খুঁজুন
, ,

শত শত পরিবার আজও আছে অপেক্ষায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 30 August, 2024, 8:42 am
শত শত পরিবার আজও আছে অপেক্ষায়

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর। অগ্রহায়ণের হালকা শীতের রাত। রাজধানীর দক্ষিণখানের হাজী মার্কেটের সামনে থেকে সাদা পোশাকের কয়েক ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয় তেজগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ঝন্টুকে। ছেলে রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বাবা নুর মোহাম্মদ খান বুঝতে পারেননি ছেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে। ভেবেছিলেন, সরকারবিরোধী রাজনীতি করা ছেলের নিয়তিতে জেল নির্ধারিত। কিন্তু থানা, আদালত, কারাগার কোথাও ঝন্টুর সন্ধান না পেয়ে বুঝতে পারেন, তাঁর আদরের সন্তানকে গুম করা হয়েছে।

ছেলেকে ফিরে পেতে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে বছরের পর বছর ঘুরেছেন নুর মোহাম্মদ খান। তীব্র মনোকষ্ট নিয়ে তিনি ২০১৬ সালে মারা যান। আর ঝন্টুর মা হাসিনা বেগম ১১ বছর পরও রাত জেগে থাকেন ছেলের অপেক্ষায়। দরজায় শব্দ হলে ভাবেন, এই বুঝি ছেলে এলো!

ঝন্টু ফিরে এসে যদি মাকে খুঁজে না পান– এই শঙ্কায় ভাড়া বাসা বদল করেননি হাসিনা বেগম। ঝন্টুর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম মিঠু সমকালকে বলেন, সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসার সামনে লন্ড্রিতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। দুটি সাদা মাইক্রোবাসে আসা ব্যক্তিরা ডিবি পরিচয়ে ঝন্টুকে গাড়িতে তোলে। ওই রাতে ঝন্টুকে তুলে নেওয়ার ঘটনা জানতে পারেননি। বাসায় না ফেরায় ভেবেছিলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে হয়তো কারও বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। পরদিন ওই দোকানি জানান, রাতে ঝন্টুকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। কিন্তু র‍্যাব, ডিবিসহ পুলিশের সব ইউনিট ঝন্টুকে আটকের কথা অস্বীকার করে। তাঁকে আদালতে তোলা হবে– এ আশায় কয়েকদিন আদালতে যান বাবা-মা। সেখানে না পেয়ে ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর দক্ষিণখান থানায় জিডি (নম্বর ৪৩৬) করেন হাসিনা বেগম। ১৩ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু পুলিশ কখনোই সহায়তা করেনি। উল্টো হয়রানি করেছে। শুধু ঝন্টু নন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুম হয়েছিলেন অন্তত ৬৭৭ জন। তাদের বাবা-মা, পরিবার-স্বজন প্রতিদিন প্রহর গোনেন কখন ফিরবে তাদের প্রিয়জন।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের হিসাবে, গত বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ ছিলেন অন্তত ১৫৩ জন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর তিনজন ফিরেছেন পাঁচ থেকে আট বছর নিখোঁজ থাকার পর। এ হিসাবে গুমের শিকার অন্তত দেড়শ জন এখনও নিখোঁজ।

আগে ফেরত আসা ব্যক্তিরা মুখ না খুললেও এখন জানাচ্ছেন শেখ হাসিনার আমলে কীভাবে ভিন্নমতের মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা অপেক্ষায় আছেন এখনও। নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে চলেছেন। এরই মধ্যে দেখা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার গুমের ঘটনা উদ্ঘাটন করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন করেছে। গতকাল সই করেছে জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে পালিত হবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। এ উপলক্ষে আজ মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে গুমের শিকার স্বজনের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।

মোকাদ্দেসকে কোথায় রেখেছিল, এটুকুই জানতে চান বাবা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দুই নেতা শাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ ও মোকাদ্দেস আলীকে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তুলে নিয়ে যায় র‍্যাবের পোশাক পরা এবং সাদা পোশাকধারী কয়েক ব্যক্তি। উচ্চ আদালতে রিটেও সন্ধান মেলেনি তাদের। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কোণঠাসা এবং অনেকটাই নিষিদ্ধ থাকায় গুম হওয়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর বিষয়টি খুব একটা আলোচনায় আসেনি।

পিরোজপুর সদরের মোকাদ্দেস পড়তেন তখন অনার্স শেষ বর্ষে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তাই ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সহপাঠী ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে ঢাকার গাবতলী থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে চড়েন। মোকাদ্দেসের বাবা আবদুল হালিম সমকালকে বলেছেন, গাড়ির নম্বর ছিল ৩৭৫০। বাসটি আশুলিয়ার নবীনগর পৌঁছানোর পর র‍্যাব গাড়ি থামার সংকেত দেয়। র‍্যাব সদস্যরা বাসে উঠে মোকাদ্দেস ও ওয়ালীউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। সুপারভাইজার আমাদের পরে জানান, একজন র‍্যাব সদস্যের বুকের নেমপ্লেটে লেখা ছিল ‌‘জামান’। গাড়িতে লেখা ছিল ‌‘র‍্যাব-৪’।

আবদুল হালিম বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের ২১ দিন কুষ্টিয়া ও ঢাকায় ছেলেকে খুঁজি। এর পর আশুলিয়া থানায় জিডি করি। হাইকোর্টে রিট করি। পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, ডিজিএফআইসহ ৯টি সরকারি সংস্থাকে সাত দিনের মধ্যে মোকাদ্দেস ও ওয়ালীউল্লাহর অবস্থান জানাতে আদালত নির্দেশ দেন। কিন্তু তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে গিয়ে এ আদেশ পাল্টে ফেলেন। কারণ, শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত ছিলেন এসব গুমে।

আবদুল হালিম বলেন, মোকাদ্দেসের মা আয়েশা সিদ্দীকা এখনও ছেলের জন্য পথ চেয়ে রয়েছেন। হয়তো তাঁর ছেলে আর নেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবদুল হালিমের আরজি– পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থার যেসব গোপন কারাগার ছিল, সেগুলো তাঁকে দেখতে দেওয়া হোক।

কেন এই আরজি– প্রশ্নে আবদুল হালিম বলেন, ‘আমি একটু দেখতে চাই, আমার ছেলেটাকে কোথায় রেখেছিল। আমার ছেলেটার সঙ্গে কী করেছিল।’

গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনে পুরোপুরি ভরসা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও যখন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ত, তখন বাড়িতে পুলিশ এসে খোঁজ নিত। জানতে চাইত, মোকাদ্দেসের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কিনা, ছেলেকে অপহরণ করতে পারে বলে কাউকে সন্দেহ করি কিনা। তারা সব জেনেও প্রশ্ন করে কষ্টটাকে আরও বাড়িয়ে তুলত। কমিশন যেন একই কাজ না করে। দীর্ঘ সময় না নিয়ে আমাদের প্রতি যেন ন্যায়বিচার করে। আমার ছেলেটার সঙ্গে আসলে কী হয়েছে, তা যেন জানায়।

সাহায্য না করে খারাপ আচরণ করেন ‘ডিবি হারুন’

২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবরোধ চলাকালে গাজীপুর থেকে নিখোঁজ হন ঢাকার পল্লবী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম। গ্রেপ্তার হতে পারেন শঙ্কায় নূর আলম সপরিবারে গাজীপুরে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম জানান, মধ্যরাতে সাদা মাইক্রোবাসে ১০ জন পোশাকধারী পুলিশ আসে। নূর আলমের বড় ভাই নুরুল ইসলাম দরজা খুলে দেন। তখন তিনি ও তাঁর স্বামী ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ ঘরে ঢুকে নূর আলমকে বিছানা থেকে টেনে দরজার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কোথায় নিচ্ছেন– জিজ্ঞেস করলে জয়দেবপুর থানায় যোগাযোগ করতে বলে।

রিনা বেগম জানান, পরদিন সকালে থানা থেকে বলা হয়, নূর আলম নামে কাউকে আটক করা হয়নি। পল্লবী থানাও একই উত্তর দেয়। না পেয়ে জয়দেবপুর থানায় জিডি করেন রিনা বেগম। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাও করেন। কিন্তু পুলিশ নিয়ে গেছে– এ কথা লিখতে পারেননি এজাহারে।

২০১৫ সালে গাজীপুরে এসপি ছিলেন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ। স্বামীর খোঁজে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন রিনা বেগম। কিন্তু সাহায্য না করে খারাপ আচরণ করেন হারুন। দুই বছর মামলা চলার পর পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে গুমের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

ব্যবস্থা না নিয়ে তাচ্ছিল্য করত সরকার

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ২০২২ সালের আগস্টে নিখোঁজ ৭৬ তালিকা দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকারকে। মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেত ঢাকা সফরে এসে এ তালিকা নিয়ে কথা বলেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে।

তখন সরকারের তরফ থেকে গুমের অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করা হয়। জানায়, ১০ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। বাকিদের মধ্যে ১০ জনকে খুঁজে পেতে পুলিশ সহযোগিতা করতে চাইলেও তাদের স্বজনের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। বাকি ৫৬ জন ‘পলাতক’। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, এই ব্যক্তিরা মামলার ভয়ে পালিয়ে রয়েছেন। আবার কখনও বলেন, তারা অবৈধ পথে বিদেশ যেতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরেছে।

যে ১০ জনকে খুঁজে পেতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে দাবি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের একজন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা মোকাদ্দেস আলী। তাঁর বাবা আবদুল হালিম বলেন, অবান্তর প্রশ্ন করা ছাড়া কিছুই করেনি পুলিশ।

এখনও কত নিখোঁজ

আওয়ামী লীগ সরকারের হিসাব ধরলে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬৩ জন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হয়েছেন ৬৭৭ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বলেন, এখনও ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা করা হবে।

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরুসহ অর্ধশত এখনও নিখোঁজ। ছাত্রদলের ১৯ নেতাকর্মী এবং ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতা এখনও নিখোঁজ। জামায়াতের চার নেতাকর্মীর দু’জন ফিরেছেন। নিখোঁজ সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়ছে, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৬২৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আসক। তাদের মধ্যে লাশ উদ্ধার হয়েছে ৭৮ জনের। ছেড়ে দেওয়া হয় ৫৯ জনকে। পরবর্তী সময়ে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকিদের সন্ধান মেলেনি।

আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করলেও গুমের অপরাধে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদ। ২০১৭ সালে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে চার মাস গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে তাঁর ওপর।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার ছেলে সৈয়দ সাদাত সমকালকে জানান, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এখন সরব মানবাধিকার কমিশন
শেখ হাসিনার আমলে গুম নিয়ে কিছু না বললেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সরব হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর জন্য দায়ী। শুনেছি নির্যাতনের জন্য ‘আয়নাঘর’ নামের বন্দিশালা ছিল। সেখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনী মানুষকে ধরে নিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখত। কিছু লোক বের হয়ে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের আর্তনাদ দেখেছি।

কামালউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে কমিশনের পক্ষ থেকে গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সদুত্তর দিতে পারেনি।

Feb2

তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 1:13 pm
তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়) বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:32 am
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই জোড়া ভূকম্পনের ফলে রাজধানী শহরের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে এবং আতঙ্কে হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস জানিয়েছে যে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পটির ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি তীব্র ভূকম্পন আঘাত হানে।

মার্কিন ভূবিজ্ঞানী বা ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে ভেনিজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দুর্যোগে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতলে মাটির তারল্য বা লিকুইফেকশন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী জানান যে কারাকাস ছাড়াও দেশের ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগূয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্য এই ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। উল্লেখ্য যে ১৯৬৭ সালে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে আঘাত হানা সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পেও এই দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছিল এবং সে সময় প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র একজন সাংবাদিকের পাঠানো ছবিতে কারাকাস শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং সতর্কতাস্বরূপ সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যে উৎপন্ন হয় যার গভীরতা ছিল মাটির নিচে ২১ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানা ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার জানান যে এটি তার জীবনের অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন ছিল এবং সাত তলার ফ্ল্যাটে থাকার সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে তার মনে হয়েছিল পুরো ভবনটি বুঝি তার গায়ের ওপর ভেঙে পড়বে।

ভূমিকম্পের এই ঘটনাটি ভেনিজুয়েলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা সিমন বলিভার কর্তৃক স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের বিজয়ের স্মরণে গতকাল দেশটিতে সাধারণ ছুটি ছিল। ফলে অন্য যেকোনো কর্মদিবসের তুলনায় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সপরিবারে নিজেদের ঘরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

এই চরম সংকটের মুহূর্তে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন যে এই চরম উদ্বেগের সময়ে তার অন্তর এবং প্রার্থনা ভেনিজুয়েলার প্রতিটি ব্যথিত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

 

গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:02 am
গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

চেক রিপাবলিককে উড়িয়ে দিলো মেক্সিকো। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশটি গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে। তিন গোলের সবগুলো দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েছে তারা। মেক্সিকো সিটিতে ৩-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।

চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।