খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাছান মাহমুদের ভাইয়ের দখলে থাকা ২০০ একর বনের জমি উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
হাছান মাহমুদের ভাইয়ের দখলে থাকা ২০০ একর বনের জমি উদ্ধার

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদের দখলে থাকা ২০০ একর বনভূমি উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ। ১৬ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই মহিষ পালনের নামে এই বনভূমি দখলে নেওয়া হয়। বড়ভাই ড. হাছান মাহমুদের পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন এরশাদ মাহমুদ।

২৬ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস গ্রাম, পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া রেঞ্জ ও খুরুশিয়া রেঞ্জে টানা অভিযানে এসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের পর থেকে বড় ভাই ড. হাছান মাহমুদের প্রভাব খাটিয়ে বন বিভাগের মালিকানাধীন একের পর এক পাহাড় থেকে শুরু করে জলাশয়, সমতল ভূমি সবকিছুই দখল করতে থাকেন এরশাদ মাহমুদ। যেখানে তিনি গড়ে তুলেন পর্যটন কেন্দ্র, বাংলো, বাগান, গয়াল ও গরুর খামারসহ নানা স্থাপনা। বিভিন্ন জলাশয় দখলে নিয়ে করেন মাছ চাষ। উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের খুরুশিয়া রেঞ্জের সুখবিলাস থেকে শুরু করে দুধপুকুরিয়া এবং অন্যদিকে পূর্ব খুরুশিয়া পর্যন্ত বনের ২০০ একর জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল গত ১৬ বছর।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, খুরুশিয়া রেঞ্জের কর্মীরা সম্প্রতি খুরুশিয়া বিট এলাকা থেকে একদিনেই ১০০ একর বনের জায়গা উদ্ধার করে। এই জায়গা মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করতেন এরশাদ মাহমুদ এবং পাশে বিশাল একটি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন। অভিযানকালে বনের ভেতর অবৈধভাবে তৈরি ঘর উচ্ছেদ করা হয় এবং পুকুরের পাড় কেটে পানিগুলো বের করে দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার (২৮ আগস্ট) পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া বিট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এরশাদের দখলে থাকা প্রায় ৩০ একর বনভূমি। সেখানে মালটা ও কাজু বাদামের বাগান গড়ে তোলা ছাড়াও পাহাড়ি ছড়ার পানি আটকে তৈরি করা হয় বিশাল পুকুর।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সুখবিলাস গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৫ একর বনভূমি। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের পাশে দশমাইল এলাকায় ৫ একর জমি দখল করে তিনটি পুকুর, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়।

তার আগে সোমবার (২৬ আগস্ট) দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস গ্রামে অবৈধভাবে দখল করে রাখা ৫৫ একর বনভূমি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ।

খুরুশিয়া রেঞ্জে এখনও এরশাদ মাহমুদের দখলে থাকা আরও অন্তত ২০ একর জমি উদ্ধারের বাকি আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Feb2

কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করলেন জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করলেন জুবাইদা রহমান

মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকায় ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে কড়াইল বস্তির আনসার ক্যাম্প মাঠে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ কর্মসূচি আয়োজন করে। এ ক্যাম্প থেকে স্থানীয়দের বিনামূল্যে ওষুধ ও শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। জুবাইদা রহমান কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ (জেডআরএফ) কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি নারীদের বিভিন্ন চিকিৎসা সমস্যা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে গুলি, অবশেষে মারা গেল ছোট্ট রেশমী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে গুলি, অবশেষে মারা গেল ছোট্ট রেশমী

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার (১১) শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানল। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় ছুটে আসা একটি গুলি লাগে রেশমীর বাঁ চোখে। গুলিটি চোখ মাথায় ঢুকে যায়। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেদিন রাতে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। এক মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্বভাবগতভাবে সে চঞ্চল ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরেই সময় কাটত তার। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেত না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু গুলিবর্ষণের কারণে সে আর দোকানে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। পরে তার সহযোগীরা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে আসে বলে জানা যায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই আহত হয় রেশমী।

ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি গাড়ির ভেতর থেকে। বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

চার ভাই হলেন— রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ার মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভাইদের মধ্যে দুজনের আগামীকাল শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হন। এর মধ্যেই পথে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, এতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রাতের দিকে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ওমানের স্থানীয় পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই ওমান প্রবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫ তারিখ (শুক্রবার) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকার ফলে এর এসি থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দুই ভাই একসাথে দেশে ফেরার আনন্দ নিয়ে শপিং করতে বের হলেও, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, তাদের দুই ভাই দেশে ফেরার কথা ছিল কিন্তু ফিরছেন লাশ হয়ে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ওই চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পর ওই চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় থাকা তাদের এক স্বজনকে ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে জানান, তারা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। যেখানে অবস্থান করছেন, সেই এলাকার লোকেশনও পাঠান। এর মধ্যেই রাতে মুলাদ্দাহ এলাকায় পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসা নিতেই ক্লিনিকটির সামনে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন চার ভাই। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।