খুঁজুন
বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো কোটা আন্দোলনকারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৪, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো কোটা আন্দোলনকারীরা

সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার এবং ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ সকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থী হত্যার সাথে জড়িত মন্ত্রী পর্যায় থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সকল দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্লাটফর্ম।

আজ শনিবার (২৭ জুলাই) রাতে এক অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে গুগল মিট প্লাটফর্মে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মাহিন সরকার এবং সহ-সমন্বক রিফাত রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়করা বলেন, ভয় ও আতঙ্কে সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করতে পারছেন না তারা। তাড়া খেয়ে একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখান থেকে তারা সংবাদ সম্মেলন করছেন। বেশ কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না বলে জানান তারা।

আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে সোমবার থেকে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। একইসঙ্গে কোটা সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে কমিশন গঠন করে সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

তিনি বলেন, রবিবার সারা দেশের দেয়ালগুলোতে গ্রাফিতি ও দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া গণহত্যার চিত্রগুলো অনলাইন এবং অফলাইনে প্রচার করা হবে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র, সংস্থাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ২৬৬ জনের হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছি। তার মধ্যে ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। আমরা ধারণা করছি ১ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে অজ্ঞাত ও মিথ্যা হামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাসায় বাসায় এবং মেসে গিয়ে ছাত্র পরিচয় পেলে আটক করা হচ্ছে। প্রায় হাজারের উপর মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

সংবাদ সম্মেলনে সহ-সমন্বক রিফাত রশিদ বলেন, প্রজ্ঞাপন দিলেও আমাদের এক দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। আমরা প্রজ্ঞাপন প্রজ্ঞাপন খেলা আর চাই না। চেয়েছি স্থায়ী সমাধান, সংসদে আইন পাশ। আমরা এখনো বলছি শিক্ষার্থীদেরসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন পাশ করতে হবে।

রিফাত আরও বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। ডিজটাল ক্র্যাকডাউন এবং সমন্বয়কদের তুলে নেওয়ার কারণে আমরা একসঙ্গে হতে না পারার জন্য ৮ দফা, ৯ দফা এসেছে। তবে সেগুলোর সাথে আমাদের মিল রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা একসঙ্গে হয়ে নতুন করে দফা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করার চেষ্টা করব। এত মানুষ হত্যা করার পরও সরকার দুঃখ প্রকাশ করছে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। সে কারণে আমাদের আন্দোলনও চলবে।

আরেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেও আমরা সে ফাঁদে পা দিই নাই। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা শুরু হয়ে যায়। অনেক সমন্বয়ক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হত্যা চালানো হয়। আমাদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তাই আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাব।

Feb2

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখার জেরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করেন আল মামুন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটার দিকেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৫ থেকে ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফের অবস্থা গুরুতর এবং তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির মোবাইল ফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করে বলেন, ‘কলেজে মারামারি হয়েছে। রনি ভাই আহত হয়েছেন, তাকে পাচ্ছি না।’

সংঘর্ষের বিষয়ে সিটি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও কলেজের সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছিল। দুপুরে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।