসবে ভয় পায় না।

এদিন মন্ত্রী দুষ্কৃতকারীদের হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পিবিআই কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশন ভবন, শিল্প পুলিশ কার্যালয়সহ আরও বেশ কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুল ইসলাম, র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হাই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:10 am
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান এই তথ‍্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ জেলায় সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, গৃহপালিত পশু রক্ষা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আশিকুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও তারা সহযোগিতা করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান,এই সমন্বিত তৎপরতা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করছে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:55 am
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের দেখা পেল। হুলিয়ান আলভারেজের দর্শনীয় গোলে ২-১ এ এগিয়ে গেল তারা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ দূর থেকে তার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।

এর আগে আর্জেন্টিনা দশম মিনিটে এগিয়ে যায়। নবম মিনিটে কর্নার পায় তারা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। এম্বোলো ডান দিক থেকে একটি থ্রু বল পেয়ে গোলের দিকে ছুটে যান। তিনি বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। এনদোয়ে দ্রুত গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লক করে তাকে আটকে দেন। তবে গোল হলেও সেটি হতো না। কারণ এর আগেই লাইন্সম্যান এম্বোলোর অফসাইডের কারণে পতাকা তুলেছিলেন।

সুইজারল্যান্ড আবার আক্রমণে ওঠে। বাঁ দিক থেকে বল ভেসে আসে বক্সের ভেতরে। এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজ ডান দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন।

সুইস মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি মার্টিনেজের সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খেলেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই গতিময় শটটি রুখে দেন।

লাল কার্ড পাওয়ার ঠিক আগে এনদোয়ে বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলেন। ফিরতি পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনদোয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। কোণাকুনি শটে বলটি দূরের পোস্টে গিয়ে জড়ায়। সুইজারল্যান্ড দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

৬৭ মিনিটে গোল করে সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরায়। ৫ মিনিট পর তারা ১০ জনের দলে পরিণত হলো। ৭২ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রাথমিকভাবে এম্বোলোকে ফাউল করার কারণে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ফরোয়ার্ড। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকে।

জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজ একটি ক্রস রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে স্লাইড করেন। গোলমুখের সামনে বল উড়ে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। ডানদিকে কাট করে তিনি দূরের পোস্ট দিয়ে শট নেন। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বল বাঁক খেয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জটলার ভেতরে বল পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক কিক কোবেল সহজেই আটকে দেন।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা লিড নিলেও শেষ অর্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনাকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোর ১-১। তাতে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে।

৯৩ মিনিটে আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান আলমাদা। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার শট কোবেল রুখে দেন। দুই মিনিট পর আবারও আলমাদার দুর্দান্ত একটি শট। বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও সাইডনেটে লাগে।

দুই মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রুলারকে টেনে ধরে বুকড হন আলমাদা। পরের মিনিটে আকাঞ্জিকে ফাউল করে শাস্তি পান লাউতারো। সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:47 am
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।