খুঁজুন
, ,

টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 8:02 am
টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড

কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ বিদায় নিশ্চিত করল সুইজারল্যান্ড। শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় কোনো দলই গোল পায়নি। টাইব্রেকারে কলম্বিয়া দুটি শটে গোল মিস করে। একটি শটে গোল না পেলেও সুইজারল্যান্ড বিজয়ের হাসি হেসেছে। ৪-৩ ব্যবধানে দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা।

২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠেও বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এবার তারা সেই গেরো কাটাল। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইসরা। ৭২ বছর পর শেষ আটে উঠে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে আর্জেন্টিনাকে।

দুই দলই টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে। অবশেষে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্তভাবে কুচো হার্নান্দেজের শটটি আটকে দেন। রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টি গোল করেন।

বিশ্বকাপে এটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শেষ ম্যাচ। হাজার হাজার আবেগপ্রবণ সমর্থকের সমর্থনে ভ্যাঙ্কুভারে মাঠে নামে কলম্বিয়া। এই ম্যাচের আগে তারা তাদের গত চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল খেয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙাও বেশ কঠিন হয়েছে এবার।

ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রথম আক্রমণ হয়। পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে গুস্তাভো পুয়ের্তার একটি বাঁকানো শট কোবেল উড়ন্ত সেভ করে আটকে দেন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরপরই সুইসরা তাদের খেলার গতি বাড়ায়। কামিলো ভার্গাস প্রথমে ফ্যাবিয়ান রিডারের একটি শট রুখে দেন। পরে ড্যান এনডোয়েকেও গোলবঞ্চিত করেন। তবে প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুইজারল্যান্ড আক্রমণাত্মক খেলে। কলম্বিয়াও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। লুইস সুয়ারেজের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই একাধিক খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

কলম্বিয়ার তারকা উইঙ্গার লুইস দিয়াজকে পুরোটা সময় বোতলবন্দি রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগে এনডোয়ের একটি শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ০-০ গোলে টাই থাকে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে খেলা কিছুটা জমে ওঠে। নবম মিনিটে কর্নার থেকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জন লুকুমির একটি হেড বারে লেগে ফিরে আসে। জামিন্টন ক্যাম্পাজের একটি জোরালো শট কোবেল চমৎকারভাবে আটকে দেন। অন্যদিকে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাস বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুইস বদলি খেলোয়াড় জেকি আমদুনির একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। খেলার শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচ জেতার একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ক্যাম্পাজ।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। যেখানে কুচো হার্নান্দেজ গোলবঞ্চিত হওয়ার আগে ডেভিনসন সানচেজ কলম্বিয়ার হয়ে গোল মিস করেন। সুইজারল্যান্ডের আকাঞ্জিও গোলবারের ওপর দিয়ে মেরেছিলেন। তবে দুই মিসের খেসারত দিতে হয়েছে কলম্বিয়াকে।

পরবর্তী পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। লিওনেল মেসির দল আটলান্টায় মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এর আগে ১৯৫৪ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।